আউশগ্রামের ঘটনা,বাঙালির সর্বনাশের ষোলকণা পূর্ণ!

আউশগ্রামের পিচকুড়ি পাড়া,সোমবারের আগে এই জায়গার নামটাও রাজ্যের অধিকাংশ মানুষের জানা ছিল না।সোমবারের পর সবাই জানলো ওখানে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একটা পার্টি অফিস ছিল এবং সেখানে এক ভয়াবহ বিষ্ফোরণে একটা গোটা বাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।কোন প্রাণ হানির ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ দুর হয় নি। তদন্তের নামে ঘটনাটা চেপে দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়ে গেছে,যথারীতি।এলাকার মানুষজন ভয়ে মুখ খুলছে না,অনেকেই পাড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে শুরু করেছে।রাজনীতির কারবারীরা সব যে যার নিজের মতো করে চাপানউতোরে মেতেছে।শুধু কোন অপরাধ না করেও  এলাকার সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়।রাজনীতির দাদাদের হুমকি কারোর কাছে মুখ খোলা যাবে না,এলাকা ছেড়ে আপাতাত চলে যেতে হবে।নিজেদের বাড়ি,কাজকর্ম ছেড়ে পিচকুড়ির সাধারণ মানুষের জীবন যাপন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।এ এক বিচিত্র ব্যবস্থা!রাজনীতির কারবারীরা নানা দুষ্কর্ম করে চলবে আর তার দায় বহন করে যাবেন জনসাধরণ। যে দল রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় আসীন জনসাধারণের নিরাপত্তা দেওয়ার দায় তো তাদেরই বেশি। তাদের পার্টি অফিসে এমন বিষ্ফোরক থাকলে,সরকারের  তো উচিত দ্রুততার সঙ্গে তদন্তের ব্যবস্থা করা।তা না করে সরকার চাইছে বিষয়টা ধামচাপা দিতে।যে রাজনৈতিক দল দাবি করে তারা অহিংসার রাজনীতি করে,খুন নয় গণতন্ত্রের চর্চা করে,তাদেরই পার্টি অফিসে মজুত থাকে ভয়াবহ বিষ্ফোরক দ্রব্য,আর তার বিষ্ফোরণে ধূলোয় মিশে যায় একটা আস্ত বাড়ি।আসলে এভাবে এরা নিজেরাই নিজেদের দ্বিচারিতার মুখোশ খুলে ফেলে কখোন কখোন।পার্টি অফিসে প্রাণঘাতি অস্ত্র মজুত রেখে,গণতান্ত্রীক আন্দোলনকে পুলিশি সন্ত্রাসে দমন করার বার্তা দিয়ে,রাজ্যের শাসকদল মঙ্গলবার রাজ্য জুড়ে রবীন্দ্র জয়ন্তীতে মেতে ছিল।অনেকেই তাই আশঙ্কা করছেন বাঙালির সর্বনাশের ষোলকণা পূর্ণ হতে আর বেশি দেরি নেই,অবশ্য স্বয়ং কবি গুরুই তো বলেছেন -আমি সকল নিয়ে বসে আছি সর্বনাশের আশায় সেই কাজকেই তো তরান্বিত করছেন রাজ্যের শাসক দলের অনুচরেরা। এঁদের রবীন্দ্র ভক্তি নিয়ে তাই সন্দেহ করা কী উচিত!