উন্নয়নঃ প্রচার ও বাস্তব

রাজ্য সরকারের উন্নয়নের ঢক্কানিনাদে যখন কান ঝালাপালা হবার যোগার,তখনই কলকাতা থেকে সামান্য দুরে ভদ্রেশ্বরে জেটি ভেঙে জলে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারালে অন্তত ১৪জন।স্বজন হারানো মানুষজনদের আর্তনাদ আবারও জানিয়ে দিয়ে গেল,সাধারণ মানুষের জীবনের মুল্য নিয়ে এখনও মাথা ঘামানোর সময় করে উঠতে পারেন নি আমাদের প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিগণ।সাধারণ মানুষ এদেঁর কাছে কেবলই কতগুলো সংখ্যার সমাহার বই বেশী কিছু নয়।তা না হলে ভাঙা জেটি দিয়ে মানুষ দিনের পর দিন পারাপার করছে দেখেও কেন সজাগ হয় না প্রশাসন?এই ঘটনা কি এই প্রথম,না বার বার ঘটে চলেছে এরকম ঘটনা।যে রাজ্যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে ভাঙা জেটি দিয়ে পরাপার করতে বাধ্য হয়,সে রাজ্যের সরকার ঢালাও উন্নয়নের ঢাক পেটাতে লজ্জা বোধ করে না।সাধারণ মানুষের জীবনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা উন্নয়নের মাপকাঠিতে বিচার্য বলে মানাই হয় না।অথচ এঁরা দাবি করে এঁরা সব মানব দরদী,আসলে ভেকধারী।এই লেখাটা যখন আমরা লিখছি তখনই টিভির পর্দায় দেখা যাচ্ছে মালদার একটা কলেজে বিএ পরীক্ষা দিচ্ছেন ছাত্ররা বারান্দায় বসে,কারণ জায়গার অভাব।কোন উন্নয়ের বার্তা দেয় এই সব খন্ড খন্ড চিত্র!যে কেউই একদিন চা বাগান ঘুরে এলে বুঝবেন কি ভয়াবহ দারিদ্র বহন করছেন চা বাগানের শ্রমিকরা।গত কয়েক বছরে না খেতে পেয়ে কতজন চা শ্রমিক মারা গেলেন তার হিসেব বোধহয় কোনদিন পাওয়া সম্ভব হবে না,কারণ উন্নয়নের বাজনদাররা কোনদিন সে হিসেব সামনে আনতে দেবেন না।আমাদের ব্যবস্থাপনার কর্তা ব্যক্তিরা চিরদিনই তো মানুষকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতেই অভ্যস্ত তাই সাধারণ মানুষ যতোদিন না পর্যন্ত নিজেদের সচেতনতায় ভর করে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের ব্যবহার হওয়া থেকে সরে না আসছে ততদিন উন্নয়নের নামে এই প্রতারণার গল্প চলতেই থাকবে।