দূরপাহাড়ির ঘুরপথে শোভন চক্রবর্তী

                                       

ট্রেনটা যখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নামিয়ে দিল আমাদের,তখন সকাল ৮টা প্রায় ।স্টেশন থেকে বেরিয়ে এককাপ চা,হাল্কা জলখাবার । ততক্ষণে গাড়ি নিয়ে হাজির রাজু থাপা । মুখে একগাল হাসি । গন্তব‍্য সিলেরি গাঁও । পৌঁছলাম দুপুর আড়াইটে প্রায় । পেটে তখন ছুঁচোর কীর্তন পুরোদমে । যেতেই হোম স্টের দিলীপ তামাংয়ের সপরিবার উষ্ণ অভ‍্যর্থনা । কিছুক্ষণের মধ‍্যেই উষ্ণতর মধ‍্যাহ্নভোজ । খেয়ে উঠতেই উঠতেই বিকেল গড়িয়ে সন্ধ‍্যার চৌকাঠ । অতঃপর ঘরেই আড্ডা । পরদিন ভোরে হাঁটতে হাঁটতে রামিতি ভিউ পয়েন্ট । তিস্তা-রঙ্গিতের কাটাকুটি খেলা দেখা পাহাড়ের মাথা থেকে । অসাধারণ দৃশ‍্য । ফিরে ব্রেকফাস্ট । তারপর আবার হাঁটা । এবার ডামসাম দূর্গ । সে এক আলো- আঁধারির খেলা পথ । ঘণ্টাকয়েকের যাতায়াত । পরদিন রেসিখোলা । সেবাস্টিয়ান প্রধানের আতিথ‍্য । ১দিন থেকে পরদিন জুলুক । গোপাল প্রধানের হোম স্টে । সত‍্যিই বিভুঁইয়ে নিজের ঘর যেন । জুলুক থেকেই পরদিন যাওয়া পাহাড়পথের ঘুরপথে । নাথাং ভ‍্যালি,বাবা মন্দির,লুংথুং,এলিফ‍্যান্টা লেক,কুপুপ লেক । ছবির দেশ । ছবির মতো দেশ । বরফে ঢাকা আশপাশ । কনকনে ঠান্ডা । মাঝেমধ‍্যেই এদিক ওদিক ইয়াকের সঙ্গে সাক্ষাৎ । আর পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে হাসিবিনিময় । কোথাও কথা,এক কাপ চা । এক প্লেট মোমো । দিনভর চরকিপাক । আর অবাকমুগ্ধতায় রং,রূপ,রেখার বর্ণমালায় ডুবে যাওয়া । রাত্রিবাস জুলুকে গোপাল প্রধানের ঘরনিবাসেই । তারপর দিন ফেরা । সেই নিউজলপাইগুড়ি । ট্রেনে করে আবারও কলকাতা ।

হোটেল বুক করতে ক্লিক করুন।

ঠাঁইঠিকানা——

সিলেরি গাঁও—— দিলীপ তামাং——৯৬৩৫০০৫৩১৮

জুলুক—— গোপাল প্রধান——৯৬০৯৮৬০২৬৬

খুচরো শলা—— বর্ষা বাদে বছরভর ভালো । তবে শীতের মজা আলাদা । বরফে পাহাড় অপরূপ । গরমপোশাক কিন্তু MUST । ঠান্ডায় ক‍্যামেরার ব‍্যাটারি বিগড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে । তাই একটু সাবধান ।

তাহলে আর কী।  বেরিয়ে পড়লেই হয় ।