গল্পঃ বউ কথা কও – অনুপম কাঞ্জিলাল

ঘুমটা ভেঙে গেল, না কোনও দুঃস্বপ্ন দেখে নয়। ফোনের আওয়াজ। রাতে মোবাইলের সুইচ অফ্ করে দিলেও ল্যান্ড ফোনটা নামিয়ে রাখার কথা কখনও ভাবেনি। আসলে রাতে ফোন বেজে উঠে ঘুম ভাঙিয়ে দিতে পারে এমন আশঙ্কা কখনো মাথায় আসেনি। মন্দের ভাল সবিতার ঘুম ভাঙেনি। তাড়াতাড়ি উঠে ফোন ধরে ওপারের কন্ঠ শুনি, তমাল বলছো?  বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে বলি – হ্যাঁ, কিন্তু আপনি, এত রাতে কে কথা বলছেন?

তমাল, আমি পিউ। পিউ।

আমার পায়ের তলার মাটি যেন কেঁপে উঠল। পিউ মানে আমার কলেজ জীবনের পিউ… যার জন্য এক সময় আমি জীবন বাজি রাখতে রাজি ছিলাম। তাকে না পেয়ে এক সময় আমার মনে হয়েছিল, জীবনের আর কোনও রং নেই। সবটাই কালো। সেই পিউ আজ এতো দিন পর এত রাতে ফোন করছে। আমার নিস্তব্ধতা ভেঙে দিয়ে পিউ বলে ওঠে, ভাবছো এতদিন পর এত রাতে কেন ফোন করছি। আসলে তোমাকে আমার খুব দরকার। মনে আছে শেষ যেদিন দেখা হয়েছিল বলেছিলাম যদি কোনো দিন তোমাকে প্রয়োজন হয় ডাকবো। তুমি কিন্তু সেদিন ভাঙা মন নিয়েও কথা দিয়েছিলে আমি ডাকলে আসবে। আসবে তো, একবার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব?

কী জবাব দেবো বুঝতে পারছি না। আমায় চুপ থাকতে দেখে পিউ বলে, তাহলে ঠিক আছে, তুমি বোধহয় সেই কথা দেওয়ার ব্যাপারটা আর মনে করতে পারছো না। যদিও অনেকদিন পর তোমাকে একটু বিরক্ত করলাম। তোমার বউ মেয়ে ভালো আছে তো? আর তুমি? ভাল থেকো কেমন, রাখি।

এতক্ষণে যেন আমার ঘোর ভাঙল। বললাম, না, না, তুমি বলো কোথায় যেতে হবে। তোমার বাড়ির ঠিকানা কী, কী দরকার যার জন্য তুমি এত রাতে ফোন করেছো। কোনও বড় বিপদ ঘটেনি তো?

এতোগুলো প্রশ্নের উত্তর একসাথে দিতে গিয়ে একটু চাপা হাসি হাসল পিউ। তারপর বলল, তোমার বোধহয় মনে নেই, আমি এই জেলার দাপুটে এসপি-র বউ। বাইরের কোনও বিপদ-আপদ ভুল করেও আমার ঘরের চৌহিদ্দি মাড়ায় না। বিপদটা আসলে ভিতর থেকে আসে। সেই বিপদের সামনে এতদিন পর আমি প্রতিরোধের দরজা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি, তমাল। কীভাবে দাঁড়িয়েছি জানাতেই তোমাকে এতদিন পর আমার দরকার। তবে দেরি করো না। দেরি হলে, তোমাকে আমার এই প্রতিরোধের গল্পটা আমি আর বলতে পারব না, তমাল। লক্ষ্মীটি একবার শুধু একবারের জন্য একটু তাড়াতাড়ি এসো।

