এই তবে শহুরে এলিট শিক্ষার হাল

0
1

পুঁথি পড়া বিদ্যা বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি ধারি হলেই যে শিক্ষিত হয়ে ওঠা যায় না,তার প্রমাণ মিললো আবারও,দিন কয়েক আগে এ রাজ্যের এক নামি টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্ক সভায় অর্থনিতীর এক অধ্যাপক যে ভাবে গ্রামের কৃযক সম্প্রদায়কে অশিক্ষিত মাতালদের সঙ্গে তুলনা করলেন তাতে তাঁর শিক্ষার চেতনা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে পারে না।ভাঙড়ে পাওয়ার গ্রিড তৈরিকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক দেখা দিয়েছে,গ্রামের কৃষকদের মধ্যে স্বভাবিক জীবন ছন্দ বিনাশের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে,তারা সরকারের কাছে আলোচনার দাবি,নিয়ে যে আন্দোলন শুরু করেছেন তাকে কটাক্ষ করেই ওই অধ্যাপক একটি জনপ্রিয় হিন্দি ছবির দৃশ্যের উল্লেখ করে বলেন সেই ছবিতে এক মাতাল অশিক্ষিত পাড়ার একটি মেয়েকে বিয়ে করার দাবি করে আত্মহত্যার হুমকি দেয়,পাড়ার মানুষজনও ওই মেয়েটির মাসিকে মাতাল ছেলেটির সঙ্গে আলেচনা করতে বলে,ভঙড়েও নাকি অনেকটা সেরকম দাবিই করা হচ্ছে।ভাবতে অবাক লাগে কোথায় হিন্দি ছবির বিনোদন দৃশ্য আর ,কোথায় ভাঙড়ের কৃযকের জীবন যাপন তাঁদের বেঁচে থাকার প্রসঙ্গ।যে শিক্ষা সহনাগরিকদের সম্মান করার রুচি তৈরি করতে পারে না,যে শিক্ষা অন্যমত শোনার আগ্রহ ধৈর্য্য তৈরি করতে পারে না,সেই শিক্ষা দিয়ে কোন উন্নয়নের বার্তা আদৌ দেওয়া যায় কী?তা ছাড়া এই তথাকথিত শিক্ষার বড়াই করা মানুষজন কবে শিখবেন এদেশে যে কোন উন্নয়নের মুল্য গ্রামের গরিব মানুষেরাই সবচেয়ে বেশী দিয়েছেন।প্রামের গরিব মানুষকে অপমান করার স্পর্ধা যতদিন বজায় থাকবে ততদিন,শহুরে এলিট ডিগ্রি ধারিরা যথার্থ শিক্ষা থেকে দুরেই থাকবেন।