আইনসভা গণতন্ত্রের মন্দির নাকি প্রহসনক্ষেত্র!

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করা মানুষমাত্রই মনে করেন আইনসভা হল গণতন্ত্রের মন্দির।তবে এদেশের আইনসভাগুলোতে এমন বিচিত্র সব কান্ডকারখানা ঘটে চলে তাতে সাধারণ মানুষের মনে ধন্দ তৈরি হতে বাধ্য যে আইনসভাগুলো সত্যিই গণতন্ত্রের মন্দির,নাকি গণতন্ত্রের প্রহসন ক্ষেত্র?যেমন সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন এ রাজ্যের বিধানসভায় বিচিত্র সব কান্ড ঘটল।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে এসেছিলেন সব বিধায়ক ও সাংসদরা,তার মধ্যেই বিজেপির বিধায়ক দিলীপ ঘোষের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে তেড়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল,বললেন মমতার দয়াতেই নাকি দিলীপবাবুরা এ রাজ্যে থাকতে পারছেন,তা না হলে নাকি তাদের ঠেলা গাড়িতে চাপিয়ে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিতেন।দিলীপ ঘোষও ছাড়বার পাত্র নন তিনিও পাল্টা গলা চড়িয়ে পরেশ পালের দিকে তেড়ে যেতে থাকেন,একেবারে ধুন্দুমার অবস্থা,সেই দৃশ্য দেখে তখন বোঝার উপায় নেই যে সেটা বিধানসভার অলিন্দ নাকি পাড়ার মস্তানদের আঁখড়া।এরপর পাহাড়ের জনমুক্তি মোর্চার বিধায়কদেরও পরেশ পালের চোখ রাঙানির মুখে পড়তে হয়।নিজের এলাকায় পরেশ পাল বাহুবলি বলেই পরিচিত,এখন বিধানসভার অলিন্দে বসেও গণতন্ত্রের চর্চা ছেড়ে তিনি বাহুবল দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে তাকে দোষ দেওয়া যায় না।আর তাছাড়া এ রাজ্যে বাহুবলেই যে ভোটে জেতা যায় তা তো পরেশ পালরা ভালই জানেন।এরই মধ্যে আবার গণতন্ত্রের নব্য সাধক অভিনেত্রী মুনমুন সেন এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করলেন তিনি গোপাল কৃষ্ণ গান্ধীকে ভোট দেবেন কি না!মমতা মুনমুনকে বলে দিলেন গোপালকৃষ্ণ গান্ধী উপরাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী,সোমবারের ভোট রাষ্ট্রপতি পদের জন্য।বোঝা গেল সাংসদ মুনমুন সেন জানতেনই না যে কে রাষ্ট্রপতি পদে লড়াই  করছেন।এই হল আমাদের গণতন্ত্রের সৈনিকদের হাল।এ সব দেখে আইনসভাগুলোকে গণতন্ত্রের মন্দির ভাবার ভরসা সাধারণ মানুষ কী আর বেশী দিন ধরে রাখতে পারবে,সে বিষয়ে সন্দেহ হচ্ছে।