স্বাস্থ্য পরিষেবার আবোল তাবোল- উত্তান বন্দ্যোপাধ্যায়

করপোরেট হাসপাতালের দাপুটে CEO রা, মালিকদের সম্পদ বাড়ান, হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রী নিয়ে। ডাক্তার কে সামনে ঠেলে দিয়ে। এটাও কেউ আমাকে বলেছেন যে কিছু ডাক্তার নিজস্ব নার্সিংহোমে রোগীদের ‘মুরগী’ বানান, এটাও ঘটনা। বিশেষত মফস্বলে, যেখানে করপোরেট হাসপাতাল নেই। হ্যাঁ, তবে সেই ডাক্তার মালিক – ১ শতাংশের কম। আর ওগুলো বন্ধ হলো বলে অচিরেই। 
ছোটো স্বাস্হ্য ব্যবসা বন্ধ করে করপোরেটই শুধু থাকবে – একটু অপেক্ষা করি না!

সরকার আইন আনছে তো- চব্বিশ ঘন্টা RMO, ICU ছাড়া চিকিৎসা করা যাবেনা। যেখানে মফস্বলে মুরগী রোগীরা একটা Appendictomy কুড়ি হাজার দিতে রেগে যায়, বড়ো শহরে তেনারা ক্ষমতা  না দেখাতে পারলে ১ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হবেন। ডাক্তাররা এটা করেনা, আর যারা করেন তারা ১%। তারা মালিক ডাক্তার, অর্থাৎ নার্সিংহোমের মালিক। 
এই ২০১৭ সালে এই যে আইনটা করা হলো তাতে আদৌ কর্পোরেটদের ধরা যাবে না,  উল্টে তোলাবাজরা সুযোগবুঝে ঘটনা বুঝে ডাক্তারদের ওপর চড়াও হয়ে ডাক্তার পেটাকে শুরু করে দিল।একটা গণহিস্টরিয়ার চেহারা নিলো। আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে এ আইনটা আদৌ কর্পোরেটদের কন্ট্রোল করতে পারবে না, দুঁদে উকিল দিয়ে নানান খুঁটিনাটি পয়েন্ট্স ধরিয়ে কর্পোরেট মালিকেরা বুঝিয়ে দেবে যে রোগীর ওমুককরা তমুককরা এই ডিসিশনগুলো ডাক্তারেরা নিয়েছে, হাসপাতাল কতৃপক্ষ নেয়নি। কাজেই এই নতুন আইনের কমিশন কে ডিঙিয়ে তারা চলে যাবে হাইকোর্টে, তারপর হাইকোর্ট বলবে ডাক্তারের নেগ্লিজেন্স?  মেডিক্যাল কাউন্সিলে যাও।এটাই হবে – কিচ্ছু বিচার হবে না। ঠিক এটাই প্রমাণ হয়ে গেলো। সম্প্রতি আ্যাপোলো গ্লেনেগেইলস্ এর ডা: মহেশ গোয়েঙ্কা রা তাই করেছে একটা কেস নিয়ে তারা কমিশনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে চলে গেছে – 
একদম টাটকা খবর। 
তাহলে ভাগশেষ কি রইল? 
তোলা তোলো তার একটা উপায়, আর তার জন্য ডাক্তারদের কে ভয় ধরিয়ে দাও।ওদেরকে গণধোলাই দাও। দূঃখের বিষয় হচ্ছে,  আমরাও না বুঝে এই ব্যাপারটাকে অনেকে সাপোর্ট করে যাচ্ছি। তৃণমূল ও তার সরকারটি চমকে ধমকে টাকা তোলার জন্য অনেক কিছু করবে,  দরকারে অবাস্তব আইনও বানাবে – আসল উদ্দেশ্য তোলা তোলো।এ হয়েছে বলেই বলছি। আমরি প্রচুর টাকা পার্টি ফান্ডে দিয়েছিল ২০১৬ তে (ইলেকশনে)তাই অতো কান্ড ঘটে যাবার পরও আমরির দোষ খুঁজেই পায় না, ক্যানসার রোগী ধ্রূব চক্রবর্তী রোগের তাড়নায় ও খরচের ভয়ে আমরি সল্টলেকের সাততলা থেকে স্যুইসাইড করল, কেউ জানতে পারল না; 
অথচ পান থেকে চুন খসলেই আ্যাপোলো গ্লেনেগেইলস্ এর এর এটা ওটা খুঁজে বার করা হয়, তাদের বিরুদ্ধে কেস হয়, কারণ আ্যাপোলোর  সঙ্গে শাসকদলের মাখামাখি নেই বলেই কি? প্রশ্ন উঠবে আমরির থাকলে অ্যাপলোর নেই কেন?। সব প্রশ্নের সহজে উতত্র মেলে না।

