নারী নির্যাতনের তালিকায় এবার টলিউডের পরিচিত মুখ,সামাজিক পচনই সমস্যার হেতু

রাজ্য জুড়ে নারী নির্যাতনের যে ধারাবাহিকতা তার পরিমন্ডলের বাইরে থাকছে না চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত মুখও।সোমবার রাতে স্যুটিং সেরে ফেরার সময় একদল মদ্যপ যুবকের দ্বারা আক্রান্ত হলেন অভিনেত্রী কাঞ্চনা মৈত্র।কাঞ্চনার অভিযোগ সিরিটি শ্মসানঘাট সংলগ্ন এলাকায় তাঁর গাড়ি থামিয়ে গাড়ির চাবি কেড়ে নিয়ে জনা তিনেক মদ্যপ যুবক তাকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করে,তাকে কান ধরে উঠবস করতে বালা হয়,তাকে শারীরিক হেনস্থা করা হয়।তার গাড়িতে ইঁট ছোড়া হয়।একদল মদ্যপ যখন কাঞ্চনার সঙ্গে এমন চুড়ান্ত অসভ্যতা করে যাচ্ছে কাঞ্চনা তখন সাধারণ পথচারীদের সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন বলে জানান,কিন্তু তাকে নাকি সে সময় কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নি।সবাই পাশ কাটিয়ে চলে যায়।শেষ পর্যন্ত সেখানে সেই সময় একটা পুলিশের গাড়ি চলে আসায় কোনক্রমে রক্ষা পান তিনি।পুলিশ মদ্যপ যুবকদের গ্রেপ্তার করে।সাধারন মানুষের ভূমিকায় আহত হয়েছেন টিভি ও চলচ্চিত্রের এই পরিচিত মুখ,তবে তিনি পুলিশের ভূমিকার ভূসয়ী প্রসংশা করেছেন।কাঞ্চনাকে যে ভাবে পুলিশ উদ্ধার করেছে তাতে তাঁর পক্ষে পুলিশের ভূমিকাকে অস্বীকার করার উপায় নেই,তবে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকছেই।প্রশাসনিক কড়া ব্যবস্থা থাকলে বার বার নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটতে পারতো না বলেই আমাদের বিশ্বাস।শুধু কলকাতা নয় গোটা রাজ্যজুড়ে নারী নির্যাতনের ঘটনা যে ভাবে ঘটে চলেছে তাতে প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকে আঙ্গুল না তুললে সত্যকে এড়িয়ে যাওয়া হয়।আর অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয়কে তরাণ্বিত করে চলেছেন তো রাজনৈতিক নেতা নেত্রীরাই।হৈ হুল্লোর আর মস্তির সংস্কৃতিকে যারা প্রতিদিন উসকানি দেন,তারাই তো মানুষের গভীর চেতনা বোধকে রোজ হত্যা করে চলেন।স্থূল ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা যে রাজনীতি তা কোনদিন মানুষকে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে প্রেরনা দেয় না,কারণ এই রাজনীতি  মানুষকে আত্ম-স্বার্থ শেখায়,শুধু নিজেরটা নিয়ে ব্যস্ত হতে শেখায়।সেই জন্যই এক অসহায় মেয়ের বিপদে কেউ এগিয়ে আসে না,প্রতিবাদ করে না,বরং হয়তো সবাই উপভোগ করে,কারণ নারীর শ্লীলতাহানি,নারীর ধর্ষণ তো এই ভোগবাদী সমাজে উপভোগের বস্তু।চলচ্চিত্র জগতের পরিচিত  মুখ কাঞ্চনা যেদিন এমন ঘটনার মুখোমুখি হলেন সেদিনই বারাসাতে ১৩ বছরের এক কিশোরী তার বাবার বন্ধুদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে বলে খবর হল,খবর হল নদীয়ায় এক যুবক তার বন্ধুর স্ত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে।তাই এগুলো কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়,সামাজিক অবক্ষয় আর পচনের ফল।এই পচনকে উতসাহ দেয় ব্যবস্থাপনা,কারণ গভীর চেতনার বিকাশ হলে দুর্নীতিগ্রস্ত নেতা নেত্রীদের মুখোশ ধরে ফেলবে মানুষ,তাই মনুষকে মজিয়ে রাখতেই হবে সস্তা ঠুনকো হৈ হুল্লের আর মস্তিপনায়,তাতে নারীর নির্যাতনের তালিকা যদি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয় তো হোকনা।তাই আমাদের বোধহয় ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধেই সরব হওয়ার সময় এসে গেছে।