ভাঙড় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বারবার কথার খেলাপ করছেন!

ভাঙড়ের মানুষ না চাইলে ওখানে পাওয়ার গ্রিড সাবস্টেশন হবে না,একাধিক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা বলেছেন।তবে তাঁর কথা ও কাজের যে বিস্তর ফারাক বারবার তা প্রমাণিত হচ্ছে।সরকার যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো বন্ধ করবে না,তা আবারও পরিষ্কার হল শুক্রবার ভাঙড়ের আর এক আন্দোলনকারী কিসমত লস্করকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে।কিসমত শুক্রবার ব্যবসার কাজে কাশীপুর থানা এলাকায় গেছিলেন,সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রশ্ন হল কেন গণআন্দোলন করার অপরাধে এভাবে একের পর এক আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে,কেন সরকার এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনায় বসছে না,কেন এলাকার মানুষজনকে উত্তেজিত করার যাবতীয় উপকরণ সরকারই সরবরাহ করছে।শুক্রবারের পর আবার ভাঙড় উত্তেজিত হয়ে উঠেছে,দফায় দফায় অবরোধ,ঘেরাও,তৃণমূল পার্টি অফিস ভাঙ্গার ঘটনা ঘটছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।এসব ঘটনার জন্য সরকারের দমন নীতিই দায়ী।খোদ হাইকোর্টের বিচারপতি জানতে চেয়েছেন কোন যুক্তিতে ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে,সরকারী আইনজীবীর যুক্তি বিচারপতিকে খুশি করতে পারেনি।গণপ্রতিরোধ আটকাতে মমতার সরকার ক্রমাগত স্বৈরাচারি পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে,সেই কারণেই একাধিক সমাজকর্মী ও মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।মমতা বলছেন বাইরের লোকজন ভাঙড়ে অশান্তি বাঁধাতে চাইছে,মিথ্যে কথা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী,ভাঙড়ের লড়াই সেখানকার মানুষেরই লড়াই,একবার সেখানে যেতে পারলেন না কেন মুখ্যমন্ত্রী,গেলে বুঝতেন যতোই মুখে মা মাটি মানুষের কথা বলুন না কেন,ক্ষমতার চেয়ার তাঁকে মাটি আর মানুষ থেকে অনেক দুরে সরিয়ে দিয়েছে।ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ আগের সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ যেমন জোট বেঁধেছিল,ভাঙড়ের মানুষও মমতার সরকারের বিরুদ্ধে সেভাবেই জোট বাঁধছে।