মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,মানুষ বড় কাঁদছে

মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,খুবই দুঃখের কথা যে আপনাকে মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে,যে এই সময় রাজ্যের একটা বড় অংশের মনুষ বড় কষ্টে আছে,মানুষ বড় কাঁদছে।রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে বন্যার ভয়াল-করাল গ্রাসে সর্বস্ব হারাতে বসেছে লক্ষ লক্ষ মানুষ।এই বার্তা আপনাকে মনে করিয়ে দিতে সত্যিই আমাদের কষ্ট হচ্ছে,কারণ আপনি শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এরাজ্যের অবিসংবাদী জননেত্রী,যিনি রাজ্যবাসীর হৃদয়ের স্পন্দন সবার আগে টের পান।যে কোন দুর্গত এলাকায় ছুটে যাওয়াকে হাতিয়ার করেই না আপনার জননেত্রী হিসেবে উত্থান।সেই আপনি যখন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে আসীন তখন রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকার বানভাসী মানুষের নিদারুন অসহায়তা নিয়ে আপনার সরকারের,আপনার প্রশাসনের উদাসীনতা এবং বেশ কিছুক্ষেত্রে নিঃসক্রিয়তা,আমাদের বিস্ময়ে হতবাক করেছে,যন্ত্রনাদীর্ণ করেছে!মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলুন তো গত কয়েক বছর ধরে আপনি আপনার প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে একের পর এক   জেলায় প্রশাসনিক বৈঠক করলেন,অথচ যখন গ্রাম বাংলার বড় এক অংশ বানভাসী,মানুষ আর জীবজন্তু একই আকুলতায় বাঁচার আশ্রয় খুঁজে চলেছে তখন কেন আপনি আপনার প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের নিয়ে একবারও তাদের পাশে দাঁড়াবার প্রয়োজন অনুভব করলেন না,আপনি তো পারতেন হেলিকপ্টারে চেপে আর্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে,হেলিকপ্টারে চেপে ভোটের প্রচারে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ঘুরতে পারেন যদি তাহলে আর্ত মানুষের পাশে হেলিকপ্টারে চেপে যেতে পারেন না কেন? প্রথম থেকেই বন্যার ভয়াবহতাকে চাপার চেষ্টা হল,কেন বলতে পারেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,উন্নয়নের প্রচারে টোল পড়বে তাই তো?অথচ একবারও ভাবলেন না সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার কথা,তাদের অসহায়তার কথা,তাদের সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কাকে একবারও অনুভব করার চেষ্টা করলেন না।দুর্গত এলাকাতে যাওয়ার সময় না পেলেও এরই মধ্যে দু দুবার দিল্লি ঘুরে এলেন আপনি,কৈ মুখ্যমন্ত্রী,একবারের জন্যও তো জাতীয় স্তরে কারোর সঙ্গে এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আলোচনা করলেননা।আসলে বিষয়টাকে গুরুত্বই দেননি আপনি,সেই জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে দিল্লিতে গিয়ে বলে এলেন আপনারা গুজরাটের বন্যার সামাল দিন আমি আমার রাজ্যকে দেখবো।দেখলেন কোথায় মুখ্যমন্ত্রী?সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের ভয়াবহ দুর্গতির ছবি অথচ প্রথমদিকে এ রাজ্যের বড় বড় সংবাদমাধ্যমগুলো বন্যার খবরকে গুরুত্বই যেন দিতে চাইছিল না,পাছে মুখ্যমন্ত্রী রাগ করেন।শেষপর্যন্ত অবশ্য খবর আটকান যায় নি পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ায় টিভি চ্যানেনগুলোতে বন্যার ছবি আসতেই থেকেছে।