শুধু সেবার বাণী নয়, ঢেলে সাজাতে হবে সরকারি হাসপাতালগুলোকেও

0
3

অ্যাপোলোতে ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুর পর ফের চর্চায় নার্সিংহোমগুলির বেনিয়ম। প্রায় প্রতিদিনই শোনা যাচ্ছে কোথাও না কোথাও নানা অভিযোগ। কয়েকদিন আগে মেডিকাতে হৃদরোগের চিকিত্সা করাতে এসে পা কেটে ফেলার পরও বাঁচাল না রোগী। আর এর মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা নার্সিংহোম চালান আসলে সেবা , ব্যবসা নয়। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কতটা বাস্তব সম্মত সেই বিতর্কে না গিয়েও একটা কথা বলা যেতেইপারে বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলো এত বেপরোয়া হল কী করে? বাইপাস জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মত এত বেসরকারি হাসপাতাল তৈরির হল কেন? কারণ সরকারি হাসপাতালগুলোক ধীরে ধীরে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। গড়ে তোলা হয়নি  প্রাথমিক বা জেলার স্বাস্থ্ কেন্দ্র বা হাসপাতালগুলোকে। দামি দামি যন্ত্র কেনা হলেও অনেক জায়াগায় দেখা যায় তা চালানোর দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। স্বাস্থ্যক্ষেত্রে  সরকারি বরাদ্দ  প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। অথচ সরকারি হাসপাতালে রোগীর অত্যধিক চাপ। পরিকাঠামো, কর্মীর অভাব।  নাজেহাল রোগী ও রোগীর পরিবার। রোগী ভর্তির জন্য ট্রলি পর্যন্ত পাওয়া যায় না। সরকারি হাসাপাতালে বেড মেলে না, অপারেশন করাতে হল অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ দিন। প্রশাসন বলে কিছু না থাকায় কর্মীদের  একটা বড় অংশের দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে।সব মিলিয়ে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত অসহায়দের শেষ জায়গায়। অথচ এটা হবার কথা নয়। অনেকেই বলেন দু দশক আগে সরকারি হাসপাতালগুলোর চেহারা এতটা খারাপ ছিল না। তাই শুধু বেসরকারি হাসপাতালগুলি সেবার কথা স্মরণ করালেই হবে না , ঢেলে সাজাতে হবে সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিকাঠামো। রোগী  -স্বাস্থ্যকর্মী- চিকিত্সকের অনুপাত বিজ্ঞাপন সম্মত করতে হবে। সর্বস্তরে জবাবদিহি চালু করতে হবে। আর তা নাহলে দু একদিন মিডিয়ার চর্চার বিষয় হতে পারে কাজের কাজ কিছুই হবে না।