জনসাধারণের হাতে তৈরি হোক দেশপ্রেমের নতুন বর্ণমালা

মাঝে আর মাত্র একটা দিন,তারপর স্বাধীনতার উদযাপনে মেতে উঠতে হবে আমাদের। আমাদের মানে এদেশের সাধারণ নাগরিককে।এবার এ দেশের স্বাধীনতা ছুঁয়ে ফেলবে ৭০ বছরের সময়সীমা।দেখতে দেখতে বুড়ো হয়ে গেল আমাদের স্বাধীনতা।কী জানি তাই হয়তো এ দেশের নেতা মন্ত্রীদের মনে কিছু সন্দেহের মেঘ জমেছে,যে আমজনতা বুড়ো স্বাধীনতাকে তেমন পাত্তা বা সম্মান নাও দিতে পারে,আর সেই জন্যই হয়তো ঘটা করে স্বাধীনতা পালনের নিদান দেওয়া শুরু হয়েছে খোদ প্রশাসনিক মহল থেকে।কেন্দ্র ও রাজ্য দুদিক থেকেই এই ফরমানের বার্তা দিকে দিকে রটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই স্বাধীনতা যতোই বুড়ো হোক,তার প্রতি ভালবাসায় কোন ঘাটতি পরা চলবে না,এই ১৫ আগষ্টে আম আদমিকে প্রমাণ দিতেই হবে যে সে দেশপ্রেমিক।এখন প্রশ্ন হল, আমজনতার দেশপ্রেমের পরীক্ষা নেবেন কারা?কাদের কাছে দিতে হবে দেশপ্রেমের পরীক্ষা? সেইসব নেতা নেত্রীদের কাছে,যারা আপাদমস্তক দূর্নীতিগ্রস্ত,যারা একদলের হয়ে ভোটে জিতে রাতারাতি অর্থের প্রলোভনে অন্য দলে নাম লেখায়,যারা ক্ষমতার অলিন্দে প্রবেশ করার তাড়নায় গোটা দেশে ধর্ম আর জাত পাতের বিভাজনকে উসকে দেয়। যারা গরীব কৃষক ঋণ মকুবের দাবিতে পথে নামলে,বুলেটের আঘাতে তাদের বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়?নাকি তারা নেবেন দেশপ্রেমের পরীক্ষা,যারা এরাজ্যের ভাঙড়ে প্রতিরাতে পুলিশ পাঠিয়ে প্রতিবাদী মহিলাদের শ্লীলতাহানী করিয়ে চলেছেন, যারা রাজ্য জুড়ে লাগামহীন ঘুষ আর সিন্ডিকেটের জাল ছড়িয়ে অতনু,চৈতালিদের মতো তরুণ প্রজন্মকে শুধু আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়ে চলেছে। যারা পার্কস্ট্রিটের গণধর্ষণের ঘটনা কে ছোট ঘটনা বলে,বিরাটি,রাণাঘাট,কামদুনি,লাভপুর,রায়গঞ্জ,সন্দেশখালির গণধর্ষণকে পরোক্ষভাবে মদত জোগায়,তারা নেবেন সাধারণ নাগরিকের দেশপ্রেমের পরীক্ষা?আমাদের প্রশ্ন, কোন নৈতিক অধিকারে এই সব নেতা নে্ত্রীরা সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমের পরীক্ষা চান?তার চেয়ে বরং এরাই প্রমাণ দিন যে এদের হাতে দেশের স্বার্থ নিরাপদ।দেশের স্বার্থ মানে অবশ্যই দেশের মানুষের স্বার্থ,এই সব নেতা নেত্রীরা জবাব দিন কেন মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেন,কেন এদেশের অসংখ্য মানুষ দু বেলা পেট ভরা খাবার না পাওয়া সত্ত্বেও আপনারা ভোগ বিলাসে মত্ত থাকেন? কোন যাদুমন্ত্রে রাজনীতি করেও আপনাদের সম্পত্তি বছরে বছরে হু হু করে বেড়ে যায়? ।এক দলের টিকিটে জিতে অন্য দলে ঢুকে গিয়ে মানুষকে    প্রতারণা করেন কেন?এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর না পাওয়া গেলে এই সব নেতা নেত্রীদের কাছে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দেওয়া তো দুরের কথা,এদের হাতে দেশ ও রাজ্য শাসনের ভার তুলে দেওয়া কতটা সঙ্গত তাও ভাবা উচিত এ দেশের আমজনতার।এদের দেশপ্রেমের উন্মাদনায় ভাসার আহ্বানের পাল্টা হিসেবে,বলাই যেতে পারে বলুন তো মহামান্য দেশনেতা ও নেত্রী মহোদয়গণ,উত্তরপ্রদেশে যে শিশুরা শুধুমাত্র চিকিত্সা বিভ্রাটে জীবন থেকে হারিয়ে গেল তাদের পরিবার কোন যুক্তিতে মাতবে স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে!