তৃণমূলের ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হরকাবাহাদুর ছেত্রী

0
23

তিনি উন্নয়নবাদী হিসেবে পরিচিত,পাহাড়ে মমতার উন্নয়নমুখি কাজে সামিল হতেই তিনি মোর্চা ছেড়ে জন আন্দোলন পার্টি তৈরি করে তৃণমূলের সঙ্গে সখ্য গড়েছিলেন। তবে তিনি নিজেই জানিয়ে দিলেন জাতীসত্তার প্রশ্নে তিনি পাহাড়বাসীর সঙ্গেই আছেন।  তাঁর তীব্র আপত্তি যে ভাবে রাজ্য পুলিশ নামিয়ে পাহাড়ের মানুষকে শায়েস্তা করতে চাইছে তা নিয়েও। পাহাড়ের আবেগকে বিজেপিও যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থেই ব্যবহার করে যাচ্ছে সে অভিযোগ তুলতেও তাঁর কোন কুন্ঠা নেই। সাতদিন ডট ইনের সম্পাদক অনুপম কাঞ্জিলালকে  অকপটে জানালেন হরকাবাহাদুর ছেত্রী।

সাতদিন ডট ইনঃ পাহাড়ের বর্তমান পরিস্থির জন্য কাকে দায়ী করবেন?

-হরকাবাহাদুরঃ এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে তৃণমূলের রাজনৈতিক আগ্রাসনের কারণেই পাহাড়ে আবার উত্তপ্ত পরিস্থিতি ফিরে এসেছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমস্যা হল কোন বিষয়টাকেই উনি গভীরে গিয়ে বুঝতে চান না। চটজলদি সমাধান খোঁজেন। কিছু একটা পাইয়ে দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় না। জাতীগত সমস্যার সমাধান তো আরই নয়। তৃণমূল এটা বুঝতেই পারছে না,পুলিশ নামিয়ে,অত্যাচার করে পাহাড়ের মানুষের মধ্যেকার আডেন্টিটি ক্রাইসিসের মোকাবিলা করা যাবে না। এটা সরকার না বুঝলে সমস্যা বাড়বে।

-সাতদিন ডট ইনঃ আপনিও তো উন্নয়নের কথাই বলেছিলেন,সেই সূত্রেই তো মোর্চার সঙ্গে আপনার দুরত্ব এবং আপনি তৃণমূলের কাছাকাছি এসেছিলেন।

হরকাবাহাদুরঃআমি উন্নয়নের কথা বলেছি কিন্তু জাতীগত সমস্যা উন্নয়ন দিয়ে মেটান যাবে কখনো বলিনি। আসলে মোর্চা ও তৃণমূল আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি পাহাড়ের  উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকারের সঙ্গে সখ্য রেখে কাজ করতে চেয়েছি তবে পাহাড়ের স্বাতন্ত্র নিয়ে আমার কোনদিন কোন সংশয় ছিল না।পাহাড়িরা কোন ভাবেই বাঙালি নয়,ভাষা,প্রাকৃতিক পরিবেশ,ভৌগলিক অবস্থান সবটাই আলাদা,তাই আলাদা রাজ্যের দাবি আমাদের সংবিধানই অনুমোদন করে এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।–

সাতদিন ডট ইনঃ কেউ কেউ বলছেন এত ছোট রাজ্য হওয়া সম্ভব নয়।

-হরকাবাহাদুরঃ কেন সম্ভব নয়! সংবিধানের কোথাও লেখা আছে যে আলাদা রাজ্য হতে কতগুলো এমপি,এমএলএ লাগবে,কোথাও বলা নেই। বরং বলা আছে ভাষাগত ফারাক,ভৌগলিক ফারাক,সাংস্কৃতিক ফারাক এসবের উপর ভিত্তি করে একটা জাতীর আলাদা হওয়ার দাবিকে বিচার করতে হবে। সে সূত্রে পাহাড়ের দাবিকে কোন ভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।আর তা ছাড়া মেঘালয় সিকিম যদি হয় পাহাড় নয় কেন?

-সাতদিনডট ইনঃ তার মানে আপনার মতে আলাদা রাজ্যই এখন সামাধানের একমাত্র পথ?-

হরকাবাহাদুরঃ আমি চাইবো রাজ্য আলোচনায় বসুক,যে ভাবে পুলিশি সন্ত্রাস চলছে তা বন্ধ করে অবিলম্বে আলোচনায় বসা উচিত। অচলাবস্থা কাটাতে আলোচনার টেবিলই একমাত্র প্রাথমিক সমাধান। আবার বলছি প্রাথমিক সমাধান।

