ফেসবুক থেকেঃঢাকার ঘটনার দায় কি এড়াতে পারে বামপন্থাও!

0
4

কমবেশি ৫ দশক আগে আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ে যে-বিষবৃক্ষের বীজ পোঁতা হয়েছিল,একবিংশ শতাব্দীর গোড়াতেই সে বুঝিয়ে দিল,,এখন তার চেহারা মহীরূহর । সোভিয়েত আগ্রাসনকে উৎখাত করতে ওসামা বিন লাদেন নামক যে ‘দেশপ্রমিক’ যোদ্ধার জন্ম দিয়েছিল শ্বেতভবন,কালক্রমে তারই হাতে শুরু হল এক ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদের । কিন্তু গল্পটা শেষ হল না সেখানেই । বরং এক পুতুলকে মারতে অন‍্য আরেক পুতুলের আবির্ভাব ঘটতেই থাকল রাজনীতির আন্তর্জাতিক মঞ্চে । পশ্চিমমা হাওয়ায় ফুলেফলে বিকশিত হল কালশনিকভ,রকেট লঞ্চার আর আতঙ্কের আবাদভূমি । ক্ষেত্র বাড়ল । অনুন্নত সীমান্ত পেরিয়ে উন্নত ভূমিতেও গণহত‍্যার ছায়া লম্বা হল । কিন্তু কেন এমন হল? সন্ত্রাসবাদীরা এভাবে দখলদারি নিতে পারল কেন মনের,মননের? দায় কিন্তু এড়াতে পারে না বামপন্থীরাও । গত ৫ দশকের ইতিহাস দেখিয়েছে,বামপন্থা কীভাবে নানা যুক্তিতে মতাদর্শকে বাস্তববাদের ঘোলা জলে ভাসিয়ে দিয়েছে । ক্রুশ্চেভ,তোগিলিয়োত্তি থেকে দেং জিয়াও পিং,ক্ষমতার খেজুরে পেট ভরানোর দৌড়ে এই লাইনেই হেঁটেছে সরকারি মার্কসবাদীরা । একটা ভোটের পর আরেক ভোট, বামপন্থী প্রতিষ্ঠান আরও বেশি করে ঝুঁকেছে চালুচলতি হাওয়ার টানেই । ভিন্ন স্বরে আতকে উঠেছে । ভিন্ন ভাবনায় ভয় পেয়েছে সাজানো বাগান শুকিয়ে যাওয়ার । ফলে যা হবার তা-ই হয়েছে । বামপন্থা নামক সুবিধাসুখী পরনির্ভরশীল প্রজাতির সঙ্গে ফারাক থাকেনি বুর্জোয়া মতাদর্শের । অর্থনৈতিক সমস‍্যা যত বেড়েছে,সামাজিক বিভাজনও বেড়েছে সেভাবেই । পথের জায়গা দখল করেছে বিপথ । বামপন্থীরা যে এই অবস্থায় কতটা অসহায় এবং মতাদর্শগতভাবে নিঃস্ব,তা তো বোঝা যায় এদেশের প্রাতিষ্ঠানিক বামপন্থীদের দেখলেই । অবস্থানে নড়বড়ে, অধিকাংশ সময়ই দক্ষিণপন্থী কোনও-না-কোনও দলের লেজুরবৃত্তির অভ‍্যাসে আস্থাশীল । বামপন্থার ভাটায় দক্ষিণপন্থার জোয়ার আসে । এটা প্রতিষ্ঠিত সত‍্যি । তাদের ফাঁকা করে দেওয়া জায়গায় আসন পাকা করে নেয় ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক মৌলবাদীরা । একটা ক্রিয়ার ধাক্কায় অজস্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম হয় ।

শোভন চত্রবর্তীর ফেসবুক পেজ থেকে