জোটে নীতি! সোনার পাথরবাটি

0
2
 ক্ষমতার ক্ষীর বড় স্বাদু । সাড়ে তিনদশকী মসনদি মৌরসীপাট্টা খোয়ানোর ৫ বছরের মধ‍্যেই তাই দাও ফিরে সে সুদিন স্লোগানে দিন-রাত এক করে ফেলছে বামেরা । এমনকী সমমনস্ক এসইউসিআই এবং সিপিআইএমএল লিবারেশনের সঙ্গে জোটের বদলে তুলনায় শক্তপোক্ত কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার সূত্রও আবিষ্কার করে ফেলেছে আলিমুদ্দিন । এই ভোট-বেলায় অতএব বৃহত্তর বাম ঐক‍্য বাহুল‍্য তাদের  কাছে । তার চেয়ে ‘হাতে’ হাত রেখে পারানির কড়ি সংগ্রহেই ‘অধীর’ আগ্রহী তারা । কংগ্রেসও কীবা দিন কী বা রাত দশার জগদ্দল পাথর ভাঙতে হাতুড়িতেই আস্থা রাখছে । অনেকে বলছেন,তৃণমূলের ‘অপশাসন’ হঠাতে এই সমঝোতা জরুরি । তাঁদের ক্ষীণস্বাস্থ‍্য স্মৃতি হয়তো ইতিমধ‍্যেই বেবাক ভুলে গিয়েছে মরিচঝাঁপি থেকে নেতাই নন্দীগ্রামের প্রগতিশীল সুর্যোদয়ের কথা । কী কায়দায় গ্রামে-গঞ্জে-শহরে লোকাল কমিটির দখলদারি চালাত,তার ইতিহাস । আর পরিবর্তনের পরিবর্তন আনতে চেয়ে  তথাকথিত সমঝোতার এই শূন‍্যগর্ভ রাজনীতির ল‍্যাজা আর মুড়োর কাটাছেঁড়া করার কাজটা তাই গৌন হয়ে গিয়েছে । ৫ বছরেই তৃণমূল বুঝিয়ে দিয়েছে,হাম কিসিসে কম ‘বাম’ নেহি । সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়েই তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।  কোনও ‘বিশ্ব’জ্ঞানেই এই সত‍্যি মিথ‍্যে হয়ে যায় না । কিন্তু বামেরা কী করছে? একের পর এক ইস‍্যু মুঠোয় পেয়েও কিছু আনুষ্ঠানিক আন্দোলন আর প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবাদের বাইরে বেরোতই পারেনি তারা । সারদার মতো বড় ইস‍্যুতেও তাই গোটাকয়েক মিছিলেই আটকে থেকেছে । নারদার ‘স্টিং’ নিয়েও তাদের দৌড় ফোঁসেই সীমিত । ছোবলের দম নেই । দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নয়,হালফিল নিযেই তাদের যত হম্বিতম্বি । এমনিতেই একসময় সর্বশক্তিমান সংগঠন এখন নেহাতই নিমিত্তমাত্র চেহারা পেয়েছে । তার ওপর ক্রমাগত সমঝোতার সুবিধাসুখী রাজনীতি তাদের আরও বেহাল করছে । এই ভোটযুদ্ধে সমঝোতার আশু প্রতিক্রিয়ায় আসনসংখ‍্যা হয়তো কিছু বাড়বে । কিন্তু তৃণমূলকে সরানোর এই ফর্মুলা সেকেন্ড ইনিংসে কত রান পাবে,তা নিয়ে সন্দেহ থাকছেই ।