জঙ্গলমহলে গিয়েও ছত্রধরদের কথা মনে পড়ে না,মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর?

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েকদিন ধরে জঙ্গলমোহল সফর করছেন,সেখানে সংগঠন আর শক্তিশালী করতে কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রশাসনিক বৈঠকে সেখানকার পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন। তবে আমাদের বড় জানতে ইচ্ছে করে এই জঙ্গলমহলে এসে মুখ্যমন্ত্রীর কী একবারের জন্যও ছত্রধরের মুখটা মনে পড়ে,কিংবা সুখসান্তি বাস্কে,শম্ভু সোরেন,অথবা সাগুন মুর্মুর মুখ? এই মুখগুলোই তো একদিন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিল,তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল,জঙ্গলমোহলের বিদ্রোহী চেতনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবে।স্মৃতিকে একটু ঝাঁকুনি দিলেই মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী আপনি মনে করতে পারবেন,সে সময় জঙ্গলমোহলে ক্ষমতা দখল করতে এঁরাই ছিল আপনার ‘কাছের লোক’  ,সে সময় ছত্রধর মাহাতোর সঙ্গে একসঙ্গে মিটিং করেছেন আপনি। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর দারিদ্রে পীড়িত জঙ্গলমোহলের সহজ সরল মানুষগুলো সেদিন আপনাকে বড় বিশ্বাস করেছিল,ভরসা করেছিল। হয়তো ভেবেছিল ক্ষমতার চেয়ারে আপনি বসলে ওদের দীর্ঘ বঞ্চনার ক্ষতে প্রলেপ পড়বে,ওদের ভূমিপুত্র ছত্রধরকে যে ভাবে ছদ্মবেশে বাম সরকারের পুলিশ গ্রেপ্তার করে জেলে পুরেছিল আপনি সেখান থেকে ওকে মুক্ত করে আনবেন।

আপনি ক্ষমতার চেয়ারে বসলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,কিন্তু জঙ্গলমোহল দেখলো,তাদের সম্মান,তাদের মর্য়াদা নিয়ে আপনি আদৌ ভাবিত নয়,আপনার কাছে ভোটের হিসেবটাই প্রথমকথা ও শেষকথা,তাই ছত্রধররা আজও গারদের অন্দরে,সমস্ত রাজনৈতিক বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তির প্রতিশ্রুতির কথা আপনি ভুলে গেছেন। আমরা জানি মুখ্যমন্ত্রী আপনি চিতামনি মুর্মুকেও আর মনে রাখেন নি,সেই চিতামনি,যাকে চোখ হারাতে হয়েছিল বাম আমলের পুলিশের অত্যাচারে। বিরোধীনেত্রী থাকাকালীন আপনি তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন,পুলিশকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি তুলেছিলেন সেদিন,ক্ষমতার চেয়ারে বসেই সেদিনের অত্যাচারি পুলিশ আপনার পুলিশ হয়ে উঠেছে,আপনি তাদের বুক দিয়ে আগলাচ্ছেন। আর ছত্রধর মাহাতো,সুখসান্তি বাস্কে,সাগুন মুর্মুদের জীবনের মুল্যবান সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে জেলখানার অন্দরে। বন্দি জঙ্গলমোহলের এইসব ভূমিপুত্রদের পরিবার গুলোতে কতটা কান্না,কতটা হাহাকার দিনে দিনে জমা হচ্ছে তার হিসেব হয়তো আপনাদের মতো ক্ষমতার অভিমুখ ধরে চলা রাজনীতিকরা কোনদিনই রাখবেন না,কিন্তু কে বলতে পারে একদিন এঁদের কান্নাই বিদ্রোহের আগুন হয়ে গোটা জঙ্গলমোহলে ছড়িয়ে পড়বে না?সেই আগুন কিন্তু গোটা ব্যবস্থাপনার কাছেই ভীতিপ্রদ হয়ে উঠবে,আর তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনাদের মতো ক্ষমতা পিপাসু রাজনীতিকরাই,মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এটা মাথায় রাখবেন।আমাদের অনেকেরই এখনও মনে আছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য,প্রকাশ্য জনসভায় ছত্রধর মাহাতো সম্পর্কে বলেছিলেন,জঙ্গলমোহলে গন্ডোগোল করার জন্য ওটাকে ধরা হয়েছে ওটাকে আমি ছাড়বো না,তখন সিপিএমের ক্ষমতার রাশ আলগা হওয়ার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল,অনেকেই বু্দ্ধদেববাবুর অহঙ্কারকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন মমতা ক্ষমতায় এসেই ছত্রধরকে ছেড়ে দেবেন,তাঁরা বোঝেননি ক্ষমতার ভাষা একইরকম হয়,পতাকার রঙ যাই হোক ক্ষমতা একই পথ ধরে চলে,তাই তো আগের মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা পালন করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীও ছত্রধর নামক ওটাকে এখনও জেল থেকে না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অটল আছেন।প্রসঙ্গত একটা ছড়ার কথা খুব মনে পড়ছে যে খানে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী,প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বলছেন,

–তোমার পুলিশ ছিল ট্রিগার হ্যাপি,আমার পুলিশও নয় মিষ্টি

তোমার ছিল কটমটে চোখ,আমারও নেই শুভ দৃষ্টি।

সিংহাসনের দেওয়ালে পিঠ যেই না গেছে ঠেকতে

বলছে সবাই আমায় নাকি তোমার মতোই দেথতে।

ক্ষমতার চেয়ারের মহিমা অপার,সেই চেয়ারে বসলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই রকম দেখতে হয়ে যায়।