স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা অধিকার আন্দোলনের এক কর্মীর অভিজ্ঞতা

0
11
                           স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা অধিকার আন্দোলনের এক কর্মীর অভিজ্ঞতা -উত্তান বন্দ্যোপাধ্যায়
কেউ কেউ জানেন যে গত ১৫ – ২০ বছর ধরে আমি আর কয়েকজন নিয়ে যে যে ব্যাপার গুলো নিয়ে চিৎকার করে চলেছি সেই বিষয়টা এখন মুখ্যমন্ত্রী সিরিয়াসলি দেখবেন বলে  খবরে প্রকাশ ।
এই নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর, নাগরিক মঞ্চ সক্কলের সঙ্গে আমি ঝগড়া করেছি দিনের পর দিন যে কর্পোরেট হাসপাতালদের এই চুরি চামারি আর ডাকাতি কতটা violation of human rights যে  হচ্ছে এটা মনে করে আন্দোলন শুরু করছেন না কেন লাগাতার?   কতবার অভিমান করে বলেছি ও,  এটা পুলিস কাসটোডিতে মৃত্যুর মতো অতোটা ইন্টারেস্টিং নয় বোধহয়,  সিলেবাসে নেই,  তাই এগোচ্ছেন না? 
যাক,  আজ কিছুটা তাই ভাল তো লাগবেই,  তাই বলছি। এই জন্য জীবন সংশয় নিয়েও কতবার ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি হয়তো আমার বন্ধুরা কেউ কেউ জানেন। কলকাতা পুলিসের cyber crime branch আমাকে  information technology act এর ৬৬ এ নং ধারায় জামিন অযোগ্য বলে মামলা করল। আমার সিম্ বেআইনি ভাবে লক করে দিল। আমার অপরাধ বিএমবিড়লা, আপ্যেলো আর পিয়ারলেসের কুকর্মের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম আমি। 
একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু রিটায়ার্ড জর্জ আমাকে আলাদা করে আগাম খবর দিয়েছিলেন যে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে সাবধানে থাকতে বলেছিলেন। ওদিকে লালবাজার বেআইনিভাবে আমাকে না ডেকে প্রতিদিন আমার ঘনিষ্ঠদের ডেকে আমার সম্পর্কেই জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকল আমাকে mentally trauma দেবার জন্য। এসব ২০১২ সালের জুলাই মাসের ঘটনা। এপিডিআর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যালকাটা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করলো। আরো তিনজনের বিভিন্ন অছিলায় সিম লক করা হয়েছিল। প্রত্যেকেরই অপরাধ ছিল ‘সরকার বিরোধী’ এসএমএস  বন্ধুকে করার জন্যে। অবশেষে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে । কলকাতা পুলিসকে তার বেআইনি কার্যকলাপের জন্য ভর্ৎসনা করছে তীব্র ভাবে।
যাদের পয়সার অভাব তারা  Medical Negligence এর জন্য মামলা করেছে, নিজে উকিল না হয়েও কতবার  তাদের হয়ে মামলা লড়েছি, দাঁড়িয়েছি ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে। আমিও যখন দেখলাম যে একটা বড়ো পপুলার মামলায় জিতে (বিএমবিড়লা হেরে গিয়েছিল এই মামলায় আমাদের কাছে, প্রায় award হয়েছিল ৩৪ লক্ষ টাকার ) দেখলাম যে বড়ো বড়ো বাংলা কাগজগুলো আর নিউজ করছে না,  আমি তখন আমার মোবাইল থেকে প্রায় ৫০০ টা একই sms পাঠাই ৫০০ জনকে। ব্যস,  এটাই কাল হলো। উক্ত বন্ধু জর্জ আমাকে বলেছিলেন যে কর্পোরেট হাসপাতাল গুলোর অনেকেই আমার “স্বঘোষিত” এই চিকিৎসার অধিকার আন্দোলনের কর্মী হিসেবে মেনে নেওয়া সহ্য হচ্ছিল না। তাই তারা পুলিসকে দিয়ে কাজে লাগালো। আমার sms   টি  ছিলো: *আরো একটা রায় বেরোলো পেশেন্ট ও পেশেন্ট পার্টির favour এ। BMBirla hospital is asked to pay Rs 34 lacs to the patient party, as awarded by the State Consumers’ Affairs Redressal Forum.This is definitely an inspiring news to the aspirants who are practising medical rights as well as human rights for the patients and patient parties which is actually a threat to the corporate corrupt medical practices in India.*
তার পরের ঘটনাগুলো আগেই বলা হয়েছেl
 লেখকঃ স্বাস্থ্য আন্দোলনের কর্মী