ক্ষমতার রাজনীতি ও অসহায় গরীব মানুষ

সত্যিই এ এক বিচিত্র খেলা শুরু হয়েছে রাজ্য জুরে।দিন কয়েক আগে নকশালবাড়ি এলাকায় যে আদিবাসী পরিবারে পাত পেড়ে খাওয়া দাওয়া করে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এ রাজ্যে বিজেপির সাংগঠন বাড়ানোর অভযান শুরু করেছিলেন,ইতিমধ্যেই সেই গরীব আদিবাসী রাজু ও গীতা মাহালীকে তৃণমূল তাদের দলের ঝান্ডা ধরিয়ে দিয়েছে।তৃণমূলের দাবি এঁরা তৃণমূলকে ভালবেসে দলে এসেছেন।উল্টো দিকে বিজেপির অভিযোগ ভয় দেখিয়ে ঐ আদিবাসী দম্পতিকে দলে যেতে বাধ্য করেছে তৃণমূল।আর এই দল বদলের দরি টানাটানিতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।ভবানিপুরে যেখানে অমিত শাহ মধ্যাহ্ন ভোজন করেছিলেন সেখানে যাতে নকশাল বাড়ির ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তাই তড়িঘরি সেখানে গিয়ে বিজেপি নেতারা তাদের আশ্বাস দিতে শুরু করেছেন।আমাদের প্রশ্ন ক্ষমতার রাজনীতির এই দরি টানাটানিতে এই গরীব পরিবার গুলোর প্রাপ্তি কতটুকু?কেন এঁদের বার বার রাজনীতির দাবার বোড়ে করা হবে,কেন এঁদের সামনে রেখে চলতেই থাকবে কদর্য রাজনীতির প্রদর্শন?নকশাল বাড়ি এলাকার রাজু মাহালী,গীতা মাহালীকে টিভির পর্দায় দেখে বুঝতে কারোর অসুবিধা হয় নি,তাঁরা বিধ্বস্ত-সন্ত্রস্ত,রাজু ক্যামেরার সামনে বললেন তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হোক,তারা তাদের মতো থাকতে চান।বুঝতে  অসুবিধা হয় না দারিদ্রের জোয়াল টেনে ক্লান্ত এদের কাছে এই রাজনীতির দরি টানাটানি বড়তি উপদ্রপ ছাড়া কিছু নয়,তবু কেউ ওদের ছাড়বে না,কারণ এই অসহায় গরীব মানুষগুলোই তো এদেশে ক্ষমতা লোভী রাজনীতির দাদা দিদিদের ক্ষমতার অলিন্দে পৌঁছে দেওয়ার সিঁড়ি।ক্ষমতা কেন্দ্রীক রাজনীতির কোন আবেগ নেই,বিবেকও নেই,তাই নকশালবাড়ির আদিবাসী বা ভবানিপুরের গরীর পরিবারের এই বিষাক্ত রাজনীতি থেকে সহজে মুক্তি মিলবে না তা বলাই বাহুল্য।