ব্যাপারটা বুঝতে হবে—-অভিনব গুপ্ত

বটতলা কাফের আড্ডায় ভিটামিন আগে খুব একটা মুখ খুলতো না,ইদানিং নানারকম মন্তব্য করে,যা নিয়ে আলোচনা করা যায়।কেউ কেউ বলে ওর এই পরিবর্তনটা নাকি এসেছে ওর মনিব কান্তিদার সংস্পর্শে থেকে।সেদিন যেমন আচমকা আলটপকা একটা কথা বলে বলে ওঠে ভিটামিন,-লেনিন বলেছেন সংসদীয় গণতন্ত্র একটা শুয়োরের খোয়ার।এই কথায় নেচে উঠে উচ্চিংড়ে বলতে শুরু করে-ব্যাপারটা বুঝতে হবে,প্রেক্ষিতটা ধরতে হবে।সত্যি কথা বলতে কি,ওখানে কাজের কাজ কিছু হয় না,শুধু ঘোঁতঘোতানিই সার।এই জন্য এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার উপর আমার কোন আস্থা নেই,আমি মানিও না।

হর্ণেট এতক্ষণে মুখ খোলে–তা না হয় বুঝলাম,কিন্তু এই ব্যবস্থা পাল্টাতে তোমরা বাপু কী করছো?এখানে বসে খাচ্ছো দাচ্ছো আর রাজা উজির মারছো!তার চেয়ে বরং যা না গ্রামে,সেখানে গিয়ে নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দে,মানুষকে সচেতন কর।কোন দায় নেবে না শুধু মুখে বড় বড় কথা।গ্রামে গিয়ে যদি কিছু না করতে পারিস তাহলেও তো তোর মাধ্যমে সেখানে কিছু জৈব সার যেতে পারতো,এখানে বসে তো সে গুড়েও বালি দিয়ে চলেছিস।আলোচনার গতিমুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে আমি বলে উঠি,-লেনিন যাই বলুক এই শুয়োরই কিন্তু সৃষ্টি রক্ষা করেছিল।একথা শুনে ক্ষেপে যায় ভিটামিন-থাম তো পুরাণের যত্তোসব গুলতাপ্পি।মার্কসের ডায়ালেকটিক্যাল মেটিরিয়ালিজমই একমাত্র বিজ্ঞানের কথা বলে।-গুগুল বলে ওঠে-ডারউইনের থিওরি অফ এভলিউশ্যন তো মনবি,পৃথিবীতে ম্যামলস এসেছে সব থেকে শেষে,আর শুয়োর যেহেতু স্তন্যপায়ী সে পরে আসবে সেটাই স্বাভাবিক,আমাদের ভারতীয় পুরাণে অবতারবাদের বিবর্তনে তাই রক্ষিত হয়েছে।–বুঝলাম শুয়োর অবতারে সৃষ্টি রক্ষা হয়েছিল বলে এখনকার শুয়োরের দলই পৃথিবী রক্ষা করবে তাই বলতে চাস?হর্ণেট এতক্ষনে আবার মুখ খোলে-শোন এরা সব বাচ্চা শুয়োর,এখনও তেমন ধারি হয়নি,বুদ্ধি অল্প,ভুলভাল করে ফেলে,এলোমেলো কথা বলে,ধারি শুয়োর হলে নির্ঘাত সৃষ্টি রক্ষা করবে।আমাদের তাই ধারি শুয়োরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে,এ ছাড়া কোন উপায় নেই চাঁদু।-সরল জিজ্ঞাসা করে আচ্ছা কাউকে শুয়োর বা বাচ্চা শুয়োর বললে রাগ করে কিন্তু শুয়োরের বাচ্চা বললে একেবারে মারতে আসে কেন রে?হর্ণেট বলে –একটা পূর্ণসংখ্যার আগে যদি শূন্য বসান হয় তাহলে ভ্যালু পাল্টায় না কিন্তু যদি সংখ্যার পরে শূণ্য বসান হয় তাহলে যেমন ভ্যালু পাল্টে যায়,বাচ্চা শুয়োর আর শুয়োরের বাচ্চার আর্থের ফারাকটা অনেকটা সেরকম।