এতগুলো ফুলের মতো জীবন ঝরে যাওয়ার দায় নিয়ে এখনও তো কোন দেশপ্রেমিক নেতাকে মানুষের কাছে নতজানু হয়ে ক্ষমা ভিক্ষা করতে দেখা গেল না! বলুন তো মাত্র কয়েক দিন আগে যে বেকার ছেলেটি এ রাজ্যের সোনারপুরে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিয়ে চাকরি নিতে হবে জেনে,ঘুষের টাকা জোগার করা যাবে না বুঝে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েছিল তার পরিবার কোন যুক্তিতে স্বাধানতার উন্মাদনায় নেচে উঠবে? কিংবা সন্দেশখালির সেই বৃদ্ধার পরিবার,যে বৃদ্ধা একদল মদ্যপ যুবকের অশ্লীল বাওয়ালির প্রতিবাদ করার অপরাধে তার হাটুর বয়সী একদল লম্পটের প্রতিহিংসার শিকার হন,যার যৌনাঙ্গে মদের বোতলের ভাঙ্গা কাচ ঢুকিয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল একদল দুপায়ে হাঁটা জন্তু,এবং যার অন্তিম পরিণতিতে ঐ বৃদ্ধা মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। তার পরিবারই বা কোন যুক্তিতে মেতে উঠবে স্বাধীনতার হুল্লোরে!ভাল রেজাল্ট করেও টাকা দিয়ে কলেজে ভর্তির সামর্থ্য না থাকায় চৈতালি নামের যে মেয়েটা জীবনে ইতি টেনে চলে গেল,কোন যুক্তিতে,কোন নৈতিকতায় তার পরিবারকে এ দেশের নেতা নেত্রীরা স্বাধীনতার উচ্ছ্বাসে মাতার ফরমান শোনাবে?এসব উদাহরণ সামান্য যা খবরে এসে পড়েছে,এর বাইরে এদেশে এরকম অজস্র ঘটনা ঘটে চলেছে যা আমরা অনেকেই জানতে পারিনা।এদেশের ঘরে ঘরে বেকারী,না খেতে পাওয়া,আদিবাসী মানুষের জীবনের রসদ কেড়ে নিচ্ছে বড় বড় কর্পোরেট পুঁজিপতির দল,আর তাতে মদত জোগাচ্ছে সরকার,জমি জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে ভূমিপুত্রদের,শুরু হয়েছে সরকার আর কর্পোরেটওয়ালাদের অশুভ আঁতাত ।না কোন বানানো কথা নয় চোখ কান খোলা রাখলে যে কেউই এই  খেলাটা ধরতে পারবেন,আর এই সময়তেই তাই বেশী করে মানুষকে শর্তহীন দেশপ্রেমের আবেগে ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।সাধারণ মানুষ দেশপ্রেমের পরীক্ষা অনেক দিয়েছে,এবার সাধারণ মানুষের দিক থেকে জানতে চাওয়া হোক সেই ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট দেশের মানুষকে মাঝরাতের ঘুম থেকে তুলে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু ঘোষণা করেছিলেন,যখন গোটা পৃথিবী ঘুমিয়ে ভারত তখন যাত্রা শুরু করলো উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে।৭০ বছরেও সেই উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কেন এদেশের সব মানুষের জন্য দু বেলা পেট ভরা খাবারের ব্যবস্থা করতে পারলো না?কেন দিতে পারলো না সবার জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য?কেন শৈশবকে দিতে পারলো না নিরাপত্তা?কেন মহিলাদের সমান অধিকার স্বীকৃত হল না আজও?এই ব্যর্থতার দায় নেতা নেত্রীদেরই তো নিতে হবে!এতটা ব্যর্থতা বহন করে যে নেতা নেত্রী তাদের কোন যোগ্যতাই নেই সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমের পরীক্ষা নেওয়ার।এ দেশের নেতা নেত্রীরা আসলে রাজনীতির ব্যবসাদার,আর ব্যবসাদাররা কখনও দেশপ্রেমিক হয় না,তাদের কাছে ব্যবসায়ীক লাভ ক্ষতির হিসেবটাই সব,তাই মানুষের যন্ত্রনা হাহাকার এইসব নেতা নেত্রীদের স্পর্শ করে না,এরা সকলে ভোগ বিলাস প্রাচুর্যে মত্ত থাকেন।এদের হাত থেকে দেশকে উদ্ধার করার প্রয়াসটাই দেশপ্রেমের নতুন পরীক্ষা হতে পারে।এদেশের নাম না জানা অগনিত সাধারণ মানুষকেই তাই এগিয়ে আসতে হবে এ দেশকে নতুন করে চিনতে,জানতে তাদের হাতেই তৈরি হবে দেশপ্রেমের নতুন বর্ণমালা।

, ,