৭০০ পাহাড়ের দেশঃ জানাচ্ছেন শোভন চক্রবর্তী

জনশতাব্দী এক্সপ্রেস হাওড়া যখন ছাড়ল,সকাল তখন ঠিক ৬:২৫ ।  প্রথমে ঢিমেতালে বেশ কিছুটা । তারপর গতি বাড়িয়ে পড়িমড়ি ছুট । তবুও বড়জামদা পৌঁছতে পৌনে একটা ।  দেরি আধঘণ্টা প্রায় । তারপর সেখান থেকে গাড়ি । পাকদণ্ডি পথ বেয়ে কিরিবুরু । ঘড়িতে তখন পৌনে ২টো । SAIL গেস্ট হাউজেই সেদিনের মধ‍্যাহ্নভোজ । কিরিবুরু অনেকটাই বিচ্ছিন্ন দ্বীপ । তাই রান্নার সব সরঞ্জাম নিয়েই ঢুকতে হবে সেখানকার অরণ‍্য নিবাসে । সেদিন ছিল হাটবার । তাই সেখান থেকেই কেনাকাটা করা হল সব । চাল,ডাল,নুন,মশলা। যাবতীয় যা কিছু । রাতটা ওখানেই । বিকেল ফুরতেই আশপাশ নিঃশব্দ । সন্ধ‍্যা যেন মধ‍্যরাত । পরদিন ভোরে রওনা থলকোবাদের উদ্দেশে । প্রথমে পড়ল কিরিবুরু,মেঘাতাবুরুর খনিভূমি । মাটি- আকাশ পুরোটাই লাল রঙে গোলা যেন । সেসব পেরোলেই শুরু ঠাসবুনোট জঙ্গল । কোথাও শুধু গাড়ি যাওয়ার রাস্তাটুকুই আছে । পথেই পড়ল পুন্ডুল লেক । প্রাক- শীতে স্রোত নেই । তবু অসম্ভব সু‍্ন্দর । সেখানে কিছুক্ষণের দাঁড়ানো । তারপর ফের থলকোবাদ । পথে বারবার আধাসেনার জিজ্ঞাসাবাদ অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মতোই নাছোড় সঙ্গী । থলকোবাদ একেবারেই বাহির জগত থেকে বিচ্ছিন্ন । খাবারের সরঞ্জাম এখানেও তাই আগেই নিয়ে যেতে হয় । থলকোবাদ থেকে আরও গভীূর জঙ্গলে একটি নজরমিনারে তারপর । এই জায়গা আরও দুর্গম । বন‍্য । তাই আকর্ষণও অনেক বেশি । নজরমিনারের কিছুটা দূরেই পাহাড়ের আরেকটু ওপরে থাকে পরপর বেশকয়েকটি গুহা । তবে সেখানে যাওয়ার আগে সতর্ক থাকাই সমীচীন । থলকোবাদ থেকে এবার ফেরা কিরিবুরু । পরদিন BACK TO KOLKATA ।

ঠাঁইঠিকানা—— কিরিবুরু-থলকোবাদের বনঘর (FOREST REST HOUSE )

যোগাযোগ—— নকুড় জেনা (9431950402 ) সারান্ডার বন দফতর এই বুকিং করে ।

খুচরো শলা—— সঙ্গে শুকনো খাবার,জল,ওষুধ, টর্চ,দেশলাই,মোমবাতি রাখতে হবে । ডিসেম্বর,জানুয়ারিতে শীতপোশাক একটু বেশিই লাগবে । তবে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, শহুরে অভ‍্যাস ঝেড়ে ফেলে বুনো পথে ঘোরার ইচ্ছে এবং আগ্রহ । তাহলে কিরিবুরু মন জিতে নেবে । নেবেই ।