শুধু ঋতব্রতর পচন নয়, পচে গেছে গোটা দলটাই

দল বিরোধী কার্যকলাপের জন্য ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিপিএম রাজ্যকমিটির সম্পাদকমণ্ডলী।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ে মিডিয়ায় পরিচিত মুখ। ফলে এখন মিডিয়ার চর্চায় ঋতব্রতর বহিষ্কার।কিন্তু ঋতব্রতর ঘটনা কি ব্যতিক্রমী? মোটেই নয়। ঋতব্রত যাকে পথপ্রদর্শক বলে মনে করেন সেই সুভাষ চক্রবর্তীও প্রায় রোজই দলের নানা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেন। PDS বলে দলটিতে তিনি যোগ দিয়ে ফেলছেন বলে রোজই  সেই সময় জল্পপনা চলত। তারাপীঠে পুজো থেকে সিন্ডিকেট সব বিষয় সুভাষ চক্রবর্তীর নাম যুক্ত ছিল। আবার সেই সুভাষ চক্রবর্তীকে ব্রিগেড ভরাতে প্রয়োজন হত দলের। তাই তার বিরুদ্ধে সিপিএম কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। লক্ষ্মণ শেঠদের রমরমা সময় দল তার পাশেই ছিল। সম্প্রতি গৌতম দেব প্রকাশ কারাটকে নাম না করে মাথায় ক্যারা আছে বলার পরও তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাহস দেখাতে পারেনি সিপিএম। এবার আসা যাক কেরলের দিকে। কেরলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর  পিনরাই বিজয়ন ও অচ্যুতানন্দন গোষ্ঠীর মারামারি রাস্তায় হত। দুজনই এখনও পার্টিতে আছেন। আসলে সিপিএমে ক্ষমতা সর্বস্ব দল হয়ে উঠেছে। যেখানে আদর্শের বিষয়টা অনেকদিন আগেই জলাঞ্জলি দেওয়া হয়েছে। যাদের সঙ্গে কিছু লোক বা সদস্য আছে তারা যা খুশি করলেও পার্টি চট করে ব্যবস্থা নিতে পারেনা। অন্যদিকে ঋতব্রতর মত সদস্য যাদের পায়ের তলায় মাটি নেই তাদের বিতাড়িত করতে অসুবিধা হয় না দলের। সিপিএম বলছে ঋতব্রতর পচন অনেকদিন আগেই হয়েছিল। তাহলে তাকে সাংসদ করা হল কেন? কারা তাকে সাংসদ করার জন্য সুপারিশ করেছিলেন? সিপিএমের এক রাজ্য কমিটির সদস্য কীকরে একটি বেসরকারি ২৪ ঘন্টার চ্যানেলের মাতব্বর হয়ে ওঠেন? আসলে পচন শুধু ঋতব্রত হয়নি হয়েছে গোটা সিপিএমের। তাই ক্ষমতায় ফিরতে এখন কংগ্রেসের হাত ধরতেও পিছপা নয় দল। গ্রামগঞ্জে সিপিএম ছেড়ে হয় বিজেপি নয়তো তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ‘মজবুত’ সংগঠনের এমন হাল যে কমিটি পর্যন্ত ভেঙে দিতে হচ্ছে, পার্টি অফিস খোলার লোক নেই। তাই সিপিএমে বহুকাল ধরেই ঋতব্রতদের মত বাবু মার্কা নেতাদের দাপাদাপি, যেখানে কমিউনিজম বা মার্কসবাদের কোন নাম গন্ধ নেই।