ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে,স্কুল চত্ত্বরের মধ্যেই ধুন্ধুমার মারামারি

রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলির বেহাল অবস্থা।বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির অবস্থা একেবারেই বেহাল,নেহাত ঠেকে না গেলে কেউই আর বাংলা মাধ্যমের স্কুলের চৌকাঠে পা রাখতে চাইছে না।রাজ্যের মধ্যবিত্ত সম্প্রদায় এখন ছেলে মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবে লাইন লাগাচ্ছে বেসরকারী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলিতে।আর মধ্যবিত্তের এই চাহিদাকে মাথায় রেখে বেসরকারি স্কুলগুলি লাগামহীন ব্যবসা বাড়াতে উদগ্রীব।নানা অছিলায় ফি বাড়িয়ে চলেছে বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষ।বিষয়টা নজরে আছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীরও,তিনি এ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছেন।কিন্তু তবু কমেনি এইসব স্কুলগুলির ফি বৃদ্ধির ফন্দি ফিকির।বুধবার এরকম এক ঘটনা নিয়েই ধুন্ধুমার কান্ড ঘটে গেল বিডি মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশনে।অভিভাবকদের অভিযোগ পুজোর আগেই এক লাফে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা ফি বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।অভিভাবকরা তার প্রতিবাদে বুধবার স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলে,স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়োজিত গুন্ডা বাহিনী তাদের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।বহিরাগত কিছু দুস্কৃতী বেশ কয়েকজন অভিভাবককে মারধর শুরু করলে,সমস্ত অভিভাবক উত্তেজিত হয়ে একযোগে ঐ কর্তৃপক্ষের নিয়োগ করা গুন্ডা বাহিনীকে তাড়া করতে থাকে।শুরু হয়ে যায় তুমুল ধুন্ধুমার মারামারি।স্কুল চত্ত্বর তখন হয়ে ওঠে পুরোদস্তুর রণক্ষেত্র।পরে বহিরাগতরা স্কুলের বাইরে চলে গেলে উত্তেজনা কমে।এরপর আবার অভিভাবকরা অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।

স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে প্রিল্সিপাল জয়া চৌধুরি জানান কোন বহিরাগতকে স্কুল কর্তৃপক্ষ ডেকে আনেনি,এমনকি ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।তবে এই দাবি মানতে নারাজ অভিভাবকরা,তাদের পাল্টা দাবি একতরফা সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না করলে তারা লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ করতে থাকবে।স্কুলে পড়াশুনার পরিবেশ এখন একেবারেই নেই।সবমিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবেশটা যে কী ভয়াবহ তারই এক খন্ড চিত্র বোধহয় ধরা পড়ল বুধবার বিডি মেমোরিয়াল  স্কুল চত্ত্বরের মধ্যে ঘটা এই ঘটনায়।