বেফাঁস মন্তব্য শাসকের চোখ রাঙানির কৌশল

রাজ্য তথা দেশজুড়ে একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে লোকে কী পরবে , কীখাবে তা ঠিক করে দিচ্ছে শাসকেরা। শাসকদলের বিরুদ্ধেই মুখ খুললে হয় দেশদ্রোহী নয়তো মাওবাদী ইত্যাদী তকমা এটে গারদে পোরা হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদলের ছোট বড় নেতা যা খুশি তাই বলতে পারেন।তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বলতে পারেন তিনি ইচ্ছে করলেই বিরোধীদের গ্রেফতার করতে পারেন। অন্যদিকে বিজেপির সাংসদ থেকে মন্ত্রী মুসলীমদের যা নয় তাই বলেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি খাদির ক্যালেন্ডারে গান্ধীজির ছবি সরিয়ে মোদির ছবি বসানোর পর শুরু হয়েছে তরজা। সেখানেও হরিয়ানার মন্ত্রী অনিল ভিজ, যিনি অলিম্পিকে সরকারি অর্থে বেড়াতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে ছিলেন, মোদি বন্দনায় গান্ধীজি হঠাও এর সমর্থনে মুখ খুলেছেন। খুলতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। আসলে এটা একটা কৌশল। শাসকদলের ছোট বা মাঝারি নেতারা যা খুশি বলে প্রভুত্ববাদী মানসিকতা জাহির করে জনগনকে ভয় দেখাবে অন্যদিকে তাই নিয়ে জাতীয় রাজনীতি বা মিডিয়ায় বিতর্ক শুরু করায় সাময়িক ঢাকা পড়ে যাবে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা। তাই   মাঝে মধ্যেই  হুঁশিয়ারি বা (কখনও কখনও বেফাঁস মন্তব্যের আড়ালে) আসলে ভয়ের পরিবেশে ক্ষমতা ধরে রাখার শাসকদের কৌশল।  বেফাঁস মন্তব্যও চোখ রাঙানিরই অঙ্গ। আর এসব  প্রমাণ করে বছরের পর বছর ভোট হলেও দেশে গণতান্ত্রিক পরিসর কতাটা কম এখনও।