AADHAAR- অভিনব গুপ্ত

রববারের আড্ডা জমজমাট।বটতলা কাফেতে সকলেই উপস্থিত,হর্ণেটের আধার কিসসা শোনার জন্য।-কি রে?সেদিন তো একেবারে মুখ খুলেই ধাঁ হয়ে গেলি।-আচ্ছা ওস্তাদ!আধারে দেশীয় ভাষায় তিনটে বর্ণেই শেষ,কিন্তু ইংরেজিতে সাতটা বর্ণ খরচ করতে হল কেন রে,পাঁচেই তো হতো! -হর্ণেট আধারের ঢাকনা খুললো না,উল্টে বলে বসলো-গুগুলকে জিজ্ঞেস করনা,ও বলতে পারবে নিশ্চয়ই।আমরা সকলেই গুগুল মানে তথাগতর দিকে তাকাই,আমাদের মধ্যে ও-ই দেশ বিদেশের খবর বেশি রাখে।গুগুল বলল–ব্যাপারটা আমার জানা নেই,আধারের পুরো ফর্মটা বলতে পারবো না,তবে এটা জানি আমেরিকার গোটা দুয়েক সংস্থাকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রীক রাষ্ট্রের জনসাধারণকে সঠিক ভাবে চিহ্নিতকরণের জন্য কয়েক লক্ষ হাজার কোটি টাকার বরাত দেওয়া হয়েছে।তাদের পরিচালনাতেই গোটা কাজটা চলছে।হর্ণেট বাদে আমরা বাকিরা বললাম–কিন্তু তাতে আধারের অর্থ কি বোঝা গেল,নাকি অর্থ বেড়িয়ে গেল।সরল বলল–আধার শব্দটাকে ইংরেজিতে প্রতিবর্ণীকরণ করলে পাঁচেতেই তো হয়ে যেত,কেন যে অতিরিক্ত দুটো এ যুক্ত হয়ে গেল বুঝলাম না।দেশীয় ভাষায় আধারের কিছু মানে বুঝলেও,বিদেশি ভাষায় গোটা বিষয়টাই কেমন যেন হচপচিয়ে গেল।যারা বিষয়টার উদ্যোক্তা তারাও মানেটা জানে কী না কে জানে,সকলেই তো এর অর্থ নিয়ে স্পিকটি নট।হর্ণেট এবার মুখ খুলল,হাসতে হাসতে সে বলল–বাইরের কোন সংস্থাকে বরাত দিলে তারা যা করবে তা মেনে নিতে হবে,তারা যা বলবে পোষা ময়নার মতো তা আওড়াতে হবে,অত মানে জেনে হবে কি,কে বলতে পারে বেশি মানে জানার চেষ্টা করলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিপদ ঘনিয়ে আসবে না!

