ভোটে জেতাটাই শেষ কথা প্রমাণ করল তৃণমূল

0
11

মমতা যা চেয়েছিলেন পুরভোটের ফলে তারই ফল মিললো। রাজ্যের পুরসভাগুলি প্রায় বিরোধী শূন্য করে দেওয়া সম্ভব হল।গত রবিবার যে সাতটি পুরসভায় ভোট হয়েছিল তার সবকটিই ছিল বিরোধীদের দখলে। তাই শাসক তৃণমূল ‘যাবতীয় ব্যবস্থা’ করে এই পুরসভাগুলো নিজেদের দখলে আনার জন্য যাযা করার সবই করেছিল। বিরোধীরা ভোট লুঠের অভিযোগ করে নির্বাচনের মাঝখানেই অনেক জায়গা থেকে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেয়। তার ফলও মিললো রায়গঞ্জ,পুজালি,ডোমকলে প্রায় সবকটি ওয়ার্ড তৃণমূলের দখলে।দু-একটা মাত্র বিরোধীদের।একই সঙ্গে পাহাড়েও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার রাশ আলগা করে মিরিক পুরসভা দখল করেছে তৃণমূল।তবে পাহাড়ে দার্জিলিং,কালিম্পং,ও কার্শিয়াং পুরসভা এখনও দখল রাখলো মোর্চা। তৃণমূল বেশ কয়েকটা ওয়ার্ড দখল করে পাহাড়ে তাদের অস্তিত্ব জানান দিল।পাহাড়ে ভোটের দিন কোন গন্ডোগোলের খবর মেলেনি। মোর্চার নিয়ন্ত্রন এখনও বজায় থাকায় তৃণমূল একতরফা মস্তানিতে নেমে সেখানে ভোট লুঠ করতে পারেনি। যদিও অর্থ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করার চেষ্টা যে হয়েছে মোর্চার পক্ষ থেকে বার বার সে অভযোগ করা হয়েছে।তবে তাতেও একতরফা ভোট আদায় করা যায় নি। সেই জন্যই সমতলের বিজয় রথ পাহাড়ে কিছুটা থমকে গেছে। প্রতিবারই ভোট  প্রহসনে পরিণত হচ্ছে।এখন ক্ষমতা-বাহুবল-অর্থই ভোটে জেতার একমাত্র হাতিয়ার।এই কথাটাই তো পরোক্ষে স্বীকার করে ফেললেন তৃণমূল নেতা সৌরভ চক্রবর্তী,তিনি তো বললেন গুরুংরা জিএটির ক্ষমতায় থাকার সুবিধা ব্যবহার করে তিনটে পুরসভা দখল করেছে। বোঝা যাচ্ছে ক্ষমতার ব্যবহার ছাড়া ভোটে জেতা যায় না,রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার সুবিধা নিয়েই তাহলে সৌরভবাবুরা রাজ্যের সর্বত্র বিরোধীদের ভোটবাক্স শূন্য করে দিচ্ছেন,এই সত্যটা মেনে নেওয়ায় সৌরভ চক্রবর্তীকে ধন্যবাদই দেওয়া উচিত।আমাদের অনেকেরই এখনও মনে আছে এই সৌরভ চক্রবর্তীই একসময় বলেছিলেন ভোটে কেউ জেতায়  না ভোটে জিততে হয়,হাঁ এটাই এই সংসদীয় ভোট ব্যবস্থার ফ্যালাসি।