কারা সন্ত্রাসবাদী,কারাই বা করে সন্ত্রাসের প্রতিরোধ!

0
13

বালি যার বল তার।লাভপুরের দারকা গ্রামে এটাই পরম্পরা।বাম জামানাতে যা ছিল এখনও তাই আছে,লোকজনও সেই একই,শুধু বদলেছে এই দুষ্কর্মের মাথার ওপর ছাতা ধরা রাজনৈতিক দলের নামটাই।এখন যুযুধান দুপক্ষই তৃণমূল শিবিরের লোক।বালিখাদানের দখল রাখতে সশস্ত্র লড়াইয়ে খুন হয়ে গেল ৯জন মানুষ।এখনও গ্রামে পুলিশি নিরাপত্তা সেভাবে চোখে পড়েনি,গ্রাম জুড়ে থিকথিক করছে শুধুই সাদা পোষাকের সিভিক ভলান্টিয়ার।গোটা গ্রাম পুরুষ শুন্য,গ্রাম জড়ে মহিলাদের হাহাকার আর্তনাদ।প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক এত বড় একটা ঘটনার পরেও প্রশাসনিক সক্রিয়তা এত কম কেন,এমন ঘটনার পর তো গোটা এলাকাকে উপদ্রুত ঘোষণা করে,সেখানে পুলিশি নিয়ন্ত্রন কয়েম হয়ে যাওয়ার কথা,তা হচ্ছে না কেন?আসলে এই সশস্ত্র লড়াইটা এ রাজ্যে নতুন কিছু নয়।পেছন ফিরে তাকালেই স্মৃতীতে ধাক্কা দেবে নানুর,গড়বেতা,পাড়ুই,নেতাইগ্রাম একের পর এক রক্তাক্ত ঘটনা পরম্পরা।রাজ্যের সাধারণ মানুষের চেতনায় এইসব ঘটনা ভয়াবহ ভীতির প্রবাহ বয়ে নিয়ে চললেও,ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা এ রাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলোর তা নিয়ে কোন হেলদোল কোনদিনই দেখা যায় নি।তাই এই সব ভয়াবহ ঘটনার কুশিলবরা সন্ত্রাসবাদী দুষ্কৃতী বলে চিহ্নিত হন না।অথচ ভাঙড়ে গণ আন্দোলন করার অপরাধে একের পর এক আন্দোলনকারীকে জেলে ভরা হয়,ইউএপিএ আইনের মতো সন্ত্রাসপ্রতিরোধক আইন প্রযুক্ত হয় তাঁদের বিরুদ্ধে।ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রাজনৈতিক দলগুলো সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন মাওবাদীদের বলে সন্ত্রাসবাদী,আর নিজেরা রাজনৈতিক স্বার্থে একের পর এক হিংসা আর সন্ত্রাস চালিয়ে যান,ধারাবাহিক ভাবে যার বলি হয় সাধারণ মানুষ।গড়বেতা,নানুর, পাড়ুই নেতাইগ্রাম,এখন লাভপুর তারই মুল্য চুকোচ্ছে।আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে এটা দেখার জন্য যে সাধারণ মানুষ কবে এই সব ভন্ড রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের সম্পর্কে মোহমুক্ত হবেন।সাধারণ মানুষের সাহস ও সচেতনতায় ভর করেই একদিন সমাজ থেকে আওয়াজ উঠবে যারা নিজেরা খুনি সন্ত্রাসবাদী তাদের অন্যকে খুনি সন্ত্রাসবাদী বলার নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।আমরা অপেক্ষায় থাকবো অবশ্যই।