স্বাধীনতা@৭০, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ও লজ্জা!

0
15

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পোশাকে যেমন পরিপাটি তেমন বলেনও বেশ ভাল। গতলোকসভা ভোটের আগে তিনি নতুন ভারত গড়তে ৫ বছর চেয়েছিলেন ভোটারদের কাছে। এবারের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে সেটাকে একটু বাড়ি ২০২২ পর্যন্ত করেছেন। সে যাই হোক ।  মোদি যে নতুন ভারত গড়তে চান তা তিনি প্রায় রোজই একবার বলেন। তা সে শৌচলায় নির্মাণ থেকে শুরু করে নোট বাতিল প্রসঙ্গে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে মোদি জানিয়েছেন যারা গরীবের টাকা লুট করেছে তারা শান্তিতে ঘুমতে পারবে না। নোট বাতিলের পর ব্যাঙ্কে জমা ১লক্ষ ৭৫ হাজার কোটি টাকার উপর নাকি আয়কর দফতরের নজর রয়েছে। ১৮ লক্ষ লোক যাদের আয়ের সঙ্গে সম্পত্তির সঙ্গতি নেই তারাও নজরে রয়েছে আয়কর দফতরের। এমনটাই জানিয়েছেন লালকেল্লার ভাষণে। তাবেশ ভাল কথা। কিন্তু  বড় বড় শিল্পপতিরা ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে বেমালুম হজম করে ফেলছেন। কয়েক লক্ষ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি করলেও তাদের নাম প্রকাশ করতে নারাজ ব্যাঙ্ক বা কেন্দ্র । তাদের উপর সরকারের নজরদারিতো দূরের কথা। তাদের নাম পর্যন্ত জনসাধরণকে জানাতে রাজি নয় মোদি সরকার।   কয়েকদিন আগে সংসদীয় কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভরনর উর্জিত প্যাটেল। এক সদস্য নাকি তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন  ১২জন শিল্পপতির নাম যারা অনাদায়ী ব্যাঙ্ক ঋণের ২৫ শতাংশের জন্য দায়ী। ওই পর্যন্তই নাম  প্রকাশ করে তাদের লজ্জায় ফেলতে রাজি নয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা কেন্দ্র।

 এদেশে প্রকাশ্যে শৌচকরার জন্য মহিলাদের ছবি তুলে রেখে তাদের  ‘লজ্জায়’ ফেলার চেষ্টা হয় ।  এদেশেই আমি গরীব তাই সরকারি সাহায্যের রেশন নিয়ে বলে বাড়ির গায়ে পোস্টার সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। সেদেশে স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে নতুন কিছু আশা করা যায় কি?