পাহাড়ের মানুষের প্রতি সাংবিধানিক দায় পালন করুক রাজ্য সরকার

আবার অশান্তির আগুন পাহাড়ে।শনিবার সকালে পাহাড়ের একাধিক এলাকায় মোর্চার সমর্থকরা মিছিল করে,বিক্ষোভ দেখায়।যে ভাবে রাজ্য প্রশাসন পাহাড়বাসীদের কাছ থেকে সংবাদ শোনা ও দেখার অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে তার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পরতে দেখা যায় পাহাড়ি যুব সম্প্রদায়কে।গোটা পাহাড়ে নেট পরিষেবা ও খাদ্য সরবরাহ বন্ধ রেখে পাহাড়বাসীর গণতান্ত্রীক অধিকার হরণ করা হচ্ছে বলে মোর্চার পক্ষ থেকে এদিন অভিযোগ করা হয়।বিক্ষোভকারীরা এদিনও বেশ কিছু সরকারি ভবনে আগুন লাগায় বলে খবর।পাহাড়ে যখন লাগাতার এরকম অশান্তির ঘটনা ঘটে চলেছে তখন সেখানে দেখা মিলছে না সেখানকার সাংসদের।দার্জিলিং এর বিজেপি সাংসদ এখন কোথায় কেউ জানেন না।রাজ্য প্রশাসনও সমস্যা সমাধানে উদাসীন।মানুষের হতাশা ক্ষোভের নিরসনে দরকার যে গণতান্ত্রীক উদ্যোগ,যে সহমর্মী মানসিকতা কোথাও তার দেখা মিলছে না,ক্রমশ এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে যেন এগিয়ে চলেছে গোটা পাহাড়।পাহাড়কে রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে যারা বুকের রক্ত দিয়ে বাংলা ভাগ রোখার শ্লোগান  দিচ্ছেন তারাও বোধহয় মাথায় রাখছেন না,এই দাবি তুললে পাহাড়ের মানুষকে এ রাজ্যের নাগরিক বলে মেনে নিতে হয়,আর তখন সহনাগরিকের প্রতি রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের দাবিতেও সোচ্চার হতে হয়।গত কয়েক মাস ধরে পাহাড়ে খাবার সরবরাহ অনিয়মিত,যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা বন্ধ,সংবাদ চ্যানেল,নেট পরিষেবা স্তব্ধ,সরকারের মদতে এসব চলছে,ক্ষোভ  বাড়ছে পাহাড়বাসীর।এরই মধ্যে পলিশ ও আধাসেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে পাহাড়ের বেশ কিছু মানুষ,কোন তদন্ত হয়নি,সরকার গুলি চলেনি বলে দায়সারা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।যারা বলছেন পাহাড়ে ওরা বিক্ষোভ দেখাবে,সরকারি সম্পত্তিতে আগুন দেবে তাই ওদের জব্দ করতে সরকার যদি খাদ্য ও নিরাপত্তা তুলে নেয় তাতে অন্যায় কিছু নেই,তারা  বোধহয় সংবিধান স্বীকৃত এদেশের সরকারের ভূমিকা সম্পর্কে অবগত নন,সাধারণ নাগরিকের ক্ষোভ হতাশাজনিত কোন আচরণের কারণে সরকার তার দায়বদ্ধতা তুলে নিতে পারে না,কোন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও সরকারের নৈতিক মাপকাঠি কোনভাবেই একরকম হতে পারে না,দাঁতের বদলে দাঁত,খুনের বদলা খুন,ভারতীয় সংবিধান কোন নির্বাচিত সরকারকেই এই নীতিতে চলার অনুমোদন দেয় না।তাই নাগরিক যাই করুক না কেন,সরকার তার দায়বদ্ধতা থেকে সরতে পারে না।পাহাড়ের ক্ষেত্রেও এটা সত্য,তাই অবিলম্বে সেখানে গণতান্ত্রীক প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।পাহাড়ি মানুষের ক্ষোভ হতাশা জাতীগত একাকীত্ব সবকিছু নিয়েই আলোচনা দরকার,তবে সবার আগে দরকার সেখানকার মানুষের বেঁচে থাকাটা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যেগ,সেটাই গণতান্ত্রীক সরকারের দায়বদ্ধতা।