কিষেণজির মত গুরুংকেও ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যার ছক সাজাচ্ছেন মমতাঃ অভিযোগ অরুণাভ ঘোষের

0
14

গোর্খা ল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন শুরু করায় গোর্খা নেতা বিমল গুরুং এর পরিণতিও মাওবাদি নেতা,কিষেণজির মতো হতে পারে,তাকেও ভুয়ো সংঘর্ষে হত্যা করার ছক সাজাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন কংগ্রেস নেতা ও পেশায় আইনজীবী অরুণাভ ঘোষ। বৃহস্পতিবার সাতদিন ডট ইনকেএই কথা জানিয়েছেন এই দুঁদে আইনজীবী।   এ রাজ্যে শাসক দলের স্বৈরাচারি মানসিকতার তীব্র সমাালোচনা করে বলেন,এখানে মমতার সুরে সুর না মেলালেই হেনস্তার মুখে পড়তে হয়,গোর্খা নেতা বিমল গুরুং যত দিন মমতার অনুগত ছিলেন তত দিন তিনি ভাল আর যেই তিনি মমতার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলন শুরু করলেন তখন থেকেই তিনি সন্ত্রাসবাদী। তার বিরুদ্ধে প্রযুক্ত হয়ে গেল ইউএপিএ আইন। বিমল গুরুং এর সঙ্গে মাওবাদীদের যোগসাজসের কাল্পনিক কাহিনিও বাজারে ছেড়ে তাকে হত্যা করার চিত্রনাট্য সাজাচ্ছে মমতার প্রশাসন। এমনটাই মত অরুণাভ ঘোষের।পাহাড়ে বাঙালি পুলিশ অফিসার অমিতাভ ঘোষের মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অরুণাভবাবু। তাঁর মতে পাহাড়ী এলাকায় এরকম অভিযানে পাহাড়ী কোন পুলিশকে সামনে না রেখে কেন বাঙালি একজনকে এগিয়ে দেওয়া হল? কেন যার কোন অভিজ্ঞতা নেই তাকে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল তা নিয়ে প্রশ্ন অরুণাভ ঘোষের।  রাজ্য পুলিশের প্রধান সুরজিত কর পুরকায়স্থকেও কটাক্ষ করেছেন এই আইনজীবী। তাঁর মতে এই আইপিআস অফিসারটি এখন মেরুদন্ডহীন অফিসারে  পরিণত হয়েছেন। অরুণাভ ঘোষের আশঙ্কা বিমল গুরুং এর বিরুদ্ধে বাঙালি সেন্টিমেন্ট উসকে দিতেই হয়তো একটা তরতাজা প্রাণকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল। যে অস্ত্র উদ্ধারের গল্প বলা হচ্ছে,অরুণাভ ঘোষের মতে তা গোটাটাই পুলিশের সাজানো। নিজেদের সাজানো নাটক দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে পুলিশ,এবং সবটাই হচ্ছে মমতার নির্দেশে,কিষেণজির মতোই বিমল গুরুংকে হত্যার ছক সাজানো হচ্ছে বলে মত অরুণাভ ঘোষের।

রাজ্যে গণতান্ত্রীক মত প্রকাশের স্বাধীণতা প্রতিদিন যে ভাবে হরণ করা হচ্ছে তাতে স্বৈরাচারের স্পষ্ট পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে এই আইনজীবীর মরামর্শ সকল গণতন্ত্র প্রিয় মানুষের উচিত এই সময়ে এগিয়ে এসে স্বাধীন নাগরিক পরিসর তৈরির দাবিতে সরব হওয়া,তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য বিমল গুরুং ভাল মানুষ নয়,তিনি পাহাড়িদের সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে তার রাজনৈতিক উচ্চাশা মেটাতে চাইছেন।  কিন্ত তা বলে গোর্থা ল্যান্ডের দাবি অগণতান্ত্রীক বা রাষ্ট্রবিরধী নয়,তাই আন্দোলন দমন করতে ইউএপিএ ধারায় অভিযোগ আনাটা স্বৈরাচারের লক্ষণ সেই লক্ষণ ফুটে উঠছে মমতার আচরণে। অরুণাভবাবুর মতে মমতা যে কাউকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলে দিতে সিদ্ধহস্ত। যে ভাবে কিষেণজিকে ব্যবহার করে সময়মতো তাঁকে ‘হত্যা’ করা হয়েছে সেই কৌশলেই বিমল গুরুংকে একসময় ব্যবহার করে এখন হত্যার ছক সাজানো হচ্ছে বলে দাবি এই আইনজীবীর। গুরুংকে যে হত্যার ছক করা হচ্ছে সেই কথা আগেই অবশ্য বলেছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষও।