তাপস পালের গ্রেফতারি ও চিটফান্ড তদন্ত

তাপস পালকে গ্রেপ্তার করে আবার সিবিআই  সক্রিয়তা দেখাচ্ছে,শোনা যাচ্ছে আরও কয়েকজনকে কিছু দিনের মধ্যেই ডাকা হতে পারে।সিবিআইয়ের এই হটাত সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।তৃণমূল দলের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশেই বিজেপির এই আচরণ,নোট বাতিলের চরম বিরোধিতা করাতেই তাঁদের সাংসদদের এভাবে হেনস্থা  করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় শাসক দল।সাধারণ মানুষজনদের মধ্যেও চর্চা শুরু হয়ে গেছে এবার কার পালা তা নিয়ে।তবে এই রাজনৈতিক চাপানউতোরে যে বিষয়টা চাপা পড়ে যাচ্ছে তা হল এই সব রাজনীতির খেলায় সাধারণ মানুষের প্রাপ্তি কতটুকু,এক কথায় এর উত্তর শূণ্য।সিবিআই,ইডির মতো সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া থাকে দুর্ণীতি ও আর্থিক অপরাধ রোধে সতর্ক থাকতে,এর জন্য এই সংস্থার অফিসারদের মোটা মাইনে দেওয়া হয়,অথচ এদের উপস্থিতেই দেশ জুরে অর্থনৈতিক দুরাচার পাহাড় প্রমাণ হয়ে ওঠে,দেশের প্রান্তে প্রান্তে চলতেই থাকে অনৈতিক চিটফান্ড ব্যবসার রমরমা।এ রাজ্যে সারদা রোজভ্যালি সাধারন মানুষের হাজার কোটি টাকা লুটে নিল আর সিবিআই ইডি কিছুই জানতে পারলো না কেন এর উত্তর কী আর কোন দিন জানা যাবে? আসলে এ দেশে সব সরকারী প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক নেতাদের দাবার বোড়ে,সব কিছুই রাজনীতির তাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।তাই সিবিআই ইডির তদন্তের গতিও ওঠা নামা করে রাজনৈতিক সমীকরণ অনুযায়ী।সারদা নিয়ে যে গতিতে এক সময় তদন্ত এগুচ্ছিল হটাত তা থেমে গেল,দিল্লিতে মমতা মোদির বৈঠকের পর,আবার নোট বাতিল নিয়ে মমতা সুর চড়াতেই,সিবিআই আবার রোজভ্যালি নিয়ে সক্রিয় হয়ে উঠলো। বোঝাই যাচ্ছে মমতা মোদির সম্পর্ক নরম তো সিবিআই ইডিও নরম,আবার মমতা মোদি সম্পর্ক গরম তো সিবিআই ইডিও গরম। হতে পারে মোদিবাবু মমতাকে বাগে আনতে চাইছেন,তাই তাপস পালকে গ্রেপ্তার করিয়ে বার্তা দিতে চাইলেন,এর পর হয়তো সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে নিয়ে আর কড়া বার্তা দেবেন।কে বলতে পারে তারপর হয়তো মমতা মোদি আবার মুখোমুখি বসবেন হয়তো নতুন সমীকরণ তৈরি হবে,আবার শীত ঘুমে চলে যাবে সিবিআই ,ইডি।সাধারণ মানুষের স্মৃতি থেকে একটু একটু করে মুছে যাবে সারদা -রোজভ্যালির প্রতারণার গল্প।যাঁরা প্রতারিত হয়েছেন তাঁরাই শুধু মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা বহন করে নিয়ে চলবেন।