পিউ-র এমন কাতর আমন্ত্রণে বুকের ভিতরটা কেমন যেন হাহাকার করে ওঠে। বলি, আমি আসছি পিউ, শুধু ঠিকানাটা বলো। ঠিকানা বলার সঙ্গে সঙ্গে পিউ জানিয়ে দেয়, এসপি-র বাংলো সবাই দেখিয়ে দেবে। বাইরে এসে আমার নম্বরে ফোন করো। আমি দারোয়ানকে বলে দিলে সে দরজা খুলে দেবে। ফোন নম্বর, ঠিকানা লিখে আমি বাথরুমে যাই। আমার সমস্ত চেতনা জুড়ে পুরনো দিনের ছায়া…পিউ দারুণ সু্ন্দরী, বনেদি বাড়ির মেয়ে কিন্তু বড্ড নরম, বড্ড ভিতু। আমি তখন কলেজের ব্যস্ত রাজনীতিক। সমস্ত সমাজ দুনিয়া পাল্টানোর স্লোগানে দু’বেলা  মুখরিত হই। সেই সময়েই আলাপ পিউ-এর সঙ্গে। মেয়েদের স্বতন্ত্র স্বাধীনতা নিয়ে কথা বললে ও কেমন তন্ময় হয়ে শুনতো। আসলে বোধহয় বড়লোক বাড়ির শিকল-বাধাঁ জীবন ওকে ভিতরে ভিতরে অসহিষ্ণু করে তুলেছিল। ওর সঙ্গে আলাপ গভীর হলে, ওই একদিন বলেছিল, ওর মা ওর বাবার অত্যাচারে আত্মহত্যা করেছে। বজ্র কঠিন এক শাসনের গণ্ডি অতিক্রমের আনন্দেই ও বোধহয় আমার কাছে ছুটে আসতো। আমি ওকে সাহস দিতাম, বলতাম মেয়েরাও মানুষ। মাপে মনে মাত্রায় পুরুষের মতো সমান মানুষ, সেটা প্রমাণ করতে হবে তোমাকে। এভাবেই সম্পর্ক, তারপর প্রেম। তারও কিছু পরে পিউ-কে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন। রং ঝলমলে সেই সময় একদিন দমকা ঝড়ের কালো মেঘ হয়ে এল পিউয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে যাওয়ার খবর। ও প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ কিছুই করতে পারেনি। ওর বাড়িতে খবর পৌঁছেছিল, আমার মতো একটা চালচুলোহীন ছেলের সঙ্গে পিউ ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। তাই চটজলদি দাপুটে এক আইপিএস পাত্রের সঙ্গে ওর বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। আমি উদভ্রান্তের মতো চেষ্টা করেছি কিন্তু কোনও যোগাযোগ করতে পারিনি। এক বন্ধুর কাছে পিউ খবর পাঠিয়েছিল, আমি যেন ওকে ভুলে যাই। ভুলে গিয়ে ভালো থাকি। ভুলে যাও, বললেই কি ভুলে যাওয়া যায়। উফ কী যন্ত্রণায় সেই দিনগুলি কেটেছে। তারপর বিয়ের কিছুদিন আগে পিউ একদিন কোনও রকমে আমার সঙ্গে দেখা করে। আমি বলেছিলাম, চলো আমরা কোথাও চলে যাই। কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না। কিন্তু ও আগাগোড়া বাড়ির অনুশাসন মানা ভিতু মানুষ। ও ভয় পেয়েছে। পারবে না, বলে অক্ষমতা জানিয়েছে। আমি ওর উপর জোর খাটাইনি। জানতে চেয়েছি, তবে এলে কেন? ও বলেছিল, এটুকু বলতে তুমি আমাকে ভুলে যাও। কিন্তু আমি তোমাকে ভুলবো না, আমি সুখে থাকবো না কোনওদিন। আমার রাগ হয়েছিল, বলেছিলাম সিনেমার ডায়লগ বলছো তুমি। একটা কাজ করো, আমার সঙ্গে কোনওদিন আর যোগাযোগ রেখো না।

আমি তখন পিউকে রেখে নিজের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। পিউ তাড়াতাড়ি আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেছিল, কথা দিলাম তোমার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখবো না। কিন্তু যদি কোনওদিন খুব বিপদে কখনও ডাকি আসবে বলো। অন্তত একবারের জন্য। আসবে তো, বলো না তমাল, আসবে তো? ওর কান্না ভেজা সেই কাতর আবেদনে বলেছিলাম, বেশ তেমন হলে ডেকো, আসবো। এতদিন পর সেই ডাক এল, কিন্তু পিউ আমার বাড়ির ফোন নম্বর পেল কীভাবে? আর ও আমার মেয়ে-বউয়ের কথা জানতে চাইল। কী করে জানল? তাহলে ও কি আমার সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখে? কার থেকে পায় এসব খবর? হতে পারে কলেজের পুরনো কোনও বন্ধুর থেকে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমার মধ্যে কেমন যেন একটা অস্থিরতা শুরু হয়েছে। ঘড়িতে প্রায় চারটে বাজে, সবিতা-মলি অকারতে ঘুমোচ্ছে। আমি বাইরের ঘরে এসে তাড়াতাড়ি জামা-প্যান্ট পরি, একটু ভোর হতে রাস্তায় ট্যাক্সি পাবো নিশ্চয়ই। জামা-প্যান্ট পরে সবিতাকে ডাকলাম। ও ঘুম জড়ানো গলায় জিজ্ঞাসা করল, এত ভোরে কোথায় যাচ্ছো? বললাম এক বন্ধুর বাড়িতে। মনে হয় ও কোনও বিপদে পড়েছে। চিন্তা করো না, ফিরে আসব। সবিতা ধড়ফড় করে উঠে বসল, হ্যাঁ গো, কোনও বড় বিপদ নয় তো? একটু চা খেয়ে যাবে?