তাই সবাই চুপচাপ,আম-আদমীকেও চুপ করিয়ে রেখেছে নানা ফন্দি ফিকিরে।–তা বলে পাঁচের বদলে সাত?-হয়তো ওরা বুঝিয়েছে সাত সংখ্যাটা খুব পয়া,তাছাড়া সাতের যুগলে এদেশ ও তো মজে আছে,ভেবে দেখ,সাত সমুদ্র,সপ্তরথি,সূর্যের সাত ঘোড়া,সপ্ত স্বর্গ,সপ্ত পাতাল,সপ্ত সুর আর কত বলবো?ওরা আমাদের পুরাণটা গুলে খেয়েছে মনে হয়,ওদেরই প্রয়োজনে।প্রশ্ন করো –একটার পর একটা রেফারেন্স দিয়ে যাবে।ভ্যাবলাকান্ত হয়ে মনের কথা গাওনা গাওয়া ছাড়া আমাদের কোন উপায় থাকে না।আমাদের সরকার ওদের সব কথা শুনছে।এই যেমন ধর গো মানে নিজের দেশকে সঠিকভাবে রক্ষা করার বদলে গোরু রক্ষা করতেই দল গঠন করে ফেলা হয়েছে।বর্ধিত বেকার সমস্যার দেশে এ ভাবে এতটা কর্মসংস্থান করা পাকা মাথার কাজ।এটাও বাইরের দুনিয়া থেকে আমদানি চিন্তা।ঊনপঞ্চাশ বায়ুতে ভর করে ঊনপঞ্চাশ দেশে ঘোরার ফসল।–এটা মন্দ বলিস নি,বাস্তবিক গো রক্ষা নিয়ে যা চলছে তা আর বলার নয়,গোরুর আধার কার্ড ভাবা যায়!-গোরু পাচার বন্ধের লক্ষ্যে আমাদের রাজ্যেই কিন্তু বাম জামানাতেই এ ধরনের কার্ড চালুর চেষ্টা হয়েছিল,সেটা এই শতাব্দীরই প্রথম দশকে।তখন নানা প্রন্তে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল কারণ ব্যবসায় টান পরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল,এখন তারাই একশ আশি ডিগ্রি ঘুরে গেছে।–এটা তো একটা পজিটিভ সাইন।-অস্বীকার করছি না,তবে কি জানিস,আমাদের দেশের যে রাজ্যগুলো সীমান্তের লাগোয়া,সেই রাজ্যগুলোতেই কিন্তু এই পাচারের রমরমা কারবার।আর যারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত তারা প্রত্যেকেই একএকজন ডাক্তার জেকিল এ্যান্ড মিষ্টার হাইড।শুধু গরু,মোষ,ছাগল,ঘোড়াই গৃহপালিত নয়,মানুষও এর মধ্যে পড়ে।নিজেকে বাদ দিয়ে বাকী যা আছে সবই পণ্য।এমনটাই চলে আসছে রে সেই মহাভারতের যুগ থেকে।নইলে অমন ধর্মভীরু সত্যবাদী যুধিষ্ঠিরও কিনা,নিজের ভাই বউকে  পাশা খেলায় বাজি ধরেন! বলতে গেলে তো স্বয়ং ধর্মরাজই ট্রাফিকারদের গুরু!–তা বটে,এ ভাবে তো আমরা ব্যাপারটা ভাবিনিরে হর্ণেট।হর্ণেট বলে আর শোন-গোরক্ষার অন্যতম প্রবক্তা যোগীপুরুষের গোরক্ষপুরে এতগুলো শিশু অক্সিজেনের অভাবে বেঘোরে মারা গেল তা নিয়ে সেখানকার সরকারের কোন হেলদোল নেই,উল্টে যে ডাক্তার শিশুদের বাঁচাতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁকে শাস্তি দিয়ে সবাই হাত ধুয়ে ফেলতে চাইছে,কেন সরকারি হাসপাতালে অক্সিজেন থাকে না,পরিকাঠামো থাকে না তা নিয়ে যেন কারোর কোন মাথাব্যথা নেই।ভেবে দেখ যে সরকার শিশুরক্ষা করতে পারে না সেই সরকারই আবার গোটা দেশে গোরক্ষা বাহিনী গড়তে ব্যস্ত,তাই এখানে কোন প্রশ্ন চলে না সব মেনে নিতে হয়,মানিয়ে নিতে হয়।যে যত মেনে নেওয়া মানিয়ে নেওয়ার দাসত্ব করতে পারবে সে তত সফন হবে,এগিয়ে যাবে।-আমরা সকলে প্রায় সমস্বরে বললাম তা বুঝলাম,কিন্তু তা বলে আধারের মানেটা চিরদিন আধারেই থেকে যাবে,ভেবে মনটা কেমন খচ খচ করছে রে হর্ণেট!এবার হর্ণেট বলল–তোরা চাইলে আমি একটা মানে বলতে পারি,তবে সেটা আমার ব্যক্তিগত ভাবনা প্রসূত মানে,সরকারি ভাবনার সঙ্গে কিন্ত মিলালে চলবে না।আমরা শুনতে উদগ্রীব হলে হর্ণেট বলতে থাকল–ইংরেজির বাড়তি দুটো এ ধরে আধারের মানে এটা হতে পারে,Accurate Account of Domestic House-hold And Accumulated Resources-বাংলা করলে মানেটা এরকম, সঠিক গৃহপালিত গৃহস্থালীসংক্রান্ত রাশি ও পুঞ্জীভূত সংস্থান-বোঝা গেল,বলে মুচকি হাসলো হর্ণেট।আমরা তখন পরস্পর মুখ চাওয়াচায়ি করতে শুরু করেছি।

,