বেড়ান অন্যভাবে

মধ্যবিত্ত বাঙালি বেড়াতে ভালবাসেন। দিঘা-পুরি-দার্জিলিংয়ের চেনা ছকের বাইরে যাঁরা বেড়াতে ভালবাসেন, প্রকৃতি যাঁদের টানে তাঁদের জন্য একটু অন্য রকম বেড়ানোর সুলুক সন্ধান হতে পারে সোনাকুপি বানজারা ক্যাম্প। ওঁদের একটা প্রচারপত্র আমাদের হাতে এসেছে। দাঁড়ি, কমা সহ তুলে দিলাম আপনাদের জন্য।

ইট-কাঠ পাথরের প্রাণহীন যান্ত্রিক জীবন থেকে বেরিয়ে এসে একটুখানি বসুন উন্মুক্ত আদিম প্রকৃতির প্রাঙ্গনে, তার নরম মমতাময় স্পর্শে জেগে উঠুক প্রাণশক্তি। কুকুবুরু পাহাড়ের উপরে জ্বলছে আকাশ। নীচে ‘সোনকুপি বানজারা ক্যাম্প’এ ঝিরিঝিরি ছায়ায় শালপলাশ জড়িয়ে নাচছে মাদল, শবর কৃষ্ণকলির ঘামের সাথে মিশে গাইছে রক্তস্পন্দন, শহুরে ফুরসত বেজে চলেছে মাতাল হয়ে।একি কল্পনা না বাস্তব!

কল্পনা আর বাস্তবের দোলাচলে দাঁড়ানো ভারতবর্ষের প্রান্তিক গ্রাম স্বপ্ন দেখে গরম ভাতের ধোঁয়া, সব্জির সহযোগ, ডালের আবদার। মানুষগুলোর বলিরেখার পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়েই আমাদের পথ চলা। আমাদের মানে সোনকুপি বানজারা ক্যাম্প; পৌঁছাতে চায় মানুষগুলোর শূন্যতার গভীরে। সমাজ-রাজনীতি অর্থনীতির থাবা থেকে রক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন সাধারণ সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখা- এ কথা সোনকুপি বানজারা ক্যাম্প মর্মে অনুভব করে।

চোখের সামনে বুক চিতিয়ে পাহারা দিচ্ছে কুকুবুরু। পাহাড় নেমে এসেছে পলাশ মহুয়া আর শালে ঘেরা সোনকুপি বানজারা ক্যাম্প। বরাভুম স্টেশন থেকে ছোট চারচাকায় সোনকুপির অন্দরমহলে পৌঁছানো যায় রোদ ওঠবার আগেই। পিচ রাস্তা ছেড়ে দামাল শালের পুরুষ্টু ডালপালা সরিয়ে শুকনো শাল পাতায় মচমচ করে পৌঁছাতে হয় ক্যাম্পে। ট্রেন জার্নির ধকল কাটাতে পারেন এয়ারকুলার সহ ক্যাম্পের বাঁশের খাটে অথবা মহুয়ার ছায়ায় টাঙানো হ্যামকের দোলুনির আবেশে। সেখানে বসেই পাবেন প্রাতঃরাশ এবং চা।

এবার বেরিয়ে পড়ার পালা। অযোধ্যা পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা তুরগা ঝরনা, বামনি ঝরনা, তারপানিয়া লেক, সীতাকুণ্ড এবং অযোধ্যা আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যামের উদ্দেশ্যে। নিছক চোখের ক্ষিদে মেটানো বা ইচ্ছেমতো মজে যেতে পারেন বামনি ঝরনার ঠাণ্ডা জলে অথবা বন্ধুদের সাথে মহুয়ার গন্ধে ম ম করা গাছের ছায়ায় নিখাদ আড্ডার মধ্যে বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দসই রসদ। খিদে জানান দেবে বেলা দ্বিপ্রহর। তখন ফের নেমে আসা ক্যাম্পে। স্থানীয় মানুষদের তৈরি সমবায় ততক্ষণে সাজিয়ে রেখেছে মধ্যাহ্নভোজের যাবতীয় আয়োজন।

ভোজ সারা হলে আবার বেরিয়ে পড়ুন চড়িদা গ্রাম, রাঙা গ্রামের উদ্দেশ্যে। শিল্পীদের আঙুলে সেখানে তখন ছৌ নাচের মুখোশ সেজে উঠছে রাম-রাবণ-গনেশের আদলে। রঙ রূপ রেখাকে বিদায় জানিয়ে এবার ক্যাম্পে ফেরার সময়। সবুজ গাছের আড়ালে ঝিকিমিকি আলো পথে ছড়িয়ে দিচ্ছে সোনালি রোমান্টিকতা। গাছের ফাঁকে ফাঁকে পাখিদের ঘরে ফেরার ডাক। ইতিউতি দু একটা ময়ূরের চলাচল সাঙ্গ করে বনপথে ফিরে আসা ক্যাম্পে। হ্যামকের দোলুনি ডাক দিচ্ছে সূর্যাস্তের অস্তরাগে মাখামাখি হতে। ওদিকে শবরদের রক্তে বেজে উঠছে মাদলের সুর। কাঁচা শালপাতার গন্ধ মাখা ঠোঙায় সন্ধ্যের খাবার খেতে খেতে ঝংকারে বেজে উঠলো মাদল, মেয়েদের কোমরের দোলুনিতে শুরু হল পাতা নাচ। পেলব চাঁদ যখন মাঝ আকাশ ছুঁই ছুঁই তখনও পাতা নাচের সমাপ্ত সুরের রেশ ছুঁয়ে থাকবে মন। শহুরে ব্যস্ততাকে চিরতরে মুছে ফেলার বাসনা নিয়ে একা জ্বলে থাকবে মোহময়ী চাঁদ সারারাত। ঘুমের দেশে যাওয়ার ডাক আপনি প্রত্যাখ্যান করবেন জেনেও এয়ারকুলারের সামনে বাঁশের খাটে নরম বিছানা অপেক্ষা করবে আপনার জন্য। যদিও সে জানে পুনরায় ফেরবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হওয়া অবধি আপনার চঞ্চল মনকে সে কিছুতেই স্বস্তির আরাম দিতে পারবে না…

 

উদ্যোগ         ‘বুগিয়াল’ ও ‘ছৌবুরু ট্যুরিজম’

ই-মেল           info@travelsbugial.com

মুঠোফোন        ৯২৩১৫৮১১৭৭(বরুণ)

৯৮৩০০৬৩৬৪৩(স্যান্ডি)

দেশের মধ্যে হোটেল বুক করতে ক্লিক করুন