হাসি ছেড়ে পাহাড় এভাবে জ্বলে উঠল কেন?

0
2

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর থকে পাহাড় হাসছে একথা কতবার যে রাজ্যবাসীকে শোনানো হয়েছে তা বোধহয় গুণে শেষ করার নয়।গত কয়েকদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়েই আছেন,তাঁর সঙ্গে রয়েছেন একঝাক সাংবাদিক,তাঁরা গত কয়েকদিন ধরে অবিরাম বলে গেলেন মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের বার্তায় পাহাড়বাসী আপ্লুত,পাহাড়ের হাসি নাকি মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পর আর চওড়া হবে।অথচ আমরা গত কয়েকদিন ধরে এই সাতদিন ডট ইনের পাতায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর ঘিরে যে অসন্তোষের মেঘ পাহাড় বাসীর মধ্যে জমছে তার ইঙ্গিত দিয়েছিলাম।বৃহস্পতিবার পাহাড়ে রাজ্যের ক্যাবিনেট মিটিং শেষ হতেই দেখা গেল পাহাড়ের অসন্তোষ আগুন হয়ে জ্বলতে শুরু করেছে।রাজ্যের তাবড় মিডিয়া যারা গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে উন্নয়ন আর হাসি ছাড়া কিছুই দেখতে পায়নি তারা এখন বলছে মোর্চার নেতারা গন্ডোগোল পাকিয়েছে।রাজ্য প্রশাসন এখন মোর্চার নেতাদের ধরতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।আমরা এখনও বলছি মোর্চা প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছে সন্দেহ নেই,তবে সংখ্যাগরিষ্ট পাহাড়বাসীর এই প্রতিবাদে বিক্ষোভে স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন আছে।তা না হলে কিছুতেই প্রতিবাদ এমনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে না।পাহাড়ের সমস্যা শুধুমাত্র আইন শৃঙ্খলার সমস্যা নয়,পাহাড়বাসীর জাতীগত আত্মপরিচয়ের সমস্যা রয়েছে।এই সমস্যা আজকের নয় দীর্ঘ দিনের।যে জাতি আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে তাকে বন্দুক বা প্রশাসন দিয়ে চিরদিন দাবিয়ে রাখা যায় না।সমস্যাটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর,তাই এর মোকাবিলা করতে দরকার গভীর সংবেদনশীলতা,মানবিকতা।শুধুমাত্র রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির অঙ্কে দিয়ে এই সমস্যার সমাধান পৃথিবীর কোথাও হয়নি,এখানেও হবে না।পাহাড়কে আর স্বশাসন দেওয়ার দরকার ছিল,দরকার ছিল পাহাড়িদের হাতেই পাহাড়ের উন্নয়নের ভার ছেড়ে দেওয়ার।পাহাড়কে যদি বোঝান যেত রাজ্যের শাসক দলের আওতার বাইরে থেকেও তারা উন্নয়নের রসদ পেতে পারে,পেতে পারে গণতন্ত্রের স্বাদ,বঙ্গবাসীর মধ্যে থেকেও তাঁরা তাঁদের স্বতন্ত্র বজায় রাখতে পারে,এমন আশ্বাসের চাদরে যদি মুড়ে দেওয়া যেত গোটা পাহাড়বাসীকে,কে বলতে পারে তাহলে পাহাড় সত্যি সত্যিই হেসে উঠতো না?না আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তেমন করে ভাবেন না,তাঁর দল তাঁর সরকার ছাড়া কারোর হাতে তিনি উন্নয়নের লাগাম ছাড়বেন না।পাহাড়েও তাঁর দলের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে,তাই মোর্চা নেতাদের দল ভাঙিয়ে নিজের দলে আনতে হবে,পাহাড়ের স্বাধিকার ছিনিয়ে নিজের লোক ঢোকাতে হবে,মোর্চাকে দুর্বল করতে প্রশাসনকে ব্যবহার করতে হবে।তৃণমূলের ছত্রছায়া ছাড়া কোথাও গণতন্ত্রের বিকাশের রাস্তা নেই।না মুখ্যমন্ত্রী,এই প্রক্রিয়ায় পাহাড় কোনদিন হাসবে না।আমরা জানি অনুগত মিডিয়ার সাহায্য নিয়ে আগামি কিছুদিন আপনি প্রচার চালাবেন কী ভাবে একদল খারাপ লোক পাহাড়ের উন্নয়ন বন্দ করতে ষড়যন্ত্র করছে,আপনার ক্ষমতার মধু খাওয়া সাংবাদিক নামধারি কিছু আকাট অশিক্ষিত লোভি ব্যক্তি আপনার উন্নয়নের বাদ্যি বাজিয়েই চলবে।এই সুযোগে বেশ কিছু পাহাড়িকে জেলে ভরবে আপনার প্রশাসন,প্রশাসনিক সন্ত্রাস শুরু হবে পাহাড় জুরে। আপনি ইতিমধ্যেই যেমন পাহাড়ে সমস্ত কেবল চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন যাতে প্রশাসনের অত্যাচারের খবর প্রচার না হতে পারে,তেমনি নিশ্চয়ই অনুগত মিডিয়াকে বিজ্ঞাপনের টোপ দিয়ে মিথ্যে প্রচারের প্রতিশ্রুতিও আদায় করেছেন।আমরা বলছি শুনুন,ভয়াবহ সন্ত্রাসের আওতায় এনে আপনি পাহাড়ের দখল নিতেই পারেন,হয়তো নেবেনও কিন্তু পাহাড়কে হাসাতে পারবেন না,কোনদিন না।যেহেতু মালিক আর সরকারের জো হুজুরে সাংবাদিকতা থেকে আমরা বরাবর ব্যবধান বজায় রাখটাকে সাংবাদিকতার আদর্শ বলে মেনে এসেছি,তাই এই সত্য উচ্চারণে আমাদের কোন জড়তা নেই।