দালালদের চাপেই কি বন্ধ হয়ে হয়েছে অন লাইনে রোড ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা?

এরাজ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি অন্যসব দুর্নীতিকে চাপা দিয়ে দিচ্ছে বোধ হয়। দুর্নীতি নেই এমন জায়গা এদেশে নেই। দেশের মধ্যে রাজ্য । তাই এখানেও চলার পথের নিত্যকার সঙ্গী দুর্নীতি। আমরা মানতেও অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। তাই হয়রান এড়াতে টু পাইসা দেওয়াতে এখন আর তেমন কিছু মনে হয় না অনেকেরই। তবে ইদানিং ইন্টারনেট বা অন লাইন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় একদিকে যেমন নাগরিকদের হয়রানি কমেছে কিছুটা তেমনই অল্প স্বল্প হলেও কমেছে সরকারি কাজে ‘খুচরো’ দুর্নীতি । তবে এই সুযোগ নিতে পারার সামর্থ্য( প্রযুক্তিগত শিক্ষা ও আর্থিক দিক থেকে) অবশ্য সকলের নেই। মধ্যবিত্তদের একটা বড় অংশ এখন অনলাইনে ক্রমশ অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন। সিনেমার টিকিট থেকে রেলের টিকিট, বিল পেমেন্ট থেকে ট্যাক্স আপনার হাতের মুঠোয়, এক ক্লিকেই। দালাল রাজের দাপট কিছুটা হলেও কমেছে এর ফলে। তাই দালালরাও আর চুপ করে বসে থাকতে পারে না। দালাল মানে সামনে যাদের আমরা দেখতে পাই তারা শুধু নয় গোটা প্রক্রিয়াটার সঙ্গে যুক্ত পর্দার পিছনে থাকা সরকারি কর্মী- অফিসারদের গোটা চক্রটা। যারা যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে তাদের প্রত্যেকের জন্যই একটা রফা করা আছে। টেবিল অনুযায়ী ফি।
রাজ্য সরকারের অধীন অনেক দফতরেই বিশেষ করে আবেদনপত্র, ট্যাক্স বা ফি নাগরিকদের কাছ থেকে জমা নেওয়া অন লাইনে চালু হয়েছে। সেরকমই চালু হয়েছিল অন লাইনে পরিবহণ দফতরে রোড ট্যাক্স দেওয়ার ব্যবস্থা। ২০১০ সালে চালু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে অবশ্য বন্ধ হয়ে যায় এই অন লাইন ব্যবস্থা । রাজ্য সরকারের পরিবহণ দফতরের অন লাইন পেমেন্টের ওয়েব পোর্টালে, বাহন. ডব্লুবি.নিক.ইন(vahan.wb.nic.in) , রোড ট্যাক্স দিতে গেলে ভেসে উঠবে Online Facility for Tax Payment has been Temporarily Withdrawn। লেখা রয়েছে ‘টেম্পোরারি’। কিন্তু বাস্তবে বন্ধ রয়েছে বেশ কয়েক বছর।
এখানেই শেষ নয়। মজার কথা হল শুধু পরিবহণ দফতরের নিজস্ব ওয়েব পোর্টালেই যে অন লাইনে রোড ট্যাক্স দেওয়া যাচ্ছে না তাই নয়। ব্যাঙ্কের মাধ্যমেও চালু করা হয়নি এই ব্যবস্থা। অথচ সরকারি ট্যাক্স বা ফি, যেমন কমার্শিয়াল ট্যাক্স অত্যাদি জমা নেওয়ার জন্য সরকারের সঙ্গে কয়েকটি ব্যাঙ্কের চুক্তি রয়েছে। ফলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের কর বা ফি নেওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক অনলাইন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। রাজ্য অর্থ দফতরের তৈরি একটি ব্যবস্থাও সংযুক্ত করা হয়েছে ব্যাঙ্কের ব্যবস্থার সঙ্গে। সেই অন লাইন ব্যবস্থায় রাজ্য সরকারের প্রায় সব দফতরেরই নাম রয়েছে। যেসব বিভাগের নাম রয়েছে তার বেশ কয়েকটার নামই অনেকেই শোনেননি। যেমন ডাইরেক্টরেট অফ বয়লারস। অথচ এখানেও পরিবহণ দফতরের কোন উল্লেখ নেই। অর্থ্যাত্ পরিবহণ দফতরে কোন ট্যাক্স বা ফি ব্যাঙ্কের মাধ্যমেও অন লাইনে জমা দেওয়ার কোন সুযোগ রাখাই হয়নি ।
আসলে অনেকেই বলছেন মোটর ভেহিকলস ডিপার্টমেন্টে দালাল রাজের দাপটের জন্যই অন লাইনে ট্যাক্স দেওয়ার পদ্ধতিতে চালু করেও করা যায়নি। পরিবহণ দফতরের বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি চললেও কোন সরকারই কিছুই করে উঠতে পারেনি। একটা ছোট গাড়ির রোড ট্যাক্স দিতে গেলে ১৫০০ -২০০০ টাকা দালালকে দিতে হয়। এর পর রয়েছে কমার্শিয়াল ভেহিকেল। বুঝতেই পারছেন দুর্নীতির অঙ্কটা নেহাতই কম নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *