হায় কাঁটাতাড়ের বেড়া,হায় সীমান্ত রক্ষা!

0
9

আসমা বিবি আর মহম্মদ রফিক নেহাতই সাধারণ পরিবারের আটপৌড়ে জীবন যাপনে আভ্যস্ত এক দম্পতি,তবে মঙ্গলবারের পর এঁদের জীবনের গল্প যে কোন মর্মস্পর্সী সিনেমার গল্পকেও হার মানিয়ে দেবে,নিজেদের জীবনের ভয়াবহ এক যন্ত্রনার বিনিময়ে এঁরা সীমান্ত পাড়ের এক ভয়ঙ্কর সত্যকে সামনে নিয়ে এসেছেন। আসমা আর তাঁর স্বামি ও তাঁদের একমাত্র ছেলের চিকিত্সার জন্য বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসেছিলেন দিন কয়েক আগে। এঁদের একমাত্র ছেলে আসাদ ছিল ক্যানসারে আক্রান্ত। এদেশের ডাক্তাররাও বাঁচাতে পারেন নি তাঁকে। তাই মঙ্গলবার ছেলের কফিন বন্ধি দেহ নিয়ে সীমান্ত পেড়িয়ে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল ঐ বাংলাদেশি দম্পতি। কিন্তু সীমান্ত এলাকার নানা নিয়মের চক্করে আটকে পড়েন তারা,অভিবাসন দপ্তরের নানা নিয়ম,এই কাগজ সেই কাগজ,এর অনুমোদন,তার অনুমতি জোগার করতে সময় বয়ে যায়,সদ্য সন্তান হারা বাবা মায়ের যন্ত্রনা কেনই বা বুঝতে চাইবে কাঁটা তাড়ের বেড়ার পাহাড়াদারেরা।তাঁরা তো নিয়ম বোঝেন,তাদের কাছে কফিন বন্দি দেহ মানে তো লাশ,সেই লাশ কারোর পুত্র হলেই বা তাদের কী।আর এভাবে সীমান্ত রক্ষীদের সঙ্গে টানাপোড়েনে অসুস্থ হয়ে পড়েন মহম্মদ রফিকও,অসহায় স্ত্রী কোনক্রমে তাঁকে নিয়ে যান বনগাঁ হাসপাতালে,কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে,মৃত্যুরসঙ্গে সখ্য গড়ে নিয়েছেন রফিকও।আসমা বিবি নামের মানুষটি তখন জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় বোবা হয়ে গেছেন।তবু শেষ পর্যন্ত তাঁর পুত্রের দেহ নিয়ে ওপাড়ে পৌঁচেছেন আসমা বিবি,তবে  স্বামির দেহ সীমান্ত এলাকাতেই পড়ে এখনও। যন্ত্রনাদীর্ণ আসমা বিবি হয়তো এখন নিরুচ্চারে জানতে চাইছেন এই নিয়ম এই কাঁটাতাড় কাদের জন্য,মানুষ যদি মানুষের যন্ত্রনায় কাঁদতে ভুলে যায় তবে কার কোন দেশ কবে  কোন্ উন্নতির অভিমুখে যাত্রা করবে? আর কত আসমা বিবির জীবন যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা আমাদের প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের বিবেক বোধকে নাড়া দেবে,ভাবতে বাধ্য করবে সীমান্ত এলাকার নিয়ম কানুন গুলোকেও একটু বিবেক মনুষ্যত্বের চাদরের আড়াল দেওয়া দরকার।তা না হলে আসমা বিবির কাছে মুখ দেখাবো কী ভাবে আমরা?