রাজনীতিহীনতার রাজনীতি

দেশ জুড়ে আর্থিক সার্জিকাল স্ট্রাইকের জেরে এক তুমুল সমস্যা তৈরি হয়েছে।ছোট ব্যবসা বন্ধ,কৃষক তার ফসল কেনা বেচা করতে পারছে না।খুচরো ব্যবসায় লেন দেন ক্রমেই কমছে,সাধারণ মানুষ ব্যতিব্যস্ত,প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিচ্ছেন একটু সমস্যা মেনে নিলে অচিরে দেশের নাকি ভাল হবে।এই সিদ্ধান্তের ফলে নাকি এ দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমান্তরাল যে কাল অর্থনৈতিক কারবার গড়ে উঠেছিল তাকে চরম ধাক্কা দেওয়া সম্ভব হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী ও তার সহচররা যে আশ্বাস শোনাচ্ছেন তাতে শক্ত কোন যুক্তি নেই,এই কদিনে যে গরীব মানুষগুলো সরকারি সিদ্ধান্তের ফলে সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেন তাদের কথা কেউ শুনবেন না,কেউ জানতে চাইবেন না দিন আনা মানুষগুলো এই কদিনেই দিনের গহ্বরেই হারিয়ে গেলেন কী না। আমাদের দেশের নেতারা জানেন এ দেশের অধিকাংশ মানুষই ‘অরাজনৈতিক’,দীর্ঘদিনের প্রচার ও প্রয়াসে মানুষকে রাজনীতিহীন করে তোলা গেছে,আর সেই কারণেই মানুষ কোন বিষয়কে সামাজিক তাত্পর্যের অনুসঙ্গে ভাবার ক্ষমতা হারিয়েছে। যুক্তির আলোয় যে কোন ঘটনার মুল্যায়ন করাটা ভুলে গেছে,মানুষের এই রাজনীতিহীনতাই এ দেশের রাজনীতিকদের বড় হাতিয়ার।দেশ জুড়ে সাধারণ মানুষের এত দুর্ভোগ সত্ত্বেও মানুষ যে সব মেনে নিচ্ছেন তার কারণ ঘটনা পর্যালোচনা ও মুল্যায়ন করার তাগিদ ও ক্ষমতা সবই হারিয়েছে মানুষ,নরেন্দ্র মোদিরা মানুষের এই অক্ষমতা এবং রাজনীতিহীনতাকে সযত্নে লালন পালন করেন।মমতা,জয়ললিতা,থেকে মায়াবতিরাও একই রাজনীতিহীনতার কারবারী,আজ বিপাকে পড়ে মমতা যতোই মানুষের সমস্যার কথা বলুন না কেন রাজনীতিহীনতার রাজনীতির সবচেয়ে বড় খেলোয়ার তিনি তা কে না জানে। রাজনীতি মানে নিছক কোন দল নয়,রাজনীতি মানে গভীর সমাজবোধ,সমাজ সম্পর্কে সম্যক ধারনা,দলতন্ত্রের বাইরে নাগরিকতার পরিসরে এই ভাবনার আওতায় সাধারণ মানুষকে যতদিন না আনা যাচ্ছে ততদিন রাজনীতিহীনতার শিকার মানুষকে হতেই হবে। ততদিন নরেন্দ্র মোদিদের অর্থনৈতিক সার্জিকাল স্ট্রাইকের জেরে কত গরীব মানুষ ভেসে গেল তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না।

,