আত্মপ্রদর্শনের ভয়াবহ পরিণতি ‘সেলফি খুন’

ট্রেনের ধাক্কায় ঝরে গেল চারচারচটি তাজা প্রাণ,নেপথ্যে সেই সেলফি তোলার ভয়াবহ নেশা।বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রেনে ফেরার সময় যে ভাবে সেলফি তোলার ঝোঁকে চারজন যুবক বেঘোরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লো।একের পর এক ‘সেলফি খুন’ আমাদের ভাবাচ্ছে,আর কত প্রাণের বিনিময়ে আমরা এই ভয়াবহ মোহ থেকে মুক্তি পাবো,কিংবা আদৌ পাবো কি?কোথা থেকে এমন  মর্মান্তিক আত্মপ্রদর্শনের নেশা গ্রাস করলো আমাদের প্রজন্মকে,কেন এমন আশ্চর্য নেশা,যা পারিপার্শ্বিককে ভোলায়,এমনকি নিজের পরিজন আত্মীয়ের কথাও ভুলিয়ে দেয় নিমেশে।যারা যায় তারা তো ফুরিয়েই যায় কিন্তু যারা থেকে গেল,মৃতের বাবা মা কিংবা আত্মীয় পরিজনেরা এরকম মৃত্যুর কোন সান্তনা তারা কোনদিন সংগ্রহ করতে পারেন কী,বেঁচে থাকাটা তাদের কাছেও কী ভয়াবহ হয়ে ওঠে না? জীবনের রঙ তাদের কাছেও তো অনেকটা ফিঁকে হয়ে যায়।মানতেই হবে এই আত্মপ্রদর্শনের নেশা আসলে এক সামাজিক ব্যাধি,আত্মসর্স্বতা যার কেন্দ্রস্থল। আজকের সামাজিক পরিমন্ডল শুধু নিজের কথা ভাবতে প্ররোচনা দেয়।আমাদের সামাজিক মুল্যবোধ তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান এর বাইরে পৃথিবীর বিস্তার মানে না,তাই সবাই আমরা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত,নিজের উন্নতি,নিজের প্রচার,সেই প্রচারের নেশাই তো কালক্রমে এমন প্রাণঘাতি হয়ে উঠছে।নিজের একটা ছবি সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে প্রচার হলে সমাজ দেশের কোন উপকার সাধিত হয়?আমরা প্রশ্ন করতে ভুলে গেছি,বোধ চেতনার চর্চা ছেড়েছি,ঠুনকো হুজুকে মেতে উঠতে আমাদের তুমুল আগ্রহ।আমাদের রাজনীতির অভিভাবকরাও তাই চান কারণ তারা জানেন যে যতো ভাবে,চিন্তা করে সে ততো প্রশ্ন করে।এখানে প্রশ্ন করা মানা,এখানে মস্তি হুল্লোর মজাতে মেতে থাকাটাই দস্তুর,হাঁ,একের পর এক সেলফির নেশায় মৃত্যু মুছিল দেখেও আমাদের মস্তিতে মজে থাকতে হবে,কারণ সামাজিক সমস্যা নিয়ে ভাবার দিন আমরা অতিক্রম করে এসেছি,মুনাফা ভিত্তিক সামাজিক বোধ বলে অন্যের যন্ত্রনায় কাঁদার মধ্যে কোন মুনাফা নেই। চার যুবকের বেঘোরে মরে যাওয়ার খবরে যাদের বুক ভারি হয়ে ওঠে তারা নেহাতই বোকা মুনাফা বোধহীন মানুষজন।