ভোটেই শান্তি! শান্তির ভোট!

0
6

আবারও ভোট। জোট না ঘোঁট তা নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনা চলছে। দেখে মনে হচ্ছে দলগুলোর থেকে কোন একটি মিডিয়া হাউসই জোটে বেশি আগ্রহী। এর পিছনে কোন করপোরেট স্বার্থ আছে তা বলা মুশকিল। তবে ভোটে যে অর্থের ছড়াছড়ি হবে তা কোন গৌর সেন এমনি এমনি এমনি যে দেবে না তা নিশ্চিত। আর নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট করা খরচের মাত্রায় যে ভোট হয় না তা বোধ হয় সবাই বোঝেন। কিন্তু অনেকেই যেটা বোঝেন না তা হল ভোটের দিন শান্তি থাকলেই ভোট শান্তিপূর্ণ বলা যায় না। পাড়ায় বা গ্রামে সারা বছর ধরে যে চাপা সন্ত্রাস চলে সেটা কে অগ্রাহ্য করা কি যায়? রাজ্যুজুড়ে সাড়া বছর দুষ্কৃতীরা দাপাদাপি করল আর ভোটের দিন আধাসামরিক বাহিনী নামলেই সব শান্তি! প্রতিরোধ না হলে শান্তি এমনিতেই থাকে! দ্বিতীয়ত টাকা বিলি করে বা কোন প্রকার টোপ দিয়ে ভোট নেওয়া আইন বিরুদ্ধ। অথচ বিধবা ভাতা থেকে নানা সরকারি অনুদানের জন্য পাড়ার শাসকদলের দাদা বা কাউন্সিলরের পিছনে ঘুরতে হয় সমাজের একটা অংশকে। ডিজিটাল রেশন কার্ডে নাম তুলতে, বিপিএল তালিকাভুক্ত করতেও একই চিত্র।যা হোক এই ভোটের সময় পাড়ার রাস্তায় একটি পিচ হয়তো পড়ছে।পাড়ার দাদারা একটু হাসি মুখে মাসি মেসোমশাইদের খোঁজ নিচ্ছেন। কিন্তু ওই পর্যন্ত। ভোট ফুরোলেই সব ভোঁভাঁ। ভোট কি শুধু একটা দিনের বিষয় ? আমাদের দেশ বা রাজ্যটা কীভাবে চলবে তাতে নাগরিকদের কোন ভূমিকা আছে কি? কোন সরকার কখনও জানতে চেয়েছে স্কুলে ছাত্র বা শিক্ষকদের অসুবিধা কী? হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ঠিক কী অসুবিধা হচ্ছে? তৈরি করা রাস্তা কেন ভাঙা হচ্ছে অথচ অনেক অঞ্চলে এখনও রাস্তাই নেই কেন? সব সরকারই নিজের সার্টিফিকেট নিজেই দিয়ে দিচ্ছে। মত প্রকাশের অধিকার আছে ততক্ষণ যতক্ষণ শাসকরা চাইছেন বা অস্বস্তিতে পড়ছে না ,অন্যথায় হাজতে পুড়তে সময় লাগছে না। জনগণ এখানে নিমিত্ত মাত্র। ভোট দিলে, কোন একটা দল বা জোটের সরকার আসবে না দিলেও আসবে। শাসন পরিচালনার গুনের কোন পরিবর্তন হবে না। এত বছর হয়েছে কি?  মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বা মৌলিক অধিকার খাদ্য ,শিক্ষা ,স্বাস্থ্য বাসস্থান, রোজগার আজও অধরা। তাই ভোট আসছে, ভোট যাবে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হবে না।