সাক্ষাত্কারের নামে মুখ্যমন্ত্রীর বাণী প্রচার

0
18

কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাত্কার সম্প্রচারিত হবে,কিন্তু যা হল তা নেহাতই মুখ্যমন্ত্রীর বাণী সম্প্রচার।প্রশ্ন হল,মুখ্যমন্ত্রীর এমন বাণী আমরা তো আখছাড়ই শুনে থাকি বিভিন্ন জনসভায়,তার জন্য আলাদা করে নামী সংবাদ চ্যানেলের প্রধান সঞ্চালকের মুখোমুখি স্টুডিয়োতে গিয়ে বসার কি বা দরকার?আসলে জানতে বা বুঝতে চাইছি এই প্রয়াসের সঙ্গে সাংবাদিকতার যোগ কতটা।আজকের সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের কাজকর্ম নিয়ে অনেক প্রশ্ন করা যায়,যে প্রশ্ল আসলে সাধারণ নাগরিকের,গণতন্ত্র প্রিয় মানুযের।সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব তো সাধারণ নাগরিকের চাহিদাগুলো প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে পৌঁছে দেওয়া।অথচ দু ঘন্টা  ধরে ইন্টারভিয়্যুর নামে রাজ্যের প্রধান প্রশাসক শুধু নিজের কথা বলে চলেন।নারদা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে কেন এক এক সময় এক এক রকম বক্তব্য রাখলেন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে না,দুর্ণীতির তদন্ত আটকাতে সরকারের সুপ্রিমকোর্টে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে,জানতে চাওয়া হয় সরকার এ বিষয়ে আর প্রস্ততি নিয়ে এগুলো না কেন।সংখ্যালঘু উন্নয়ন,থেকে রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন সবেতেই একতরফা বলে যান মুখ্যমন্ত্রী,পাল্টা কোন তথ্য নেই,প্রশ্ন নেই,পরিসংখ্যান নেই।এমন কী ভাঙড় যেখানে,দুজন কৃষিজীবী মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার চারমাস পরেও জানা যায় নি কাদের গুলিতে মারা গেছে,তা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীকে কোন প্রশ্ন করার সাহস দেখান নি গণতান্ত্রীক রাজ্যের স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি।বরং ভাঙড় আন্দোলন যে কতটা হটকারী,কতটা অযৌক্তিক তাতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সায় দিয়ে সাংবাদিকটিও গলা মেলাতে শুরু করেন ।প্রসঙ্গত ওঠে এক কবিকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চেষ্টার বিষয়টি,মুখ্যমম্ত্রী জানান কারোর স্বাধীন মত কে বাঁধা দেওয়া হবে না,এখানেই তো প্রশ্ন উঠতে পারতো তবে কেন ভাঙড়ে গণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন প্রযুক্ত হচ্ছে একের পর এক?না এ প্রশ্ন করা হয় নি,বরং দু ঘন্টা ধরে প্রশ্ন কর্তা সজাগ ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি রাখতে,তাঁর বাণী সবার কাছে পৌছে দিতে।দেখতে দেখতে এ রাজ্যের মানুষ কে বড় অভাগা মনে হচ্ছিল,কারণ গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভটি এখানে একেবারেই অসার।