সিঙ্গুর নিয়ে আদালতের রায় কি সত্যি ঐতিহাসিক!

0
11

বাম আমলে টাটাদের জন্য করা সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণ অবৈধ বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রায়কে ঐতিহাসিক বলা হচ্ছে। কিন্তু এই রায়ের ফলে কি বাস্তবে কৃষকদের থেকে জোর করে জমি কেড়ে নেওয়া বন্ধ হবে? ছত্তিশগড় সহ দেশের নানা রাজ্যে  কৃষকদের  বহু জমি জনস্বার্থ বা কোম্পানি স্বার্থে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে জমি অদিগ্রহণ করতে কৃষকদের আর কোন অনুমতি লাগবে না ।এই মর্মে গুজরাট ইতিমধ্যেই আইন পরিবর্তন করে  ফেলেছে। জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করতে গিয়ে অনেকে ক্ষেত্রেই কৃষকদের গুলির সামনেও পড়তে হয়েছে কৃষকদের। কয়েকদিন আগে ঝাড়খণ্ডের রামগড়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য চাষের জমি নষ্ট হওয়ার প্রতিবাদ করতে গিয়ে ২ জনকে পুলিসের গুলিতে মরতে হল।  জনশুনানির নামে প্রহসন হয়েছে বহু রাজ্যে। মারধর করে জনশুনানি থেকে কৃষকদের বের করেও দেওয়া হয়েছে অনেক জায়গায়। সেই সব ঘটনা হয়তো কলকাতার বা বড় শহরের কাছে নয় বলে আমরা তেমন একটা জানি না। তাছাড়া সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের ১০ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে।  যখন টাটারা কারখানা করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সেই সময় এই রায়ে টাটাদের কি আদৌ প্রভাবিত করে? উল্টে বরং টাটাদেরও একটা ব্যাক আউটের রাস্তা হল না? সরকারি কোষাগার থেকে জনগণের করের টাকায় কিছু ক্ষতিপূরণ আদায় হলে মন্দ হয় কী! তাই সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের রায় যেমনে সিঙ্গুরের কৃষকদের ক্ষেত্রে আপাতত ভাল হলেও  ক্ষেতমজুরদের ক্ষেত্রে তেমনটা কি?  অন্যদিকে বাস্তার থেকে প্রোজেক্ট গুটিয়ে নিয়েছে টাটারা, শালবনির খাস জমি কব্জায় রেখে কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছে জিন্দালরা। তাই কখনও কখনও জমি থেকে সরে যাওয়াটা শিল্পপতিদের কৌশলও বটে। তাই সিঙ্গুরের রায়কে নির্দিষ্টভাবেই বিচার করলে বোধহয় ভাল হবে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বড়ই করুণ!