সাতদিনডট ইনঃ তারপর?-

হরকাবাহাদুরঃতারপর গোর্খাল্যান্ডের দাবির সারবত্তা নিয়ে দীর্ঘ প্রয়াস চালাতে হবে,বোঝাতে হবে আমাদের দাবি সাংবিধানিক। এটা একদিনে হবে না প্রয়াসটা চালিয়ে যেতে হবে তবে পুলিশ যে ভূমিকা নিচ্ছে তাতে পাহাড়ে মানুষের মৃত্যু হবার আশঙ্কা থাকছে। পুলিশ প্রশাসনেরও নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে।ভায়োলেন্স বাড়তে দিলে তা বাড়তেই থাকে,ভায়োলেন্স দিয়ে কোন সমস্যার সমাধান হয় না।

-সাতদিন ডট ইনঃ আপনিতো মুখ্যোমন্ত্রীর পছন্দের মানুষ বলেই পরিচিত। আপনি তো এই সময় একটা মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারতেন। মনে হয় না যে সরাসরি গোর্খাল্যান্ডের দাবিকে সমর্থন করে ফেলায় আপনি সরকারের আস্থা হারালেন?

হরকাবাহাদুরঃদেখুন আমি যেটা বিশ্বাস করি সেটাই প্রকাশ করেছি।আমার বিশ্বাসটা যে অযৌক্তিক নয় তর্ক-বিতর্কে আমি তা প্রমাণ করতে রাজি,কিন্তু সরকারের আস্থাভাজন থাকতে আমি তো আমার বিশ্বাসের সঙ্গে প্রতারণা করতে পারি না।-সাতদিনঃপাহাড় নিয়ে বিজেপির ভূমিকা কি বুঝছেন?-হরকাবাহাদুরঃবিজেপির অবস্থান ভাল নয়।দুবার  মোর্চার সমর্থনে এমপি পাঠান হয়েছে কিন্তু কোন ভূমিকা নেই তাদের।পাহাড়ের মানুষের আবেগ,তাদের জাতীসত্তাকে গুরুত্ব দেওয়ার চেয়েও এ রাজ্যের বিজেপি এখন রাজ্যে তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশি ব্যস্ত তাই বাংলা ভাগ হতে না দেওয়ার অযৌক্তিক আবেগকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।-

সাতদিন ডট ইনঃ তারমানে আপনি মনে করেন বাংলা ভাগ হতে না দেওয়ার স্লোগানটা অযৌক্তিক।

হরকাবাহাদুরঃ দেখুন আমি বাংলার আবেগকে অপমান করতে চাই না,কিন্তু কোন যুক্তিতে পাহাড় বাংলার অংশ বলুনতো!ভাষা,ভৌগলিক অবস্থান,সংস্কৃতি,চেহারা কোনটাই কি পাহাড়িরা বাঙালিদের মতো!তা হলে কেন অনেকদিন আগের একটা চাপিয়ে দেওয়া বিষয় এভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে।-

সাতদিন ডট ইনঃ সাম্প্রতিক সময়ে এ রাজ্যের মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে আপনার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইবো,কারণ ইতিমধ্যেই মোর্চার তরফে রাজ্যের মিডিয়ার বিরুদ্ধে গোর্খা বিদ্বেষের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

হরকাবাহাদুরঃ দেখুন এ রাজ্যের মিডিয়াকে যে সরকারি চাপের মধ্যে থেকে কাজ করতে হয় তা আমি জানি,ফলে স্বাধীন মিডিয়া বলে এখানে তেমন কিছু নেই। এটা এখন থেকে নয় অনেকদিনের অভ্যাস।কিন্তু তবুও যে ভাবে সরকারের বক্তব্যকেই খবর বলে প্রচার করা হচ্ছে তাতে আমার আপত্তি আছে। বিমল গুরুং এর বাড়িতে পুলিশ অস্ত্র পেয়েছে এতো পুলিশ বলছে,পুলিশ তাদের কাজকে সঠিক প্রমাণ করতে ঘটনা সাজায় এটা নতুন কথা নয়,সংবাদ মাধ্যমের উচিত ঘটনা যাচাই করা,প্রশাসনের প্রচারকে খবর বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।মিডিয়া এটা করছে না এটা দুঃখের খুবই দঃখের।আপনাকে জানি চিনি বলেই বলছি এটা হতে থাকলে মিডিয়ার বিশ্বাস যোগ্যতা নষ্ট হতে বাধ্য।-

সাতদিন ডট ইনঃআপনি তাহলে মোর্চার সঙ্গে থেকেই আন্দোলন করবেন এখন?

হরকাবাহাদুরঃ না আমি আলাদা আন্দোলন করবো,আমি আমার দলের পক্ষ থেকে বলেছি যদি মোর্চা জেটিএ থেকে বেড়িয়ে আসে,আর ভোটে না যায় তাহলে ইস্যু ধরে আমরা মোর্চার সঙ্গে আন্দোলন করবো।আমি আবারও বলছি জাতীসত্তার প্রশ্নে আমি পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে ছিলাম আছি ও থাকবো।কেউ যদি আমাকে ভুল বোঝে সেটা তার বা তাদের দায় আমার নয়।