এই মৃত্যুমিছিল আমাদের লজ্জা!

0
17

আগষ্ট মাস এদেশের স্বাধীনতার মাস,দেশপ্রেমের আবেগে তাড়িত হওয়ার মাস অথচ এই মাসটাতেই এ রাজ্যে একের পর এক ঘটে চলেছে বধূ নির্যাতন আর বধূ হত্যার ঘটনা।যেন বধূ নির্যাতনের মিছিল শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে,৯ থেকে ২০ আগষ্ট পর্যন্ত কতগুলো ঘটনা ঘটল?আসুন পরিসংখ্যানটাতে একটু চোখ বুলিয়ে নিই,মানিকতলায় নন্দিতা সরকার বিশ্বাস মানে এক গৃহবধূর রহস্য মৃত্যু হয়েছে এই সময়ের মধ্যে।পণের দাবিতে খুনের অভিযোগ উঠেছে নন্দিতার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে।বীরভূমের শান্তিনিকেতনে রহস্য মৃত্যু হয়েছে সবিতা মিশ্র নামে এক বধূর,সদ্য বিয়ে হয়েছিল তার।শ্বশুরবাড়ির তিনজন আটক হয়েছে নববধূ সবিতাকে হত্যার অভিযোগে।ফুলবাগান থানা এলাকায় মৃত্যু হয়েছে রূপালি দাস নামে এক বধূর।পুলিশি তদন্তে জানা গেছে রূপালির বিয়ের বয়সই হয়নি,সে ছিল বালিকা বধূ।তাকে হত্যার অভিযোগে ধৃত স্বামী।কলকাতারই মানিকতলায় এই সময়ের মধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন এক গৃহবধূ অর্পিতা চট্টোপাধ্যায়।মৃত্যুর সময় তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।মানসিক ও শারিরীক অত্যাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে অর্পিতার স্বামী।অশোকনগরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে গ্রেপ্তার হয়েছেন এক গৃহবধূর স্বামী।অসীমা পাল নামে এক গৃহবধূকে ইটের আঘাতে থেঁতলে মেরে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে নদিয়ার শান্তিপুরের এক ব্যক্তি।অসিমা পালের অপরাধ তিনি পর পর দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।এই সময়ের মধ্যেই আত্মঘাতী হয়েছেন দমদমের শ্রাবন্তী মিত্র।শ্রাবন্তী উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী ছিলেন,শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে তা নিয়েই অশান্তি,তারপর নির্যাতনের অভিযোগ।পণের দাবি না মেটাতে পারায় অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রুবিনা খাতুন কে আ্যসিড খাইয়ে খুনের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে,ঘটনাটা ঘটেছে এই সময়ের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে।বর্ধমানের আউশগ্রামে পণের দাবিতে এক বধূকে খুনের চেষ্টা করে শ্বশুর বাড়ির লোকজন কোনক্রমে রাতের অন্ধকারে ৪০ কিলোমিটার রাস্তা সাইকেলে পাড়ি দিয়ে প্রাণ বাঁচান ঐ বধূ।ঘটনা গুলো ঘটে যাচ্ছে একের পর এক,এই ধারাবাহিক বধূ হত্যা মিছিল আমাদের সমাজ সভ্যতার লজ্জা নয় কি?