বন্যা প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাকে আটকান যায় না,কিন্তু কেন সরকার সক্রিয় হবে ত্রাণ দিতে,কেন যুদ্ধকালীন গতিতে অবস্থার মোকাবিলা করতে ঝাপিয়ে পড়বে না সরকার?আমাদের প্রশ্ন কেন মুখ্যমন্ত্রী সব নেতা ও মন্ত্রীদের এলাকায় এলাকায় ছুটে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন না?কেন রাজ্যের মনুষের এরকম বিপর্যয়ের দিনেও মুখ্যমন্ত্রী সিনেমার নায়ক নায়িকাদের সঙ্গে নিয়ে জম্পেশ বিচিত্রানুষ্ঠানের মজা নেন?মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি না নিজেকে মানবিক সংবেদনশীল বলে দাবি করেন,সেই আপনি কী করে পারলেন,বানভাসী লক্ষ লক্ষ মানুষের যন্ত্রনা হাহাকারকে উপেক্ষা করে,চলচ্চিত্রের নায়ক নায়িকাদের নিয়ে মজে থাকতে,মা মাটি মানুষের নামে শপথ নিয়েছিলেন,তাদের ত্রাতা হয়ে ওঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতার চেয়ারে বসেছেন,এত দ্রুত সব ভুলে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী?মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,আপনার দলের এক বিধায়ক তাঁর এলাকাতে ইলিশ উতসব করবে বলে মেতে উঠেছে,খবরে প্রকাশ তিনি নাকি ভাল ইলিশের খোঁজে বাংলাদেশে চলে গেছিলেন,এবার ইলিশ উতসবে আপনার দলের নেতা মন্ত্রীরা উপস্থিত থেকে সুস্বাদু নানা ইলিশের স্বাদ নেবে,আর ঠিক তখনই হয়তো বানভাসী ক্ষুধাক্লীষ্ট মানুষ কোন পশুর মুখের খাবার কেড়ে নিয়ে কোনক্রমে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রাণপন চেষ্টা করে যাবে,কিংবা গগনভাটা চিতকারে আকাশ বাতাস ভারি করে তুলবে বন্যার তোড়ে সদ্য সন্তান হারানো কোন মা।বলুন না   মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,মানবিকতার কোন মানদন্ডে আপনার দলের নেতা মন্ত্রীদের এ হেন আচরণের বিচার করবে সাধারণ মানুষ?বলতে পারেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মানুষ আর কত কত কাঁদলে সেই কান্নার অনুরণন আপনাদের মত রাজনীতির নেতা নেত্রীদের হৃদয়ে ধাক্কা দিতে পারে?এই ঘোর দুর্যোগের দিনে কোন যুক্তিতে ইলিশ উতসবে মাতবেন আপনারা,আপনাদের হিসেবই বলছে এখন পর্যন্ত ১৭৮জন মারা গেছে বন্যার গ্রাসে,কী জবাব দেবেন মৃত মনুষের পরিবার গুলোকে?অবশ্য বলতেই পারেন আপনারা জবাব দেন না জবাব নেন!হাঁ ঠিক,তবে এটাও জেনে রাখুন মাননীয় মুখ্য মন্ত্রী,আজ ক্ষমতার চেয়ারে বসে ক্ষমতার সবকটা বিভাগকে ব্যবহার করে একের পর এক ভোটে জিতে যতোই নিজেকে অপরাজেয় মনে করুন না কেন,মানুষের কান্না নিয়ে যদি ক্রমাগত খেলতে থাকেন,দেখবেন একদিন মানুষের কান্নাই আগুন হয়ে জ্বলে উঠবে,মানুষ খুব বেশীদিন কান্না বয়ে বেড়ায় না,কান্নাকে আগুন বানায়,আর সেই আগুন পুড়িয়ে দেয় ক্ষমতার সব চেয়ারকে।বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাস খুলে দেখুন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী,বার বার প্রমাণ মিলবে।আপনিও সেই ইতিহাসের বাইরে নন মুখ্যমন্ত্রী,তাই বলছিলাম সাবধান হোন,মানুষের কান্নাকে স্পর্শ করুন হৃদয় দিয়ে,কান্না আগুন হয়ে ওঠার আগে,সত্যিই মানুষ বড় কাঁদছে !ঞ্জি

সম্পাদকীয়- অনুপম কাঞ্জিলাল