আমি শান্ত ভাবে বলি না, না চায়ের দরকার নেই। ট্যাক্সি নিয়ে যাব আর চলে আসব। তুমি বরং দরজাটা বন্ধ করে দাও। মলিকে বরং আজ স্কুলে পাঠিও না। সবিতা আমার পিছনে পিছনে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে আসে, দেরি হলে ফোন করো চিন্তায় থাকব।

ঠিক আছে, বলে রাস্তার দিকে পা বাড়ালাম। ট্যাক্সিতে বসে ভাবছিলাম, এখন কেমন দেখতে হয়েছে পিউ-কে। কী হয়েছে ওর যাতে এত রাতে ফোন করে ও আমাকে আসতে বলল। কী বলবে বলে ডাকল এতদিন পর। ভাবনার এক স্রোত থেকে আরেক স্রোতে আমি ক্রমশ হারিয়ে যেতে থাকলাম। ঘোর ভাঙল ট্যাক্সিওয়ালার কথায়, বাবু এটাই জেলার এসপি সাহেবের বাংলো। ভোরের ফাঁকা রাস্তা দিয়ে ট্যাক্সিটা বড় তাড়াতাড়ি চলে এলো। দেখলাম বিশাল বাংলো, গেট বন্ধ। বড় গেটের সামনে পুলিশ পাহারা। একজন জিজ্ঞাসা করল কোথায় যাবেন? পিউ-র কথা অনুযায়ী বললাম, আমি এসপি সাহেবের আত্মীয়। ওনার সঙ্গে দেখা করব। গেট থেকে ঘরের মধ্যে ফোন গেল। কিছুক্ষণ পর এক পুলিশ পাহারাদার বলল, সাহেব ঘুমাচ্ছেন, মেম সাহেব আপনাকে ভিতরে যেতে বললেন। ঘরের কলিং বেল বাজাতে হয়নি, পিউ-ই দরজা খুলে দিল। আমি দেখলাম পিউকে। বয়েসের ছাপ পড়েছে চেহারায়।

কিন্তু এখনও সুন্দর, শুধু চোখে মুখে বড় ক্লান্তির চিহ্ন। বললাম, কেমন আছো? কী দরকারে ডাকলে বলো।

পিউ বলল, ‘এখন’ তো ভালোই আছি। আর একটু থেমে ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত রহস্যময়ী হাসির চিহ্ন তুলে পিউ বলে, ‘তমাল অনেকদিন আগে তুমি আমাকে সব ছেড়ে তোমার সঙ্গে চলে আসতে বলেছিলে’ না। এখন যদি যেতে চাই সব ছেড়ে তোমার সঙ্গে নেবে?

আমার অস্বস্তি হয়, বলি, পিউ আমি কিন্তু অনেক দরকারি কাজ ছেড়ে এসেছি।

সামলে নিয়ে পিউ বলে, জানি গো জানি, তুমি তোমার সুন্দরী বউ-মেয়ে-সংসার নিয়ে এখন সুখী। ভয় নেই বাপু, ঠাট্টা করছিলাম। দরকারি কথা বলছি। তার আগে তোমাকে একটু চা খাওয়াই, বলে পিউ কিচেনের দিকে এগিয়ে যায়। সেখান থেকেই গলা চড়িয়ে বলতে থাকে, আমি কিন্তু তোমার খবর রাখি একজনের মারফত। সেটা তোমাকে বলব না।

আমার অস্বস্তি বাড়তে থাকে। চা খেতে খেতে বলি, তোমার কী প্রতিবাদের গল্প বলবে বলেছিলে ফোনে।

হ্যাঁ, তার জন্যই তো তোমাকে ডাকা তমাল। তুমি তো জানো আমার মা অত্যাচার সয়ে সয়ে আত্মহত্যা করেছিল। আমি আমার মায়ের অত্যাচারিতা হওয়ার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারিনি। বাড়ি থেকে যখন আমার কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিল, তখনও আমি কোনও প্রতিবাদ করতে পারিনি। তোমাকে ভালোবেসেছিলাম সে কথাও বলতে পারিনি বাড়িতে, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়েটা আমি মেনে নিয়েছিলাম। এভাবে বাঁচতে গিয়ে আমার নিজের আর কিছু ছিল না তমাল। এমনকী আমার মেয়েটাকেও আমি নিজের কাছে রাখতে পারিনি। কারণ আমার স্বামী চেয়েছে ও বোর্ডিংয়ে থাকুক। তমাল, আমার স্বামী লম্পট, ঘুষখোর, অত্যাচারী। অত্যাচারের নমুনাগুলো একবার দেখবে। বলেই পিঠের ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে দেখায়। বুঝতে পারি মোটা লাঠি দিয়ে পেটানোর দাগ। অঝোরে কাঁদতে থাকে পিউ। আমি ওকে কোনও সান্ত্বনার কথা শোনাতে পারি না। একটু সামলে আবার বলতে থাকে, এত বছর পর আমি প্রতিবাদ করেছি তমাল। গতকাল রাতে খাবারের সঙ্গে বিষ দিয়ে আমার দাপুটে পুলিশ স্বামীকে আমি খুন করেছি।

