দুর্নীতি যখন স্বাভাবিক! নারদ নিয়ে চিন্তা কেন?

দেশের স্বঘোষিত সাংস্কৃতিক মসিহা বঙ্গভূমেও এবার কেলেঙ্কারির হুল । শাসকদলের একগুচ্ছ নেতামন্ত্রীর পারিতোষকগ্রহণ,নিন্দুকেরা যাকে বলে থাকেন ঘুঁষকাণ্ড,দেখে রীতিমতো হইহই রইরই চারিদিকে । যেন এমনটা এই প্রথম । ছিছি এত্তা জঞ্জাল বলে বিরোধীদের তর্জনগর্জন । চ‍্যানেল প্রধান হওয়ার সৌজন‍্যে জনৈক ‘সাংবাদিক’ প্রশাসনিক প্রধানের একান্ত সাক্ষাৎকারে এটা প্রমাণে ব‍্যস্ত,পুরোটাই ,ষড়যন্ত্র । ভোটের আগে বিরোধীদের ঘোঁট । তবে ভোট-ঘোঁট-জোটের এই ঘোলা জলে রাজনৈতিক তরজার ফাঁকেই কয়েকটা প্রশ্ন আদি এবং অকৃত্রিম চেহারা প্রাসঙ্গিক থেকেই যায় । কেলেঙ্কারি কি আগে এই রাজ‍্যে কম পড়িয়াছিল? উত্তরে স্মরণীয় প্রশান্ত শূর,যতীন চক্রবর্তী,মহম্মদ ইলিয়াস । তিন বাম নেতা এবং মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও কিন্তু আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল । ‘বাম’দের সাংগঠনিক দক্ষতায় এমন আরও অনেক রহস‍্য হয় তো শেষপর্যন্ত দলীয় ঘেরাটোপেই থেকে গিয়েছে । তৃণমূলের সঙ্গে বামেদের ফারাক এখানেই । ওদের জমানাতেও সিন্ডিকেট ছিল,এদের জমানাতেও আছে । ওদের জমানাতেও দলীয় দাদাগিরি ছিল । স্কুল-কলেজ থেকে পাড়ার মোড় কিংবা গেরস্থের অন্দরমহল,লোকাল কমিটির একচ্ছত্র আধিপত‍্য ছিল সর্বত্রগামী । এই জমানাতেও ভিন্ন পতাকায় একই রূপ বর্তমান । তবে দীর্ঘদিন কেকের ভাগ থেকে বঞ্চিতরা খেতে বসে এত তাড়াহুড়ো করেছে যে মাংসের হাড়টা গলায় আটকে গিয়েছে । তাতেই হেচকি । আগে যা নিঃশব্দে হত এখন তা সশব্দে শ্রাব‍্য । সারদা থেকে নারদার মুখরোচক গল্প আড্ডায় আলোচ‍্য,সোশ‍্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল । নেতাদের নিয়ে শহুরে-আধাশহুরে মধ‍্যবিত্তের রসালাপ । দুর্নীতি যে সমাজের শিকড় পর্যন্ত ছড়িয়ে গিয়েছে, তা যেন এখন সবার কাছেই স্বাভাবিক । কেলেঙ্কারি যদি সত‍্যিকারের কিছু হয়ে থাকে তা এটাই । কারণ বর্জনীয় যখন গ্রহণীয় হয়ে পড়ে তখন তা ভয়ের জন্ম দেয় । বঙ্গজীবনের অধুনা অঙ্গ এই ‘সহন’শীলতাই তাই চিন্তার কারণ ।