বেসরকারী স্কুলের অবৈধ ডোনেশন আদায়ের বিরুদ্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেন না মুখ্যমন্ত্রী

সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা স্কুল গুলো যে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি করতে মোটা ডোনেশন আদায় করে তা মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।বুধবার টাউন হলে বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনায় বসে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।সেখানেই তিনি বলেন বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্রাতিরিক্ত ফি ছাড়াও মোটা ডোনেশন আদায় করে বলে তাঁর কাছেও খবর আছে।তিনি এটাও মেনে নেন যে  স্কুলে ভর্তি করাতেও একটা চক্র কাজ করছে। সব কিছু মেনে নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন বেসরকারী স্কুলে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না।তবে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বেসরকারী স্কুলগুলির ফি সংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য একটি রেগুলারিটি কমিশন তৈরির কথা ঘোষণা করেন।এই কমিশনে রাজ্যের শিক্ষা সচিব ছাড়াও,রাজ্য পুলিশের ডিজি,সিপি,ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রতিনিধি থাকবেন বলে জানানো হয়।প্রায় চার ঘন্টার বৈঠকের পরেও যে প্রশ্নগুলির উত্তর মিললো না,তা  হল,যে সব স্কুল মাত্রাতিরিক্ত ফি ও ডোনেশন আদায় করে তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না,আর্থিক ভাবে দুর্বল ছাত্র ছাত্রীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে কিনা।হেরিটেজ স্কুল গুলো বছরে প্রায় দু লক্ষ টাকা নেয় এক একজন পড়ুয়া পিছু,মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কাছে ফি কমাবার আবেদন করেছেন,আবার একই সঙ্গে হেরিটেজ স্কুলের ঢালাও প্রসংসা করে বলেছেন এই স্কুলগুলো খুব ভাল পাড়াশুনো  করায়।এ রাজ্যে কটা পরিবার মাসে দু লক্ষ টাকা ব্যয় করে তাদের ছেলেমেয়েকে হেরিটেজ স্কুলে পড়াতে পারে?মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন মেনে যদি ফি কমানো হয় তাহলেও তো তা দেড় লক্ষ টাকার কম হবে না,সেই সামর্থ্যই বা কটা পরিবারের আছে!এই সব অলিক স্বপ্ন না দেখিয়ে সরকার কেন সরকারী স্কুলের মান এই সমস্ত বেসরকারী স্কুলের মানের সমকক্ষ করে তুলতে প্রয়াসি হয় না,কেন প্রযুক্তি ইঞ্জিনিয়ারিং সব ক্ষেত্রেই ভরসা শুধু বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি?কেন সরকারী প্রতিষ্ঠান তৈরির কোন উদ্যোগ নেই।মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবসা করার জায়গা নয়,অথচ শিক্ষা আর স্বাস্থ্যকে তাঁর সরকার বেসরকারী ব্যবসাদারদের হাতেই ছেড়ে দিতে চাইছেন কেন,এ প্রশ্নের উত্তর এদিন ও মেলেনি আগামীদিনেও মিলবে না তা বলাই যায়।

,