আয় কান্না ঝেপে জীবন দেবো মেপে

সন্দেশখালির বৃদ্ধা কী জানতেন প্রতিবাদের মাসুল দিতে তাকে নারীত্বের চরম অপমান সহ্য করতে হবে। বলি চড়াতে হবে জীবন,জানতেন না নিশ্চয়ই। তিনিইতো এই সমাজটাকে মনুষ্যসমাজ,সভ্য সমাজ বলেই চিনতে শিখেছিলেন। অন্য আর াঅনেকের মতো।তাই তো সন্তানতুল্য মদ্যপ একদল যুবকের অশ্লীল বাওয়ালির প্রতিবাদ করাটা স্বাভবিক দায় বলে বিবেচনা করেছিলেন।আর সেখানেই বড় ভুল করে বসেছিলেন তিনি।সমাজের আসল চেহারাটা বেআব্রু করতে জীবন দিতে হল তাকে।প্রাণের বিনিময়ে সন্দেশখালির অনামি বৃদ্ধা সমাজের  সভ্যতার চাদর তুলে দেখিয়ে গেলেন এখানে থিক থিক করছে তেমন মানুষ যাদের জানোয়ার জন্তু বললে,জঙ্গলরাজকেও অপমান করা হয়। না জন্তু জানোয়াররাও এতটা অসভ্য-নোংরা হয় না।বৃদ্ধা মহিলাকে ধর্ষণ করার পর তার যৌনাঙ্গে মদের বোতলের কাচ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে,আহা!সমাজের উন্নয়নের প্রমাণ স্মারকের চিহ্ন হিসেবেই হয়তোবা।প্রশাসন কতটা আলগা হলে দুষ্কৃতিদের এমন দৌরাত্য লাগামহীন ভাবে চলতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। তবু কী আশ্চর্য! এই সময়-সমাজ নিয়ে আমাদের কোন লজ্জা নেই,আমরা লজ্জা পেতে ভুলে গেছি,এর পরেও আমরা বাংলা বাঙালির সংস্কৃতি নিয়ে গরব দেখাই,মনুষ্যত্বের বড়াই করি। হায় আজ আমাদের সেই জনের খুব দরকার যিনি,আমাদের ধিক বলতে পারে,বলতে পারে তোরা মাতৃ গর্ভের লজ্জা,যিনি এ রাজ্যের অধিকাংশ বেহায়া বিশিষ্টজনদের মানুষ হওয়ার মন্ত্র দিতে পারেন।এমন ভয়াবহ ঘটনার পরেও আমরা কাঁদিনা,কান্না আসে না আমাদের,কবে আসবে কান্না,যে কান্না আমাদের জন্য পরিশুদ্ধতার আশ্বাস নিয়ে আসবে,আসবে কী সে কোনদিন!যাকে আমুল জরিয়ে ধরে জীবনের সব গ্লানি ভুলে বলতে পারবো,আয় কান্না ঝেপে জীবন দেবো মেপে। লাভপুর,কামদুনি,বিরাটি,পার্কস্ট্রিট,রাণাঘাট,পেরিয়ে সন্দেশখালি–আর কত জীবন মেপে দিলে কান্না তুমি আসবে বলতো?