আচ্ছা মহেশ  বা কুণাল  এরা কি ডাক্তার?  এরা ডাক্তারি কোয়ালিফায়েড বটে কিন্তু এরা কর্পোরেট মালিকদের একাংশ হয়ে গেছে।খোঁজ নিয়ে দেখুন এরা কর্পোরেট হাসপাতালের ভালরকম % এর শেয়ার হোল্ড করে,  প্লাস একটা মোটা টাকা মাইনে,  প্লাস প্রতিটি ইন্টারভেনশন বা ম্যান্যুভার /অপারেশনে একটা কমিশন প্লাস ইম্প্ল্যান্টস হলে কোম্পানীর সেখান থেকেও মোটা কমিশন – মোট কত আয় করে বলুন তো এরা? তারউপর কর্পোরেট হাসপাতালের মালিকানার অংশিদারীত্ব। 
এদের সাথে ডেবরার BMOH যাকে বিষ্ঠা মাখিয়ে, দেওয়া হলো তার গায়ে – এর তুলনা চলে?

ক্লিনিক্যাল মেডিসিন বলে গত দুশো বছর ধরে যা চিকিৎসার প্রাথমিক আয়ুধ সেটা উঠে গিয়ে টেকনো-মেডিসিন হচ্ছে। Man becomes only economic man, no other identity. Becomes more objectified and measurable body without self, person-hood and emotional world. Emotional world is transferred to the world of psychiatry (merely applying some medications and nothing else). New psychiatric categories are always being invented for some billions of billion dollar market. So the question of mutual trust and empathy gradually disappears from physician-patient inter subjective network. Now appears big houses and Multi National Companys with their technology. রোগীকে স্পর্শ করে, হাত দেখে, পিঠে হাত রেখে চিকিৎসার জায়গা নেয় “হোল বডি চেক-আপ”। আমরা দৌড়ই। নতুন সোশ্যাল  সাইকি তৈরি হয়।

Transformation এর এই ক্রম প্রসারণে সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ ৷ তাদের কাছে ধন্ধমূলক বস্তুবাদ বা অন্য কোন বাদের পরিবর্তনের খোঁজ খবর নেই ৷ তারা ডাক্তারবাবু কেন বদলে গেলেন তার হদিশ করতে পারবে না ৷ যাদের বিদ্যেবুদ্ধি এবং চোখ রাঙানিতে ভোট দিতে হয় তারাই ঠিক করে দেয় ভালমন্দ ৷ যেমন ভেলোরের দালাল বা ambulance এর চালক ভীত দিশেহারা রোগীর বিশ্বাস অর্জন করে ৷ ভয় উদ্বেগ সেই মানুষদের জন্য যারা প্রথমবার কলকাতায় অাসতে বাধ্য হয় চিকিৎসার কারণে ৷

আরো বছর দশেক পর মেধার ভিত্তি ছাড়াই সারা ভারতে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে ৬০ল লাখ থেকে থেকে আড়াই কোটি টাকা দিয়ে যেসব ডাক্তারি ছাত্ররা পড়ে বের হবে, তারা কি করবে জানিনা -হয়তো হয়তো যারা মেডিকেল মেডিকেল এডুকেশন কে কে প্রাইভেট করলেন তারাই জানেন। পড়তে লোন পাওয়াও যাচ্ছে নাকি,  পাশ করার পর শোধ দেবার চুক্তিতে। ভয়ঙ্কর চিত্র।