আমি চমকে উঠে বলি, কী বলছো তুমি!

পিউ হ্যাঁ বলে, আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় বেডরুমের দিকে। আমি দেখি একটা মোটা চেহারার কালো মানুষ নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে মেঝের উপর। আমার নিঃশ্বাস যেন গলার কাছে আটকে গিয়েছে। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

পিউ বলল, ভেবো না আমি সব ঠিক করে রেখেছি। তুমিই পুলিশে ফোন করবে।

বললাম, তুমি বুঝতে পারছো, পুলিশ তোমাকে কী করবে?

শান্ত গলায় ও বলল, ফাঁসি হবে তো? হোক না, আমি কি কোনওদিনই বেঁচেছিলাম তমাল?

এই প্রথম আমার দু’চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

পিউ আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দেখলে তো আমার জন্য চোখের জল ফেলার এখনও কেউ আছে।

আমি পিউয়ের কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়ে বললাম এখন কী হবে?

শান্ত গলায় পিউ বলল, ও দাঁড়াও না তোমাকে একটু দেখি. কতদিন পরে দেখা বলো তো।

বললাম, তোমার কী হবে বুঝতে পারছ না।

পিউ বলল, তুমি পুলিশকে ফোন করবে। আমি সব বলব। তোমার একটু হ্যাপা হবে জেনেও তোমাকে ডেকেছি এই জন্য, তোমাকে একবার দেখবো। আর আমার মেয়ে বোর্ডিংয়ে আছে, তাকে দেখো। তুমি দেখবে তো তমাল?

আমি বলি, তা হবে, কিন্তু তোমার?

পিউ অদ্ভুত হাসি হেসে বলে, জানি আমি তো খুনি। তাও আবার পুলিশ খুন করেছি, জেল হবে, ফাঁসি হবে।

কেমন শান্তভাবে কথাগুলো বলে গেল পিউ। এরপর কয়েক ঘণ্টায় সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো সবকিছু ঘটে গেল। আমি পুলিশকে ফোন করে জানালাম সব। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের সব বড়বাবুরা হাজির। আমি সব বললাম। পিউয়ের নির্দেশ মত যাবতীয় কাজ সারলাম। ইতিমধ্যে টিভি ক্যামেরা সহ সাংবাদিকরাও হাজির। পিউ এই সময়টাতে কোনও কথা বলেনি, যা বলার আমি বলেছি। তারপর এক সময় পুলিশের গাড়িতে পিউকে তোলা হয়। আমি ওকে বলি, ভেবো না, আমি তোমার জন্য উকিল দেবো। তোমার যন্ত্রণা, অত্যাচারিত হওয়ার বিষয়টা আদালতে তুলব।

ও শুধু বলে, আমার মেয়েকে দেখো।

বললাম, কথা দিচ্ছি দেখবো।

পিউ আমার দু’হাত ধরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করল। আমি বললাম কাঁদছো কেনো, তুমি তো নিজের কাছে পরিষ্কার। তারপর পুলিশের গাড়ি করে পিউ চলে যায়। পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকবে জানিয়ে নাম ঠিকানা নিয়ে রাখে। পিউয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে ভাবছি, এ কোন পিউ, যে কোনও দিন জোরে কথা বলতো না। সে খুন করতে পারে কি করে? এত সাহস ও পেল কোথা থেকে? এসব ভাবনার মাঝে গাছ থেকে পাখির ডাক… আশ্চর্য হয়ে শুনলাম পাখি ডাকছে বউ কথা কও, বউ কথা কও। ওরাও জেনে গিয়েছে, এতদিনে বউ কথা বলেছে। ট্যাক্সি ধরে বাড়ির দিকে এগোতে থাকি। সবিতাকে বলব – বিদ্রোহী এক মেয়ের গল্প। তবে এই মুহূর্তে শহরের সব গুঞ্জন ছাপিয়ে আমার চেতনা জুড়ে কেবলই – ‘বউ কথা কও’ পাখির গুঞ্জন।