মেঘনাথ বধ রহস্যঃথ্রিলারে ভর করে সাহসী রাজনৈতিক বক্তব্য

তাঁর প্রথম ছবি থেকেই এক শ্রেণীর দর্শকের আগ্রহ তৈরি করতে পেরেছিনেন পরিচালক অনীক দত্ত।তৃতীয় ছবি মেঘনাথ বধ রহস্যতেও সেই আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন অনীক।থ্রিলারে ভর করেই রাজনৈতিক বক্তব্য রেখেছেন,এবং বেশ সাহসের সঙ্গেই রেখেছেন।দেশ এবং রাজ্যে যখন শিল্প-সংস্কৃতির কারিগড়রা সরকারি আনুকুল্য লাভের তাড়নায় হাঁ-হাঁ বলা সঙ সাজতে লম্বা লাইন তৈরিতে ব্যস্ত,তখন অনীক আলো ফেলতে চেয়েছেন সত্তরের সেই উত্তাল সময়ের উপর,যে সময়ের  যুবকেরা এক আশ্চর্য সূর্যদয়ের স্বপ্ন দেখতো,যখন শুধু তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তানের বাইরেও জগত অনেকটা বিস্তৃত ছিল।সেই সময়টা কোথায় হারিয়ে গেল,কেন হারিয়ে গেল,কেউ কেউ কি সেই আন্দোলনে থাকাকে ব্যবহার করে কেরিয়ার তৈরি করেছে,চরম বিশ্বাসঘতকতা করেছে কোন কমরেডের সঙ্গে?নাকি তাদেরও কোন মধ্যবিত্ত দোদুল্যমানতার বলি হতে হয়েছিল?আমরা সকলেই জানি সত্তরের দশক মুক্তির দশক হয় নি,কিন্ত সত্তরের অনেক প্রশ্নও তো অমিমাংসিত থেকে গেছে,সেই প্রশ্ন গুলোকেই উসকে দিয়েছে অনীক দত্তের এই ছবি।ছবিতে সত্তরের কুখ্যাত পুলিশ অফিসার রুনু গুহনিয়োগী সুনু গুহনিয়োগী হয়েছে,এপিডিআর হয়েছে ওপিডিআর,বাস্তবের ছায়াকে অস্বীকার করতেই চাননি পরিচালক,সেই জন্যই সরাসরি বলে দিতে পারেন রাজনৈতিক ছবি করতে মেরুদন্ডের জোর লাগে।সেই সূত্রেই মাটি শব্দটাকে ধরে এ রাজ্যের শাসক দলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েন না।সকলে ভাল অভিনয় করেছেন,তবে সিনেমায় মেঘনাথ বধের রহস্য উদঘাটন হলেও বাস্তবে মেঘনাথ বধের রহস্য আদৌ জানা যায় কিনা সে প্রশ্নের উত্তর খোঁজার দায় দর্শকদের উপর ছেড়ে দেওয়াই ভাল।শেষে আবারও এই বন্ধ্যা সময়ে এমন সাহস দেখাতে পারায় অনীক দত্তকে শাবাসি দিতেই হচ্ছে