শুধু রোজভ্যালি নয়,সাহারা ও pacl এ উপর মাথায় হাত কাদের?

এক সময় বিপুল সম্পদের দাবি করত সাহারা। অথচ তার মালিক সুব্রত রায়ের জামিনের জন্য প্রোয়জনীয় মাত্র ১০ হাজার কোটি টাকা সেবির কাছে জমা দিতে পারছে না। ১ বছর জেলে রয়েছেন সুব্রত রায়। সারদা বা রোজভ্যালি দেশে বা রাজ্যে একমাত্র এধরনের কোম্পানি নয় যারা জনসাধরণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এদের হাত -পা ও মাথা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। অথবা এদের পিছনে আসল মাথাটা এক ও অদৃশ্য !

চিটফান্ড কর্তারা কতটা প্রভাবশালী তার একটা ছোট উদাহরণ দেওয়া যাক। তখনও সাহারা কর্ণধার সুব্রত রায় জেলে যাননি কিন্তু সাহারাকে আমানতকারীদের ২০ হাজার কোটি টাকা( এখন সুদে আসলে পাওনা ৪৭ হাজার কোটি) টাকা ফেরত দিতে বলেছে সেবি। ঠিক সেই সময় ২২মার্চ ২০১৩ সালে সুব্রত রায় তাঁর নাতনির অন্নপ্রাশনের যে পার্টি দিল্লির অশোক হোটেলে দিয়েছিলেন তাতে কারা না হাজির ছিলেন ! তখন কেন্দ্রে শাসক ছিল কংগ্রেস। ওই অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের শীলা দীক্ষিত, অজয় মাকেন, দিগ্বিজয় সিং, লোকসভার তত্কালীন স্পিকার মীরাকুমার, বিজেপি নেতা সুষমা স্বরাজ, নীতিন গাডকড়ি, রাজীব প্রতাপ রুডি, মানেকা গান্ধী। হাজির ছিলেন মুলায়ম ও তাঁর ছেলে অখিলেশ, জেডিইউ শরদ যাদব .এনসিপির প্রফুল্ল প্যাটেল। সুব্রত রায়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির করমর্দনের ছবি নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা জানেন না সুব্রত রায়ের সঙ্গে ওবামা থেকে বাজপেয়ী সবার ছবিই রয়েছে!

দেশের সব থেকে বড় ভুয়ো চিটফান্ড সংস্থা পিএসিএলকে বা Pearl Agro Corporation (PACL) আমানতকারীদের থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি তোলার পর গত বছর অগস্টে সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া বা সেবি এদের কালোক্টিভ স্কিম বন্ধ করে ওই টাকা আমানতকারীদের ফেরত দিতে বলে। এর পরও টাকা তুলে চলেছে পিএসিএল। এই আদেশ উপেক্ষা করে খোদ প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যে গুজরাটেও টাকা তুলে চলেছে পিএসিএল। শুধু আমেদাবাদ নয়,মহারাষ্ট্র, উত্তরাখণ্ড, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতে টাকা তুলে যাচ্ছে পিএসিএল চিটফান্ডটি। এই বিষয় পদক্ষেপ নিতে ও পিএসিএলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার জন্য কোম্পানি বিষয়ক মন্ত্রককে ১৪ নভেম্বর চিঠি দিয়েছে সেবি। এসএফআইওকে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে সেবি। ইতিমধ্যেই পিএসিএলের বিষয় সিবিআইকেও তদন্ত করতে বলেছে সেবি। অথচ বছর তিনেক আগে একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিকে পিএসিএলের প্রতারণার খবর প্রথম বিস্তারিতভাবে প্রকাশ পায়। তা থেকে জানা যায় পিএসিএল এত জমি কিনেছে বলে দাবি করেছে তা নাকি বেঙ্গালোর শহরের আয়তনের থেকেও বেশি। যদিও এর কোন রেজিস্ট্রেশন করানোর প্রমাণ নেই। ২০১০ সালে রাজস্থানে ভারত- পাক সীমান্তের কাছে প্রায় ১০ হাজার একর জমি, যার কোন ব্যবহারিক মূল্য নেই, তা পিএসিএল কেনে বলে জানা যায় ওই রিপোর্টে। তার পরও জেগে ঘুমচ্ছিল সেবি, ইডি তথা সরকার।

নতুন সেবি আইনে বলা হয়েছে কোন কোম্পানি যদি এইভাবে ১০০ টাকা তুলে প্রতারণা করে তার তদন্ত করবে সেবি। কিন্তু ১০০ কোটি টাকার নীচে হলে সেই তদন্ত করবে রাজ্য প্রশাসন। এই প্রতারক সংস্থাগুলি মুড়িমুরকির মত কোম্পানি খোলে ফলে আমানত ১০০ কোটি টাকা টপকে যাবার আগেই আরেকটি কোম্পানির নামে সার্টিফিকেট দেওয়া কি এদের কাছে খুব অসুবিধার। আসল কথা হল কেন্দ্র বা রাজ্য চাইলে এদের বন্ধ করতে বেশি সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু এদেরকে বন্ধ করতে আগ্রহী নয় বোধ হয় কেউই। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া একদিনও এই সব চিটিংবাজ ফান্ড চলতে পারে না।
এরাজ্যে সারদা , রোজভ্যালি সহ একাধিক চিটফান্ডে নাম জড়িয়েছে বর্তমান শাসকদলের সাংসদ মন্ত্রীদের। কিন্তু রোজভ্যালির মত সংস্থা তৈরি ও বাড়বাড়ন্ত হয়েছে বাম জমানায়। কেন্দ্রে তখন তৃণমূলের জোট সঙ্গী ইউপিএ সরকার। ফলে এরাজ্যে চিটফান্ডের জন্য কে দায়ী নয়! । দেশজুড়েই বা চিটফান্ড চলছে কী করে? শুধু সারদা- রোজভ্যালি নয় , সাহারা অ্যালেকেমিস্ট পিএসিএল সহ কয়েকশো চিটফান্ড রয়েছে দেশজুড়ে। কে বলতে পারে এদের মাথার উপর রয়েছে একটা সিন্ডিকেটের হাত ? এই অদৃশ্য মাথাকে খুঁজে বার করা জরুরি। তা না হলে একটা চিটফান্ড বন্ধ হবে অন্য নামে খুলবে আরেকটা। আর আমরা এক একটা গ্রেফতারি নিয়েই শুধু আলোচনা করবো গভীর পৌঁছবো না কোন দিনই।