যুব বিশ্বকাপ ফুটবলের জেরে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা

আর কিছু দিনের মধ্যে সল্টলেকের যুবভারতী ময়দানে শুরু হবে যুব বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা,তার প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে,শুধু মাঠ নয় গোটা বেলেঘাটা ও বিধাননগরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলকাতা ও বিধাননগর পুরসভা।বিদেশিদের কাছে ঝা চকচকে রাস্তা ও পরিবেশ তুলে ধরতে গোটা বেলেঘাটা ও বিধাননগর জুড়ে নির্বিচারে হকার ও বস্তি উচ্ছেদ করা হচ্ছে গত কয়েক মাস ধরে।রাস্তার পাশের ঝুপরি ও দোকান ভেঙে দেওয়া হচ্ছে শাসক দল ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে।বেলেঘাটার বেশ কিছু হকার তাদের রুজি রোজকার হারিয়েছে,একই চিত্র বিধাননগরেও।কাজ করে খাাওয়া মানুষের রোজগার কেড়ে নিয়ে শহরকে সুন্দর করে সাজানোর প্রয়াস করছে মা মাটি মানুষের নামে শপথ নিয়ে ক্ষমতা দখল করা শাসক দল।কাজ ও ঘর হারানো গরীব মানুষ প্রতিবাদ করায় তাদের উপর শাসক দলের কাউন্সিলার ও স্থানীয় নেতারা চড়াও হচ্ছেন এমন অভিযোগও বেলেঘাটা ও বিধাননগর এলাকার একাধিক মানুষ করেছেন।রাজ্যের মানবাধিকার সংগঠন,বিভিন্ন সমাজকর্মী সংগঠন,ও হকার সংগ্রাম কমিটি প্রশাসনকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আবেদন জানালেও প্রশাসন গুরুত্ব দেয় নি বলে অভিযোগ।শেষ পর্যন্ত হকার সংগ্রাম কমিটি সোমবার এই নির্বিচার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বিধাননগরে এক প্রতিবাদ সভা করে।সেখানে মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।হকার সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সুপ্রিম কোর্ট মানুষের কাজ ও বাসস্থানের অধিকারকে যেখানে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দিয়েছে সেখানে এরকম নির্বিচার উচ্ছেদ দেশের সংবিধানের প্রতি অবমাননার সামিল।প্রতিবাদী বক্তাদের কথায় তৃণমূল সরকারের দ্বিচারী চরিত্রও তুলে ধরা হয়।সভা থেকে সরকারকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য আবারও আবেদন রাখা হয়,একই সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বিচার উচ্ছেদ চলতে থাকলে সর্বাত্মক আল্দোলনের হুশিয়ারিও দেওয়া হয়।সভায় হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ,মুরাদ হুসেন,ছাড়াও মানবাধিকার আন্দোলনের কর্মী রঞ্জিত শূর বক্তব্য রাখেন।সভায় উচ্ছেদ হওয়া ও উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।কাজ হারা মানুষজন প্রকাশ্যে সরকার ও শাসক দলের বিরুদ্ধে তাদের ঘৃণা ও ধিক্কার প্রকাশ করতে থাকে,তাদের শান্ত করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় সভার উদ্যোক্তাদের।

,