এক নদীখাতের কথা

                                   এক নদীখাতের কথাঃজানাচ্ছেন শোভন চক্রবর্তী

দূর তেমন কতটুকুই বা । এই তো কলকাতার কাছেই । ১৭৮ কিলোমিটার মতো দূরত্ব ।  গাড়িতে ঘণ্টা ছয়েক বড়জোর । পথচলতি কোনও ধাবায় কিছুক্ষণের জিরেন সমেত । ঘর ছেড়েছিলাম এক শীতভোরে । ঘড়িতে তখন ৫:৩০ । তারপর বিদ‍্যাসাগর সেতু পেরিয়ে একসময় কলকাতার সঙ্গত‍্যাগ । গাড়ি ছুটল দিল্লি রোড ধরে সটানসোজা । কোলাঘাট পেরিয়ে একটি ধাবায় সকালের পেটপূর্তি । তারপর ফের রওনা । গড়বেতা পৌঁছলাম যখন,তখন ১১:৩০ প্রায় । আগে থেকেই ঘর বুক করা ছিল । হোটেল আপ‍্যায়ন (৮৩৪৮৬৯৪৮০০ ) । পৌঁছে কিছুক্ষণের বিশ্রাম । আপ‍্যায়নের আতিথ‍্যে আশ্রয় থাকলেও অন্নব‍্যবস্থা ছিল না । তো খাবারের খোঁজে বেরোতে হল অতঃপর । মধ‍্যাহ্নভোজ সেরে ফের ফেরা আপ‍্যায়নে । বিকেলে বেরিয়ে সোজা গনগনি । আহ অপূর্ব । শিলাবতী নদীর গা ঘেষেঁ তৈরি এক খাত-মালা । কোথাও গুহার মতো,কোথাও বা কারও মুখ যেন । পুরো নদীখাত জুড়ে এমন নানা বয়নবিন‍্যাস । শিলাবতীর স্রোত আর হাওয়ার যুগলবন্দিতে তৈরি ।  সূর্য পাটে যাওয়ার সময় কনে দেখা আলোয় একটুকরো জাদুবাস্তবতার ছবি । গনগনিকে বলা হয় GRAND CANYON OF BENGAL । যথাযোগ‍্য শিরোপা । গনগনি থেকে পরের দিন বাঁকুড়ার জয়পুর জঙ্গল । সে গল্প আরেক দিন । আপাতত গনগনির কথাই বালা যাক । শীতকালে সপ্তাহশেষের ছোট ছুটিতে বেশ ভাল বাজেটভ্রমণ । গনগনিতে সকাল-সন্ধ‍্যায় সূর্যলোকের খেলা তো এককথায় অসাধারণ । তবে গরমকালে গনগনি নৈব নৈব চ ।