ভোটে হিংসা ও এদেশের গণতন্ত্র

এবারের বিধানসভা ভোটের চতুর্থ দিনে লাশ পড়ল। কোথাও ছাপ্পা ভোট, বিরোধীদলের এজেন্টকে মারধর, গুলি সবই ছিল এদিনের ভোটে। ঝামেলা বা গণ্ডগোল কিছুটা সেখানে সম্ভব যেখানে বিরোধীরা বিরোধিতা করার জন্য উপস্থিত থাকতে পেরেছে। বহু গ্রাম বা শহরাঞ্চলে এমন অনেক অঞ্চল রয়েছে যেখানে বিরোধীরা সাহস করে মাঠেই নামতে পারেনি। এটা নতুন নয়। বাম জমানাতেও এটাই হত। ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে রাজ্যে বলি হয়েছিলেন ১০৭জন। যে গণতন্ত্রে ভোটারদের কোন রকমের হুমকি বা ধমকি দেওয়া হয় সেটা কি আদৌ গণতন্ত্র বলে ব্যাখ্যা করা যায়! ইউরোপের কোন দেশে কখনও শোনা গেছে বুথে যাওয়ার আগেই ভোট পড়ে গেছে। রিগিং ? নৈব নৈব চ। সুতরাং আমাদের এদেশে ভোট মানেই মানি, মাসল পাওয়ারের দাপট। শুধু ভোটের দিন নয় । তা চলে সারা বছর। পাড়ায় পাড়ায় । আগে চলত সিপিএম পার্টি অফিসের মাধ্যমে।এখন চলে কাউন্সলিরদের মাধ্যমে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে এক একটা কাউন্সিলরের গত কয়েক বছরে আঙ্গুল ফুলে কোটি কোটি টাকার গাছ বেরিয়ে পড়েছে। মমতা একটা কথা ঠিকই বলেন বিজেপি কংগ্রেসকে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার জন্য শিল্পপতিরা আছেন। তাঁকে তো আর তারা দেয়না। তাই তাঁর ভরসা প্রোমোটিং, কয়লা- বালি, সিন্ডিকেট। তাই ভোটের দিন সন্ত্রাস হল কী না তা শুধুমাতত্র সমাজে গণতন্ত্র মাপা বোধ হয় সঠিক নয়। গণতন্ত্র বুঝতে হলে সমাজে নাগরিকদের কতটা গুরুত্ব, নেতাদের দায়বদ্ধতাই বা কতটা সেটাই দেখা দরকার। আর তা নাহলে ভোটকে যতই উত্সব বলে আমরা প্রচার করি সেটা ৫ বছরের জন্য করে খাওয়ার সরকারি লাইসেন্স ছাড়া কিছু হবে না।