অবৈধভাবে ১৫০০ কোটি টাকা তুলেছে কেডি সিংয়ের অ্যালকেমিস্ট

0
11

কেডি সিং ও অ্যালকেমিস্ট চিটফান্ডের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

৮ ডিসেম্বর, ২০১৪, কেডি সিংয়ের কোম্পানি ট্যুবরো হোল্ডিং অধুনা অ্যালকেমিস্ট ক্যাপিটালকে বাজার থেকে টাকা তুলতে নিষেধ করে সেবি। সেবির জারি করা আদেশে  কেডি সিং সহ অ্যালকেমিস্টের প্রাক্তন ও বর্তমান ডিরেক্টরদের নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সেবি নির্দেশ দিয়েছিল যত টাকা অ্যালকেমিস্ট ক্যাপিটাল তুলেছিল তা যেন অন্যত্র না সরান হয়। সেই সঙ্গে অ্যালকেমিস্ট ক্যাপিটালের কোন সম্পত্তি এখন থেকে সেবির অনুমতি ছাড়া বিক্রি করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছিল সেবির আদেশে। ২০০৬ সালে ট্যুবরো হল্ডিং অধুনা অ্যালকেমিস্ট কেমিক্যাল অবৈধভাবে প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার ছেড়ে ২৮ হাজার আমানতাকারীর থেকে প্রায় ১৬৫ কোটি টাকা তুলেছিল। অ্যলকেমিস্টের ২০১৩ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে প্রায় ৯২ কোটি টাকা আমানতকারীদের এখনও ফেরত দেয়নি অ্যালকেমিস্ট।২০০৬ সালে ট্যুবরো যখন অবৈধভাবে টাকা তুলেছিল তখন কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন কেডি সিং। পরে অবশ্য তিনি কোম্পানির ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন। যদিও সেবির এই আদেশ অনুযায়ী কেডি সিংকেও জবাবদিহি করতে হবে।সেই সঙ্গে তাঁকেও কোনভাবে বাজার থেকে টাকা তুলতে বা মূলধনী বাজারে শেয়ার কেনা বেচা করতে নিষেধ করেছে সেবি।।
২০১৪ সালেই প্রথম নয়। এর আগেও অবৈধভাবে টাকা তোলায় সেবির নজরে এসেছিল অ্যালকেমিস্ট। ২০১১ সালের জুন মাসে সেবি নির্দেশ দিয়েছিল কোন অনুমতি ছাড়া এইভাবে সিআইএস বা কালেক্টিভ ইনভেস্ট স্কিমের মাধ্যমে যে টাকা অ্যালকেমিস্ট ইনফ্রা রিয়েলটি তুলেছে তা আর তুলতে পারবে না তারা। মার্চ ২০১১ পর্যন্ত তোলা ১০৮৭ কোটি টাকা সুদ সমেত ৩ মাসের মধ্যে ফিরিয়ে দিতে হবে সংস্থাটিকে। সেবির এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ অ্যাপেলেট ট্রাইবুন্যালের দ্বারস্থ হয় অ্যালকেমিস্ট ইনফ্রা রিয়েলটি। সিকিউরিটিজ অ্যাপেলেট ট্রাইবুন্যাল তার ২৩ জুলাই ২০১৩ তারিখের আদেশে অ্যালকেমিস্ট ইনফ্রা রিয়েলটিকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য বাড়তি কিছুটা সময় সেবিকে দিতে বললেও টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে সেবির আদেশই বলবত রাখে তারা।

অ্যালকেমিস্টের আরেকটি সংস্থা হলো অ্যালকেমিস্ট হোল্ডিং। এনবিএফসির অনুমতি থাকলেও শেয়ার ছাড়া বা জনগণের থেকে টাকা তোলার অনুমতি ছিল না এদের। অথচ বেশি হারে সুদের টোপ দিয়ে প্রতারণার এই কাজটি করছিল বলে সেবির কাছে অভিযোগ আসে।সেবি লক্ষ করে ৪ লক্ষ ২৬ হাজার প্রেফারেন্সিয়াল শেয়ার ছেড়ে আমানতকারীদের থেকে ৪৪৪ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা তুলেছে সংস্থাটি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেবি এই কায়দায় টাকা তুলতে অ্যালকেমিস্ট হোল্ডিংকে নিষেধ করে। সেই সঙ্গে সংস্থার সম্পত্তি বিক্রি বা হস্থান্তর করতেও মানা করেছে সেবি।

এবার নারদায় কেডি সিংয়ের নাম জড়াল। তবে কেডি সিং বা অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। ২০১১ সালে দিল্লি বিমান বন্দরে ৫৭ লক্ষ টাকা নগদ নিয়ে অসম যাওয়ার সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে আটকায়। পরে অবশ্য সেই টাকা নিয়ে একটি ব্যক্তিগত বিমানে গুয়াহাটি যান কেডি সিং। সেই সময়ে অসমে নির্বাচন ছিল।বিষয়টি নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। ঝাড়খণ্ড থেকে জেএমএমের টিকিটে রাজ্যসভায় যাওয়ার পিছনে কেডির অর্থের জোরই একমাত্র কারণ বলে মনে করেন অনেকে। তবে কেন এক বিরোধী দলের চিটফান্ডের মাথাকে বর্তমান কেন্দ্রের সরকার এতটা ছাড় দিয়ে রেখেছে তা স্পষ্ট হচ্ছিল না। তবে কি নারদার ম্যাথুর দাবিই সঠিক?