জননী গো কাঁদো আর কাঁদো তুমি—

সেই দিনটাকে ভুলে গেছে সবাই,সেই দিনটাকে সামনে রেখে যে উত্তাল রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়েছিল,ক্ষমতা অভিমুখি রাজনীতির নানা হিসেবি কারসাজিতে তা অনেক দিন আগেই থেমে গেছে,রাজনীতির ব্যবসায়ীরা যে যার মতো দিব্যি ক্ষমতার মধু চুষে দিন কাটিয়ে যাচ্ছেন,শুধু হাহাকার আর যন্ত্রনার দমকা হাওয়া বোধহয় একটা মানুষের বুকেই বার বার ধাক্কা দিয়ে যায়,কারণ সে যে মা,সন্তান হারানোর যন্ত্রনা তাঁকে তো বিদ্ধ করবেই।তিনি তো বলেছিলেন,প্রক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে,বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেও তাঁর ইনসাফ চাই।তিনি রিজানুর রহমানের মা,রিজানুরের মৃত্যুুর দশ বছর পেরিয়ে গেল গতকাল।২০০৭ এর ২২ সেপ্টেম্বর যে ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি,সেদিনের বিরোধী নেত্রী আজকের মুখ্যমন্ত্রী তীব্র জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন তখনকার পুলিশ কমিশনার,ডিসি সেন্ট্রাল,ও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধানের বিরুদ্ধে।প্রভাবশালী ব্যবসায়ী টোডিদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে লড়াই করতে রিজানুরের পরিবারকে সাহস জুগিয়েছিল সেদিনের বিরোধী নেত্রীর রিজানুর কান্ডে জেহাদি মানসিকতা।রিজানুরের মাও বড় আপন ভেবে আঁকড়ে ধরেছিলেন তাঁকেই,সেসময় বিরোধী জনসভায় গিয়ে মমতার হাত ধরেই বার বার বলেছেন,তৃণমূলকে ভোট দিন,ওরা ক্ষমতায় এলে সন্তান হারানো এই মাকে ইনসাফ দেবে।সময় পাল্টেছে,রাজ্যে দু-দুবার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল,ক্ষমতার অলিন্দে রিজানুর রহমানের মা যাকে ইনসাফ দেবার জন্য সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছিলেন সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।কিন্তু রিজানুরের মায়ের ইনসাফ আজও নিরুদ্দেশ,আজও হয়তো সন্তান হারানোর যন্ত্রনা বুকে নিয়ে সবার অলক্ষ্যে চোখের জল ফেলেন তিনি।এখন আর রিজানুরের মৃত্যুর দিনটাও কারোর মনে থাকে না,কেউ যান না রিজানুরের মা কে সান্ত্বনা দিতে।একলা ঘরে ছেলের ছবিতে মালা দিয়ে বসে থাকেন রিজানুরের মা।আমরা জানি না রিজানুরের মা জানেন কি না,তাঁকে ইনসাফ দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যিনি সেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এখন সেদিনের অভিযুক্ত পুলিশ অভিসার জ্ঞানবন্ত সিং কে প্রমোশন দিয়ে বিধাননগর কমিশনারেটের কমিশনার করেছেন।আর যে ব্যবসায়ীক পরিবারের বিরুদ্ধে রিজানুরকে খুনের অভিযোগ সেই টোডিরা এখন রাজ্য সরকারের কাছের মানুষ।তাঁর তৈরি গেঞ্জির ব্রান্ড আ্যমসাডার তৃণমূলের সাংসদ দেববাবু।সবই হিসেব মতো হয়েছে,রাজনীতির এই হিসেব রিজানুরের মায়েরা বুঝবে না কোনদিন,তাদের চোখের জলের কোন হিসেব নেবে না ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা এই রাজনীতি,যেমন তাপসী মালিকের মা বাবারাও এই রাজনীতির হিসেব না বুঝে আজও কেঁদে চলেছেন।আপনি কাঁদুন রিজানুরের মা,ততদিন আপনাদের কাঁদতেই হবে যতোদিন সাধারণ নাগরিক একত্রিত হয়ে রাজনীতির কারবারিদের বিরুদ্ধে পথে না নামছে। ততদিন রিজানুরের মা, কান্নাই আপনাদের একমাত্র সান্ত্বনা,তাই কাঁদুন আর কাঁদুন।