-গুগুল ব্যাখ্যা করে -খ্রিষ্ট্রিয় সংস্কৃতিতে শুয়োর ব্রাত্য নয়,তবে ইসলামীয় ধর্মে শুয়োর হারাম বা পাপের সমতুল।পিতৃপরিচয় নেই বোঝাতে জারজ শব্দ আমাদের ভাষায় ছিল।আরবী হারামজাদা শব্দটার বাংলা করতে গিয়ে শুয়োর শব্দটা এসে গেছে।ইংরেজিতে swin বলে গালাগালি দেওয়া হয়,তবে তাতে ঐ অর্থ বোঝায় না,আর শব্দটা আগে এত পরিচিত ছিল না,হাল আমলে ফ্লু ছড়িয়ে পরিচিত হয়েছে।হারামজাদার ইংরেজি ভারসান-son of a bitch.-বটতলা কাফেতে বসা জনৈক অপরিচিত এক ভদ্রলোকের খুব সম্ভবত গুগুলের বলা শেষ শব্দটা কানে ঢুকেছিল,তিনি আচমকা জিজ্ঞাসা করে বসলেন-আপনারা কি ইংল্যান্ডের কোন বিচের কথা বলছেন,আমি যতদূর জানি আমাদের দেশে এ নামে কোন বিচ নেই।আমরা বুঝে উঠতে পারছিলাম না এ প্রসঙ্গে কি বলা উচিত! হর্ণেট সামাল দিয়ে বলে ওঠে-আপনার জানাতে সামান্য ত্রুটি আছে মহাশয়। -ত্রুটিটা কি জানতে পারি?হর্ণেট বলতে থাকে-ওটা সব দেশেই আছে,মশাই।কোথাও কম আর কোথাও বেশি।যে সব বিচের কাছে বিভিন্ন জাতের কুকুরদের বেশি ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়,বেশি ভালবাসা দেখা যায়,সেখানেই সন অব এ বিচ সৃষ্টি হতে পারে।আমরা অনেক কষ্টে মুখ চেপে রইলাম,একমাত্র হর্ণেট নির্বিকার,সে বলে যেতে থাকে-মহাভারতের স্বর্গারোহণ পর্বে দেখা যায়,ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে কুকুর,দুজনের কারোর মুখেই কোন কথা নেই।এর দুটো ব্যাখ্যা হতে পারে।যদি স্বর্গটা হিমালয় না হয়ে আল্পস হতো তাহলে ঐ কুকুরটা নির্ঘাত সেন্ট বার্ণাড জাতের কুকুর,যারা পথহারা পথিককে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় গন্তব্যে।নইলে তো ধর্ম আর কুকুর সমার্থক হয়ে পড়ে,প্রশ্ন করো না শুধু অনুসরণ করে যাও।-ভিটামিন আর উচ্চিংড়ে প্রায় এক সঙ্গে বলে ওঠে -মার্কস বলেছেন ধর্ম আফিঙের মতো।হর্ণেট বলে-   সেতো তোদের দেখলেই বোঝা যায়,কেমন মনিবের দাসত্ব ধর্মের আফিঙ খেয়ে সারাক্ষন বুঁদ হয়ে থাকিস,তবে কুকুরকে কখনো আফিঙ খাওয়াতে যাস না,কারণ ওদের প্রভু ভক্তিতে তোদের মতো হিসেবি নেশা থাকে না,থাকে প্রকৃতিগত সততা,তাই জোর করে ওদের আফিঙ খাওয়াতে গেলে কামড়ে দেবে,তাতে হাইড্রোফোবিয়ার সমূহ সম্ভাবনা।

আমরা লক্ষ্য করি হর্ণেটের কথায় ভিটামিন আর উচ্চিংড়ের মুখ কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।হর্ণেট আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিল।